সম্পাদকের পাতা

নতুন বছরে বাংলা সাংবাদিকতার এক নতুন অধ্যায়

নজরুল মিন্টো

বিশ্বে বাংলাভাষার সংবাদমাধ্যমের ধারায় এই প্রথম কোনো পত্রিকা বহুভাষিক রূপে পাঠকের সামনে হাজির হলো।

নতুন বছরের প্রাক্কালে পাঠকদের সঙ্গে একটি আনন্দের সংবাদ ভাগ করে নিতে চাই। আপনাদের প্রিয় পত্রিকা ‘দেশে বিদেশে’ এখন আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় পত্রিকাটি এখন ইংরেজি, ফরাসি, স্প্যানিশ, আরবি, হিন্দি, উর্দু সহ বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় পড়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ফলে যেকোনো ভাষাভাষীর পাঠক এখন নিজের ভাষায় ‘দেশে বিদেশে’-তে প্রকাশিত সংবাদ ও ফিচার পড়তে পারবেন, সেগুলো শেয়ার করতে পারবেন এবং মতামতও প্রকাশ করতে পারবেন।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে একটি নতুন ইতিহাসের সূচনা হলো। বিশ্বে বাংলাভাষার সংবাদমাধ্যমের ধারায় এই প্রথম কোনো পত্রিকা বহুভাষিক রূপে পাঠকের সামনে হাজির হলো। এটি কেবল প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, বরং বাংলা সাংবাদিকতার পরিসরকে বিশ্বমুখী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

আমরা বরাবরই অগ্রসর পাঠকের কথা চিন্তা করে পথ চলেছি। আগামী দিনের পাঠক, নতুন প্রজন্ম এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বহুভাষিক ডায়াস্পোরার বাস্তবতাকে সামনে রেখেই আমাদের এই অগ্রযাত্রা। সময়ের সঙ্গে বদলাতে বদলাতে সামনে এগিয়ে চলাই আমাদের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার।

প্রযুক্তির দ্রুতগতির ভিড়ে অনেক কিছুই আজ স্মৃতিতে পরিণত হচ্ছে। কাগজের স্পর্শ, ছাপার শব্দ কিংবা পত্রিকা উল্টে দেখার সেই চেনা আনন্দ। তবু কিছু নাম রূপ বদলালেও চেতনায় অমলিন থাকে। ‘দেশে বিদেশে’ তেমনই একটি নাম।

১৯৯১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ‘দেশে বিদেশে’ পত্রিকার যাত্রা শুরু হয়েছিল। সময়ের স্রোতে বহু বছর পেরিয়ে গেছে। আজ ফিরে তাকালে মনে হয়, এই তো সেদিন শুরু হয়েছিল পথচলা। কে শুরু করেছিলেন কিংবা কী উদ্দেশ্যে শুরু হয়েছিল, তার চেয়েও বড় সত্য হলো এই পত্রিকা আজও সক্রিয়, প্রাসঙ্গিক এবং পাঠকের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। শুধু টিকে থাকাই নয়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর শেকড় আরও গভীর ও বিস্তৃত হয়েছে।

১৯৯৮ সালে, গুগলেরও আগে, ‘দেশে বিদেশে’ ইন্টারনেটে যুক্ত হয়। স্ক্রিনশটটি প্রথম ওয়েবসাইটের কাভার পেজ-এর।

দক্ষিণ এশীয় সংবাদপত্রগুলোর মধ্যে একমাত্র ‘দেশে বিদেশে’ কানাডার মূলধারার নিউজস্ট্যান্ডে স্থান করে নেওয়ার গৌরব অর্জন করে। ১৯৯৮ সালে, গুগলেরও আগে, ‘দেশে বিদেশে’ ইন্টারনেটে যুক্ত হয় এবং সেখান থেকেই শুরু হয় এর ডিজিটাল পরিসরের নতুন অধ্যায়।

আমাদের মূল দর্শন খুবই স্পষ্ট।‘এখন আর আপনাকে খবর খুঁজতে হবে না, খবর এসে আপনার দরজায় কড়া নাড়বে।’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখেই ফেসবুক, এক্স, পিন্টারেস্ট, লিঙ্কডইন ও হোয়াটসঅ্যাপসহ প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রয়েছে আমাদের সক্রিয় উপস্থিতি। ইতিমধ্যে ‘দেশে বিদেশে’-র ফেসবুক অনুসারীর সংখ্যা ২২ লক্ষ ছাড়িয়েছে এবং এই সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

দক্ষিণ এশীয় সংবাদপত্রগুলোর মধ্যে একমাত্র ‘দেশে বিদেশে’ কানাডার কানাডার মূলধারার নিউজস্ট্যান্ডে স্থান করে নেওয়ার গৌরব অর্জন করে। ছবিটি সাবওয়ে স্টেশনের একটি নিউজস্ট্যান্ড-এর।

পাঠকের মনে থাকতে পারে, উত্তর আমেরিকায় জন্ম নেওয়া ও বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে কয়েক বছর আগে আমরা ইংরেজিতে আট পৃষ্ঠার বিশেষ বিভাগ ‘নিউ জেনারেশন’ চালু করেছিলাম। আজ প্রযুক্তির কল্যাণে সেই ভাবনাই আরও বিস্তৃত রূপ পেয়েছে। এখন সারা বিশ্বের বাংলাদেশি বংশদ্ভুতেরা, তিনি যে দেশেই থাকুন, যে ভাষাতেই কথা বলুন, নিজের ভাষায় ‘দেশে বিদেশে’ পড়তে পারবেন এবং এই গণমাধ্যমের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকতে পারবেন।

একটি সংবাদপত্র কেবল খবর প্রকাশ করে না। এটি সময়কে ধারণ করে, সংস্কৃতিকে বহন করে এবং সমাজের স্মৃতিভাণ্ডার হয়ে ওঠে। বিগত ৩৫ বছর ধরে ‘দেশে বিদেশে’ সেই দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করে আসছে। আজ ‘দেশে বিদেশে’ বিশ্ব বাঙালির একটি বহুমুখী আন্তঃসংযোগকারী গণমাধ্যম এবং একই সঙ্গে বিশ্ব বাঙালির একটি নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল ঠিকানা।

নতুন বছরের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে, এই অগ্রযাত্রার আনন্দ আমরা আপনাদের সঙ্গেই ভাগ করে নিতে চাই।


Back to top button
🌐 Read in Your Language