ঘরে ঘুমিয়ে থাকা নারীর গলাকাটা লাশ মিলল জমিনে

সিরাজগঞ্জ, ২৫ ডিসেম্বর – সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের বৃ-আঙ্গারু গ্রামের জমি থেকে পুলিশ শুক্রবার সকালে নারজু খাতুন (৩৫) নামে এক নারীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে। নিহত নারজু খাতুন ওই গ্রামের ইসমাইল সরদারের মেয়ে। এ বিষয়ে নিহতর ভাবি আছিয়া খাতুন ও বোন সূর্য্য খাতুন জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে নারজু তার নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে। গভDর রাতে তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় তুলে নিয়ে গিয়ে গলাকেটে হত্যার পর লাশে বাড়ির পাশের জমির মধ্যে ফেলে দূর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। ফজরের নামাজ শেষে মুসল্লিরা বাড়ি ফেরার সময় লাশটি ওই স্থানে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করেন। তাদের চিৎকারে ঘুম থেকে উঠে দেখি নাজুর গলাকাটা লাশ পড়ে আছে। পরে পুলিশে খবর দিলে তারা এসে লাশ নিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে নিহতর বাবা ইসমাইল সরদারের দাবি, তাদের প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে তার মেয়েকে ঘুমন্ত অবস্থায় তুলে নিয়ে গলাকেটে হত্যার পর লাশ ওই স্থানে ফেলে পালিয়েছে।
আরও পড়ুন : মারা যাওয়ার পর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের স্ট্যাটাস নিয়ে তোলপাড়
এ বিষয়ে ওই গ্রামের সোলায়মান প্রামাণিক জানান, ২০১৯ সালের ২৪ নভেম্বর রবিবার সকালে জলাশয় থেকে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে তার গ্রুপের সঙ্গে আতাহার সরদার গ্রুপের বিরোধ হয়। এ নিয়ে শালিশ-বৈঠক চলাকালে দু’পক্ষে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলা সংঘর্ষে তার ছেলে ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল প্রামাণিক (৩০) প্রতিপক্ষের লোকজনের হাতে ফালাবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়।
তিনি জানান, শুক্রবার নিহত নারজু খাতুনের ভাই আতাহার সরদার ও তার ছেলে সবুজসহ তাদের গোষ্ঠীর ছয়জন আউয়াল হত্যা মামলার আসামি। তাদের নামে অচীরেই আউয়াল হত্যা মামলার চার্জ গঠন হতে যাচ্ছে। তাই ওই মামলা থেকে বাঁচতে নিজেরাই নাজুকে হত্যা করে আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়ার পাঁয়তারা করছে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি শাহিদ মাহমুদ খান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে কেউ মামলা করতে আসে নাই। এলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ দিকে এ হত্যার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র: বিডি২৪লাইভ
এন এ/ ২৫ ডিসেম্বর









