সিরাজগঞ্জ

বাড়ছে যমুনার পানি, অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন

সিরাজগঞ্জ, ২২ জুন – দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে তলিয়ে যাচ্ছে নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও ফসলি জমি। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। এর মধ্যে শাহজাদপুর উপজেলা কৈজুড়ী ইউনিয়নে বিলীন হয়ে গেছে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি।

এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে অভ্যন্তরীণ, হুড়াসাগর, করতোয়া, ফুলজোড় ও বড়াল নদীতে পানি বাড়ছে। তবে নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিনে শাহজাদপুর উপজেলা কৈজুড়ী ইউনিয়নের হাটপাচিল এলাকায় নদী ভাঙনে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি, ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বলে এলাকাবাসী দাবি করেছেন। এছাড়া ভাঙনের মুখে রয়েছে আরও শতাধিক ঘরবাড়ি, বসতভিটা, ফসলি জমি। যমুনা গর্ভে সহায় সম্বল হারিয়ে অনেকে খোলা আকাশের নিচে অন্যের জমিতে বসবাস করছেন। এছাড়া ভাঙনের মুখে থাকা বাড়ি ঘরের আসবাপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন এলাকাবাসী।

এদিকে, সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক হাসানুজ্জামান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্ট এলাকায় ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেলেও বিপৎসীমার ১ দশমিক ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এছাড়া যমুনা নদীর পানি আরও দু-তিন দিন বাড়তে পারে বলে জানিয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রনজিত কুমার সরকার জানান, যমুনার পানি আরও দুই থেকে তিনদিন বাড়তে পারে। তারপরে পানি কয়েকদিন কমবে এবং তারপরে আবারও বাড়বে। এবার যে ভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে বিপৎসীমার কাছাকাছি চলে গেলেও অতিক্রম করার সম্ভাবনা নেই।

নদী ভাঙনের বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন বলেন, সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে ভাঙনরোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, যমুনা নদীতে পানি বাড়ছে। এতে কিছু এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে এনায়েতপুর খাঁজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে শুরু করে শাহজাদপুর উপজেলার পাচিল পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এ জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এছাড়া চৌহালীতে ভাঙন রোধে জিওব্যাগ ডাম্পিং করার কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
আইএ/ ২২ জুন ২০২৩


Back to top button
🌐 Read in Your Language