পালিয়েছেন কাউন্সিলর আফতাব ও অস্ত্রধারী রিপন

সিলেট, ১২ জুন – সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্সিলর প্রার্থীর বাসার সামনে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি বর্তমান কাউন্সিলর ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফতাব হোসেন খান এবং তার অনুসারী অস্ত্রধারী মো. আবুল কালাম আজাদ ওরফে তুহিন এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। দুই দিন ধরে কাউন্সিলর আফতাবকেও এলাকায়ও দেখা যাচ্ছে না।
অস্ত্র নিয়ে মহড়ার ঘটনায় শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে বিমানবন্দর থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি হয়। মামলায় আফতাব হোসেন খান ও তুহিন ছাড়াও অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গত শনিবার ভোরে নগরীর বনকলাপাড়া এলাকার আতিকুর রহমান (৪২), জুবের আহমদ (৩৮) এবং হাজীপাড়া এলাকার নুরুজ্জামানকে (৩৪) গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার জুবের আহমদ ও নুরুজ্জামান মহড়ায় ছিলেন, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে সেটি নিশ্চিত হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে অস্ত্র হাতে মোটরসাইকেলে বসা ছিলেন আবুল কালাম আজাদ তুহিন।
পুলিশ ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সায়ীদ মো. আবদুল্লাহ গত শুক্রবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেন, গত মঙ্গলবার সকালে বর্তমান কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খানের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২টি মোটরসাইকেলে ২০ থেকে ২৫ জন অস্ত্রধারী তার বাসার সামনে আসেন। বন্দুক তাক করে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেন। পাশাপাশি ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
শনিবার সিলেটে মতবিনিময়কালে সিইসির কাছে ওই অস্ত্র মহড়া ও আফতাবের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। এসময় তিনি বলেন, ঢাকায় গিয়ে কমিশনে বসে তার প্রার্থীতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, তুহিন কাউন্সিলর আফতাবের অস্ত্রধারী ক্যাডার হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তার বিরুদ্ধে জায়গা দখল, বাসা-বাড়ি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ছিনতাইসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগে থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে। র্যাব-পুলিশের হাতে কয়েকবার তিনি গ্রেপ্তারও হয়েছেন। সর্বশেষ ওয়াকিটকি ও বন্দুকসহ ছাত্রলীগ নেতা তুহিনকে গ্রেপ্তার করেছিলো র্যাব।
এদিকে অস্ত্র নিয়ে মহড়ার পর তুহিন এলাকায় অবস্থান করলেও বর্তমানে সে আত্মগোপনে। মহড়ার ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হলে নেতাদের পরামর্শে গ্রেপ্তার এড়াতে শুক্রবার সে আত্মগোপনে চলে যায়। তবে পুলিশ বলছে তাকে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধার করতে অভিযান চলছে। এজন্য একাধিক টিম মাঠে রয়েছে। এছাড়া মামলার প্রধান আসামি কাউন্সিলর আফতাবও এলাকায় নেই। সূত্র জানিয়েছে তিনি ঢাকায় অবস্থান নিয়ে উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) সুদীপ দাস বলেন, অস্ত্র নিয়ে মহড়ার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে একাধিক টিম মাঠে রয়েছে। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারে জোর অভিযান চালাচ্ছে।
এ্যবাপারে বক্তব্য নিতে কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খান এর সাথে যোগাযোগ এর চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
আগামী ২১ জুন সিলেট সিটিতে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এতে ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে আফতাব ঘুড়ি প্রতীক, সায়ীদ মো. আবদুল্লাহ লাটিম প্রতীক ও মো. জাহিদ খান সায়েক ঠেলাগাড়ি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সূত্র: রাইজিংবিডি
আইএ/ ১২ জুন ২০২৩









