কেন এভাবে দূরে উড়ে বেড়ায় পরিযায়ী পাখির দল?
বছরে দুটি দিন, মে মাসের দ্বিতীয় শনিবার এবং অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শনিবার– এই দুটি দিনকে বিশ্ব পরিযায়ী দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এই দুটি দিন পরিযায়ী পাখিদের সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আজও পরিযায়ী পাখিরা নিরাপদ নয়। নানা ভাবে মানুষ তাদের ক্ষতি করে। তাই এই সব দিনগুলি মানুষদের সচেতন করার একটা লক্ষ্য নির্দিষ্ট করে নিয়েছে।
পাখিদের ঘিরে যে ইকো সিস্টেম, তা ক্ষুণ্ণ না করাই হল এদিনের প্রকৃত লক্ষ্য। প্রকৃতিতে পরিযায়ী পাখিদের প্রভূত প্রভাব। তারা দীর্ঘ একটা অঞ্চল জুড়ে ইকোলজিক্যাল হারমনি তৈরি করে। যা জীববৈচিত্র্য বা বায়োডাইভারসিটি রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পরিযায়ী বা অতিথি পাখি কাকে বলে?
‘পরিযায়ী পাখী’- এই শব্দদুটির মধ্যে আছে অনেক কথা। কাকে বলে পরিযায়ী পাখি? বিজ্ঞানের ভাষায় নির্দিষ্ট প্রজাতির কিছু পাখি প্রতি বছর বা কয়েক বছর পরপর একটি নির্দিষ্ট সময় বা ঋতুতে অন্তত দুটো অঞ্চলের মধ্যে আসা-যাওয়াকে পাখি পরিযান বলে। এখান থেকেই ‘পরিযায়ী পাখী’। পৃথিবীর প্রায় ১০ হাজার প্রজাতির পাখির মধ্যে ১৮৫৫ প্রজাতিই (প্রায় ১৯%) পরিযায়ী।
এদের মধ্যে আবার রকমফের আছে। দূরত্বের বিচারে পরিযানকে তিন ভাগে ভাগ করা হয় : স্বল্পদৈর্ঘ্য পরিযান, মধ্যদৈর্ঘ্য পরিযান ও দীর্ঘদৈর্ঘ্য পরিযান।
প্রথমোক্ত প্রজাতির পরিযায়ী পাখিগুলো প্রধানত স্থায়ী। তবে খাদ্যাভাব দেখা দিলে এরা তাদের স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্রের আশেপাশে অন্য অঞ্চলে গমন করে। চাতক, পাপিয়া, খয়েরিডানা পাপিয়া স্বল্প দৈর্ঘ্যরে পরিযায়ী পাখি।
দ্বিতীয় প্রজাতির পাখির পরিযান প্রথমোক্ত প্রকারের তুলনায় অনেক দীর্ঘ এবং এরা মাঝে মাঝেই পরিযান ঘটায়।
আর তৃতীয় প্রকারের পাখির পরিযান ঘটে বিপুল বিস্তৃত এলাকা জুড়ে। এধরনের পাখি সপ্তাহকাল বা সপ্তাহের পর সপ্তাহ পরিযান করে। এ সময় এরা পাড়ি দেয় হাজার হাজার মাইল। নীলশির, লালশির, ক্ষুদে গাংচিল প্রভৃতি দীর্ঘদৈর্ঘ্যরে পরিযায়ী পাখি।
পাখির এই পরিযান এক বিস্ময়কর ব্যাপার। হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে এরা সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এক্ষেত্রে পাখিরা উপকূল রেখা, পাহাড় শ্রেণি, চাঁদ-তারা, নদী-সূর্য ইত্যাদির মাধ্যমে পথ খুঁজে নেয়। এমনও দেখা গেছে, জীবনে প্রথমবার গ্রীষ্ম ম-লীয় এলাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলেও তারা ঠিক ঠিক গন্তব্যে পৌঁছে গেছে।
অতিথি পাখি কেন আসে?
পাখি পরিযানের অন্যতম দুটি কারণ হচ্ছে, খাদ্যের সহজলভ্যতা ও বংশবৃদ্ধি।
উত্তর গোলার্ধের অধিকাংশ পাখি বসন্তকালে উত্তরে আসে প্রচুর পোকামাকড় আর নতুন জন্ম নেয়া উদ্ভিদ ও উদ্ভিদাংশ খাওয়ার জন্য। এসময় এরা ঘর বাঁধে ও বংশবৃদ্ধি ঘটায়। শীতকালে বরফ জমার কারণে বা অন্য কোনো সময় খাবারের অভাব দেখা দিলে এরা দক্ষিণে রওয়ানা হয়। আবহাওয়াকেও পরিযানের আরেকটি কারণ ধরা হয়। শীতের প্রকোপে অনেক পাখিই পরিযায়ী হয়।
অতিথি পাখি কখন ফিরে যায়?
বসন্তের সময় মানে মার্চ-এপ্রিলের দিকে শীতপ্রধান অঞ্চলগুলোতে বরফ গলতে শুরু করে। কিছু কিছু গাছপালা জন্মাতে শুরু করে। ঠিক এইরকম সময়ে অতিথি পাখিরা নিজ বাড়িতে ফিরে যায়। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ফিরে গিয়ে তারা নিজ বাড়িটিই চিনে নেয়।
পাখিগুলি এতটা পথ কিভাবে চেনে?
সমুদ্রের নাবিক যেমন কম্পাস ব্যবহার করে, এই পাখিদের দেহে সেরকম বা তার চেয়েও উন্নত কিছু সৃষ্টিগতভাবেই আছে।
পাখির এই পরিযান এক বিস্ময়কর ব্যাপার। হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে এরা সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এক্ষেত্রে পাখিরা উপকূল রেখা, পাহাড় শ্রেণি, চাঁদ-তারা, নদী-সূর্য ইত্যাদির মাধ্যমে পথ খুঁজে নেয়। এমনও দেখা গেছে, জীবনে প্রথমবার গ্রীষ্ম ম-লীয় এলাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলেও তারা ঠিক ঠিক গন্তব্যে পৌঁছে গেছে।
আইএ/ ০৯ অক্টোবর ২০২২









