পিরোজপুর, ৫ অক্টোবর – পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার দুই ইউনিয়ন, বেতমোড় ও আমড়াগাছিয়া। এর মধ্যে আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের সাংরাইল খালের ওপর সংযোগ সেতুটি কয়েক যুগ ধরে বেহাল অবস্থায়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু দিয়ে ৪০ গ্রামের মানুষ যাতায়াত করছেন। গত ৩০ বছর ধরে এলাকাবাসী এখানে একটি পাকা সেতুর স্বপ্ন দেখলেও নজরে নেই কর্তৃপক্ষের।
বাধ্য হয়ে ভাঙা সেতুর ওপর সুপারিগাছ ফেলে ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হচ্ছে গ্রামবাসী। এ সেতু পার হতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছে অনেকেই।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চলাচলের অযোগ্য এ ভাঙা সেতু দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে এলাকাবাসী। এ সেতুর ওপর দুই ইউনিয়নের ৪০ গ্রামের মানুষ, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা মিলে পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দুটি হাসপাতাল, দুই ইউনিয়ন বাজারমুখী মানুষের নিত্য আসা-যাওয়া নির্ভরশীল। ৩০ বছর ধরে সেতুটির বেহাল দশা হলেও একটি পাকা সেতু নির্মাণ না হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সেতু সংশ্লিষ্ট দুই ইউনিয়ন পরিষদের কয়েক দফা আশ্বাসেও মিলছে না প্রতিকার।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা জানান, চড়কখালী ও আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের গোলবুনিয়া গ্রামের সংযোগ সাংগ্রাইল খালের ওপর ৩০ বছর আগে নির্মিত হয় একটি লোহার কাঠামোর স্লিপার সেতু। পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরে সেতুর আশপাশের গাছপালা ভেঙে সেতুর ওপর পড়লে ব্যাপক ক্ষতি হয়। এরপর আস্তে আস্তে সেতুর সিমেন্টের পাটাগুলো ভেঙে খালে পড়ে যায়। অপরদিকে লোহার ভিম মরিচা ধরে কাঠামো নড়বড়ে হয়ে সেতুটি মারণফাঁদে পরিণত হয়।
স্থানীয় একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীসহ সেতু দিয়ে প্রতিদিন জানখালী উলুবাড়িয়া হামিদিয়া দাখিল মাদরাসা, জানখালী সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৭৮ নম্বর জানখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জানখালী হাওলাদারবাড়ি দারুল আকরাম নূরানী মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ দুই ইউনিয়নের চড়কখালী, ঘোপখালী, জানখালী, উলুবাড়িয়া, নিজানিয়া এবং কালিকাবাড়ি, হোগলপাতি ও গোলবুনিয়া লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের একমাত্র এ সেতুটি।
স্থানীয়দের যাতায়তের বিকল্প কোনো সেতু না থাকায় প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। স্থানীয়রা নতুন সেতুর জন্য এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো সাড়া মিলছে না।
স্থানীয় জানখালী সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সৈয়দ হারুন অর রশীদ বলেন, সেতুটি দুই ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী হওয়ায় এর গুরুত্ব অনেক। সীমান্তবর্তী বেতমোড়, আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের লোকজন ছাড়াও বড়মাছুয়া ও সাপলেজা ইউনিয়নের মানুষসহ এ সেতু দিয়ে অন্তত ৪০ গ্রামের মানুষ চলাচল করে। কয়েক দিন আগে সেতু থেকে পড়ে এক শিশু শিক্ষার্থীর হাত ভেঙে গেছে। বেহাল সেতুটি কাঠামোসহ যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। এখানে পাকা সেতু নির্মাণ খুবই জরুরি।
সৌদিপ্রবাসী তরুণ সোহেল হাওলাদার জানান, সুপারিগাছ দিয়ে তৈরি সেতু পার হতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। কৃষক জাহাঙ্গীর খান জানান, সম্প্রতি সেতু থেকে পড়ে শাহ আলম নামের এক দিনমজুর গুরুতর আহত হন।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী কাজী আবু সাঈদ মো. জসিম জানান, অকেজো সেতুগুলো পুনর্নির্মাণের প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলে পর্যায়ক্রমে সেতু নির্মাণ করা হবে।
সূত্র: কালের কন্ঠ
আইএ/ ৫ অক্টোবর ২০২২









