ইউরোপ

জার্মানিতে প্রথম শিশুর মাঙ্কিপক্স

বার্লিন, ১২ আগস্ট – জার্মানিতে প্রথম কোনো শিশু মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত হয়েছে। এর আগে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এই রোগ দেখা যেত। জার্মানির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথমবার এ দেশের কোনো শিশু মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত হয়েছে। সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

জার্মানির স্বাস্থ্য বিষয়ক এক সংস্থার বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, জার্মানির দক্ষিণ-পশ্চিমের রাজ্য বাডেন-ভুর্টেমবার্গের একটি শহর ফোরৎঝাইমে দুই জন সংক্রমিত প্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে একই পরিবারের চার বছর বয়সি শিশুকন্যাও মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত।

শিশুটির ঘনিষ্ঠ একজন এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর শিশুটিরও পরীক্ষা করা হয়েছিল। তখন জানা যায় শিশুটিও আক্রান্ত। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছে, বাড়ির বাইরে কারও সংস্পর্শে আসেনি শিশুটি এবং তার দেহে কোনো উপসর্গও নেই।

ভাইরাসটি শিশুদের ক্ষেত্রে কী প্রভাব ফেলতে পারে তা নিয়ে খুব একটা বেশি কিছু জানা যায়নি। ২০০৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মাঙ্কিপক্সের প্রাদুর্ভাবের সময় (যা কর্মকর্তারা মনে করেন প্রেইরি কুকুরের সঙ্গে মানুষের সংস্পর্শের কারণে হতে পারে) ২৮ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছিল এবং মাত্র দুইজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। সেই দুইজনই ছিল শিশু। যদিও পরে তারা সুস্থ হয়ে ওঠে।

শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ধরণ দেখে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ বলেছে, আক্রান্তদের দেখে মনে হচ্ছে, মাঙ্কিপক্স প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের জন্য বেশি ক্ষতিকর। এ রোগ সম্পর্কে এখনো বিশেষ তথ্য নেই।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস এবং স্পেনে শিশুদের দেহে মাঙ্কিপক্সের জীবাণু মিলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সবমিলিয়ে সারা বিশ্বে চার বছর এবং তার চেয়ে কম বয়সি শিশুদের মধ্যে ২৫ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে।

পরবর্তী ধাপে অর্থাৎ পাঁচ থেকে ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত মাঙ্কিপক্সে আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। বিশ্বে প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ জন আক্রান্তের মধ্যে মাত্র ৯৮ জন রোগীর বয়স জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত ৩১ হাজার ৮০০ জন।

শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগ সংক্রান্ত তথ্য আফ্রিকার বাইরে বিরল। আফ্রিকার অন্তত আটটি দেশে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে শিশুরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ২০০১ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে সেন্ট্রাল আফ্রিকার দেশগুলিতে মাঙ্কিপক্সে মৃত্যুর হার প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের মধ্যে বেশি ছিল।

যুক্তরাজ্যের নরউইচ মেডিকেল স্কুলের অধ্যাপক পল হান্টারের মতে, ৫ দশমিক ২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্কের মৃত্যু হয়েছিল, যেখানে শিশু মৃত্যুর হার ৯ দশমিক ৬ শতাংশ।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা একটি ডে কেয়ারে মাঙ্কিপক্সের সম্ভাব্য সংক্রমণের কথা জানিয়েছেন। আগস্টের শুরুতে একজন শিক্ষকের দেহে রোগের জীবাণু মিলেছিল। প্রতিবেদনটি লেখার সময় পর্যন্ত শিশুদের মধ্যে কেউই ভাইরাসে আক্রান্ত নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা তাদের জাইনিওস টিকা দেয়ার প্রস্তাব করছেন। এটি একটি সতর্কতা বলা যেতে পারে।

ইমভেনেক্স টিকা নামেও এটি পরিচিত। এটি একমাত্র টিকা যা বিশেষভাবে মাংকিপক্সের চিকিৎসার জন্য অনুমোদিত, যদিও কয়েকটি দেশ গুটিবসন্ত প্রতিরোধের পুরোনো টিকাও ব্যবহার করছে।

চিকিৎসকেরা বলছেন, সকলকেই মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, যেমনটি কোভিড মহামারির সময়ে সবাই মেনে চলেছেন।তবে গবেষণায় মাঙ্কিপক্সের বায়ুবাহিত সংক্রমণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ত্বকের সঙ্গে সংস্পর্শে বা লালার মাধ্যমে এই রোগ ছড়াতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, সাধারণ মাঙ্কিপক্সের লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে জ্বর, ছোট ফোঁড়াজাতীয় ক্ষত। এই ক্ষত সাধারণত প্রাথমিক লক্ষণগুলির এক থেকে তিন দিন পরে দেখা যায়।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এম ইউ/১২ আগস্ট ২০২২


Back to top button
🌐 Read in Your Language