ইউরোপ

জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যে লোডশেডিংয়ের শঙ্কা

লন্ডন, ১০ আগস্ট – যুক্তরাজ্যে আসন্ন শীতে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা পড়ার পাশাপাশি গ্যাস সংকটও থাকতে পারে। আর এই সংকট মোকাবিলায় দেশটিকে শিল্পকারখানা এবং গৃহস্থালি পর্যায়ে কয়েকদিন লোডশেডিং দিতে হতে পারে।

যুক্তরাজ্য সরকারের পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি বিবেচনা’ করে আসন্ন শীতে মোট চাহিদার ছয় ভাগের এক ভাগ বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এমনকি জরুরি প্রয়োজনে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর পরও এই ঘাটতি দেখা দিতে পারে। খবর ব্লুমবার্গের।

তারা আরও বলেছেন, এই পরিস্থিতিতে গড় তাপমাত্রা কমে আসা এবং নরওয়ে ও ফ্রান্স থেকে বিদ্যুৎ আমদানি কমলে জানুয়ারিতে চারদিন ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তখন গ্যাস সংরক্ষণের প্রয়োজনে যুক্তরাজ্যকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।

এদিকে সরকারের ব্যবসা, জ্বালানি এবং শিল্প কৌশল বিভাগ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতি এমন কিছু না, যা তৈরি হোক আমরা চাই। বাসাবাড়ি, ব্যবসা এবং শিল্প-কারখানা নিজেদের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ এবং গ্যাস পাবে এই ব্যাপারে তারা আত্মবিশ্বাস রাখতে পারে।

যুক্তরাজ্যে সাধারণত এমন ঘাটতি দেখা যায় না। তবে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে আগামী মাসে বরিস জনসনের উত্তরসূরি হিসেবে লিজ ট্রাস বা রিশি সুনাক-যেই আসুক না কেন, তার জন্য আসন্ন শীত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে। যেই আসুক বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দিবে এবং জানুয়ারিতে ব্রিটিশদের জন্য গড় বার্ষিক বিদ্যুৎ বিল বেড়ে ৪২০০ পাউন্ডের বেশি হতে পারে। বর্তমানে তাদের ২০০০ পাউন্ডের কিছু কম বিল পরিশোধ করতে হয় এবং এটিই ইতোমধ্যে দেশটির মুদ্রাস্ফীতিকে তরান্বিত করেছে।

যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো এনার্জি প্রাইস ক্যাপের অনুমানে গড় বার্ষিক বিদ্যুৎ বিল ৪ হাজার পাউন্ড ছাড়িয়ে গেছে। শীতে যদি ঠাণ্ডা বেশি পড়ে তাহলে ব্রিটিশদের হয়তো ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আনার উপর আরও বেশি নির্ভর করতে হতে পারে।

যদিও মস্কো সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় ইতোমধ্যে মূল ভূখণ্ডেই গ্যাস সংকট রয়েছে। আর এটাই যুক্তরাজ্যের জন্য বড় সংকটের জায়গা। কারণ দেশটির অভ্যন্তরীণ সংরক্ষণ ক্ষমতা কম থাকায় রেকর্ড পরিমাণ গ্যাস ইউরোপ মহাদেশকে দিয়েছে। তাই সামনের শীতে তাপমাত্রা খুব কমে গেলে দেশটি সেখান থেকে সুবিধা পেতে চাইবে।

এদিকে যক্তরাজ্য বিদ্যুৎ ঘাটতিতে পড়তে যাচ্ছে এমন প্রতিবেদন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর দুই সপ্তাহের মধ্যে ইউরোর বিপরীতে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে পৌঁছেছে পাউন্ড। এ ছাড়া ডলারের বিপরীতে পূর্বের বাড়া ১ দশমিক ২০৮০ ডলারও ইতোমধ্যেই কমে গেছে।

সূত্র: সমকাল
এম ইউ/১০ আগস্ট ২০২২


Back to top button
🌐 Read in Your Language