উত্তর আমেরিকামধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে ফাটল সামনে আনল ইউক্রেন যুদ্ধ

ওয়াশিংটন, ২৫ মার্চ – ইউক্রেনে অভিযান শুরুর পর পশ্চিমাদের কাছে তুমুল সমালোচিত হয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। আর তার ফায়দা পুরোটাই নিজের ঝুলিতে নিতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। পুতিন ও রাশিয়াবিরোধী বৈশ্বিক ঐক্য গড়ার চেষ্টায় দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পুরনো শত্রুদের সঙ্গেও মিত্রতার চেষ্টা করেছেন। তবে বাইডেন যখন সেই চেষ্টা করতে উঠেপড়ে লাগলেন তখন জানা গেল, মধ্যপ্রাচ্যে পুরনো ও বিশ্বস্ত কয়েকটি মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে আর সেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে না। বিশেষ করে অঞ্চলটির সবচেয়ে সমৃদ্ধ দুই দেশ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বাইডেনের প্রস্তাবে কোনো সাড়াই দেয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ আসলে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান গ্রহণযোগ্যতা ও নড়বড়ে অবস্থানকে সামনে নিয়ে এসেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে মিত্রদের আস্থা ও বিশ্বাস ধরে রাখতে সংকটে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আস্থার সংকট প্রকাশ্যে এসেছে গত সপ্তাহে, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের ইউএই সফরের মধ্য দিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র কখনোই চায়নি আসাদ সরকারের সঙ্গে আমিরাত সম্পর্ক স্বাভাবিক করুক। সম্প্রতি এজন্য আমিরাতকে দেশটির পক্ষ থেকে সতর্কও করা হয়। কারণ ইউক্রেন যুদ্ধে বাশার আল-আসাদ পুতিনকে সমর্থন দিয়েছেন। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ঝুঁকিবিষয়ক বিশ্লেষক জিওরজিও কাফিয়োরোর ভাষ্য, বাশার আল-আসাদকে স্বাগত জানানোর মধ্য দিয়ে আমিরাত এটা স্পষ্ট করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিজেদের স্বাতন্ত্র্য প্রকাশে গুরুত্ব দিচ্ছে আরব দেশটি। আমিরাতের মতো একই অবস্থা সৌদি আরবেরও। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়ার বিরুদ্ধে উত্থাপিত নিন্দা প্রস্তাবে সৌদিকেও পাশে পাননি বাইডেন। ভোটাভুটির আগে তিনি ইউএই ও সৌদি আরবের নেতাদের ফোনও দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। এর মধ্যে তেলের জন্য সৌদি যুবরাজের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। অথচ ডলারকে পাশ কাটিয়ে চীনা মুদ্রা ইউয়ানেই চীনকে তেল সরবরাহ করতে রাজি হয়েছে সৌদি।

একের পর এক এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইউএই ও সৌদি আরব সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাইস ইউনিভার্সিটির বেকার ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক ফেলো ক্রিস্টিয়ান কোটস আলরিচসেন। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত বিষয়ে নয়, তারা তাদের স্বার্থরক্ষার বিষয়ে প্রাধান্য দিচ্ছে। আল-জাজিরা বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে নানা বিষয়ে মতের ভিন্নতা থাকার পরও বাইডেন প্রশাসন উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে বন্ধুত্ব জোরদার করতে আগ্রহী। বাইডেন এখন উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে যেকোনো বৈরিতা এড়াতে চাইছেন। কেননা তিনি পুতিন ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে মিত্র দেশগুলোকে এক কাতারে আনতে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তিনি এ ক্ষেত্রে আরব দেশগুলোর বিশেষত সৌদি আরব ও ইউএইর মতো জ¦ালানি তেল উত্তোলনকারী দেশগুলোর সমর্থন চান। তাই এ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র রিয়াদ ও আবুধাবির সঙ্গে মতবিরোধ এড়িয়ে চলবে। ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্ররা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। এর ফলে অন্য দেশগুলোও বুঝতে পারবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বেশি নির্ভর করার যৌক্তিকতা নেই। বিশ্ব এখন বহু মেরুর পথে ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছে। তাই আরব দেশগুলোর সামনে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ ত্যাগের সুযোগ রয়েছে।

সূত্র: দেশ রূপান্তর
এম ইউ/২৫ মার্চ ২০২২


Back to top button
🌐 Read in Your Language