ব্যবসা

শেয়ারবাজার ডাকছে বিদেশি ও প্রবাসীদের

গোলাম মওলা

ঢাকা, ৩১ জুলাই – দেশের অর্থনীতিতে শেয়ারবাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এরই মধ্যে এই বাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। অনাস্থার বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরেছে। এখন বিদেশি ও প্রবাসীদের ডাকছে এই শেয়ারবাজার। বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের চারটি শহরে রোডশো করছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বাংলাদেশ সময় গত সোমবার রাতে নিউইয়র্কের একটি হোটেলে এ রোডশোর উদ্বোধন করা হয়।

বিএসইসি থেকে বলা হয়েছে, বিদেশি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের এ দেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে এ রোডশোর আয়োজন করা হয়েছে। এ দেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, তা প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরাই এ রোডশো আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

এদিকে ঈদের পর প্রথম সপ্তাহ ভালো গেলো না শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য। গেলো সপ্তাহজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমে যাওয়ার কারণে ৭৮১ কোটি টাকা হারিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। অবশ্য ঈদের আগে টানা তিন সপ্তাহ শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকায় বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ করা টাকার পরিমাণ প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা বেড়ে যায়। গত ২১ জুলাই পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হওয়ায় ২০ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ থাকে। টানা পাঁচদিন বন্ধ থাকার পর গত রোববার থেকে দেশের শেয়ারবাজারে আবার লেনদেন শুরু হয়। গত সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন দিন ঊর্ধ্বমুখী থাকে বাজার।

এতে মূল্যসূচকে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়লেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বাজার মূলধনে। গেলো সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসই’র বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা, যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৫ লাখ ৩৫ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ গেলো সপ্তাহে ডিএসই’র বাজার মূলধন কমেছে ৭৮১ কোটি টাকা।

ঈদের আগের তিন সপ্তাহের টানা উত্থানে ডিএসই’র বাজার মূলধন বাড়ে ২০ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা। সেই হিসাবে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা বাড়ার পর বাজার মূলধন ৭৮১ কোটি টাকা কমলো। এতে জুলাই মাসে ডিএসই’র বাজার মূলধন ২০ হাজার ১২২ কোটি টাকা বেড়েছে।

এদিকে, গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসই’র প্রধান মূল্যসূচক ডিএসই-এক্স বেড়েছে ২০ দশমিক ২১ পয়েন্ট। ঈদের আগের তিন সপ্তাহে ডিএসই’র প্রধান মূল্যসূচক বাড়ে ২৫৫ পয়েন্ট। এতে চার সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক বাড়লো ২৭৬ পয়েন্ট।

চার সপ্তাহের এই টানা উত্থানের কারণে ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থাতে পৌঁছে গেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্যসূচক ডিএসই-এক্স। মূল্যসূচকের ভুল গণনা বন্ধ করতে ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি নতুন সূচক ডিএসই-এক্স চালু করে ডিএসই। চার হাজার ৫৫ দশমিক ৯০ পয়েন্ট দিয়ে শুরু হওয়া সূচকটি এখন ছয় হাজার ৪২৫ দশমিক ২৫ পয়েন্ট অবস্থান করছে।

প্রধান মূল্যসূচক রেকর্ড অবস্থানে উঠে আসার পাশাপাশি গেলো সপ্তাহে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকও ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে এসেছে। গেলো সপ্তাহে এই সূচকটি বেড়েছে ৫ দশমিক ৫০ পয়েন্ট। ঈদের আগে তিন সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ১১৩ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট।

অপরদিকে, ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচকও গত সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে। গত সপ্তাহে সূচকটি বেড়েছে ১৩ দশমিক ২৮ পয়েন্ট। ঈদের আগের তিন সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৭৩ পয়েন্ট।

গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৪২৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় এক হাজার ৫২৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ১০৩ কোটি ২ লাখ টাকা। গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৭ হাজার ১২৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ৩ হাজার ৫৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন বেড়েছে ৪ হাজার ৭১ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
এম ইউ/৩১ জুলাই ২০২১

Back to top button