অন্যান্য

লাও-রক্তে মার্কিন স্বর্ণ জয়

টোকিও, ৩০ জুলাই – এবার ভিয়েতনাম যুদ্ধে সাফল্যের দাবি করতেই পারে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল জিমন্যাস্টিকসের অল-অ্যারাউন্ড ইভেন্টে যুক্তরাষ্ট্রকে স্বর্ণ এনে দিয়েছেন এমন একজন, যার আমেরিকান হওয়ার পেছনে আছে ভিয়েতনাম যুদ্ধে সিআইএর সংশ্নিষ্টতা।

গত শতাব্দীর ষাট ও সত্তরের দশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দ্বিতীয় ইন্দোচীন বা ভিয়েতনাম যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ইতিহাসের ব্যর্থ ওই মিশনে লাওসের মং জাতি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর হয়ে কাজ করেছিল। ১৯৭৫ সালে যুদ্ধ শেষ হলে দেশবিরোধী ভূমিকা নেওয়া মংদের লাওস থেকে বিতাড়িত করা হয়, অনেকে থাইল্যান্ডে পালিয়ে যায়। থাইল্যান্ডে শরণার্থী হওয়া ১১ হাজার মংকে ১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর ধীরে ধীরে প্রায় সব শরণার্থীই যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেন।

এক দশক আগের শুমারি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে মং-আমেরিকানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৬০ হাজারে। সেই মং-আমেরিকান বাবা-মায়ের সন্তান সুনিসা লি। ১৮ বছর বয়সী এই অ্যাথলেটের হাত ধরে গতকাল জিমন্যাস্টিকসে স্বর্ণ জয় করে যুক্তরাষ্ট্র।

অলিম্পিক ও ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে রেকর্ড ৩০টি পদকজয়ী সিমোন বাইলস মানসিক চাপের কারণে সরে যাওয়ার পর অল-অ্যারাউন্ড ইভেন্টে স্বর্ণ হাতছাড়ার শঙ্কা ছিল মার্কিনিদের। ২০০৪ থেকে জিমন্যাস্টিকসের এই ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ধারাবাহিকতা এবার বুঝি ইতি ঘটতে চলল?

তবে সুনিসা লি তেমনটি ঘটতে দিলেন না। ব্রাজিল ও রাশিয়ার দুই প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে ৫৭.৪৩৩ স্কোর গড়ে প্রথম স্থান দখল করেন তিনি। মিনোসোটায় বসতি সুনিসা লির পরিবার বছর দুয়েক ধরে নানান জটিলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। গাছ থেকে পড়ে তার বাবার কোমর থেকে নিচের অংশ এখন প্যারালাইজড, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন চাচা-চাচি, কঠোর বিধিনিষেধের কারণে জিমে পর্যাপ্ত সময়ও কাটাতে পারেননি লি। সব যন্ত্রণার উপশম হয়ে এলো গতকালের এক অলিম্পিক স্বর্ণ।

সূত্র: সমকাল
এম ইউ/৩০ জুলাই ২০২১

Back to top button