অস্ট্রেলিয়া

সিডনিতে লকডাউন কার্যকরে শত শত সেনা

ক্যানবেরা, ৩০ জুলাই – অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের আটটি কাউন্সিলের করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। পাঁচ সপ্তাহ লকডাউন শেষে আরও চার সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। ২৫ জুন মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া লকডাউন শেষ হবে ২৮ আগস্ট।

নাগরিকদের চলাচলে কঠোর থেকে কঠোরতর বিধিনিষেধ আরোপ করেও কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না করোনার বিষাক্ত ছোবল। লকডাউনের মধ্যেই এই রাজ্যে গত দেড় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ করোনা শনাক্ত হওয়ায় রাজ্য সরকার আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

তাদের ধারণা, খুব অল্পসংখ্যক ‘স্বার্থবাদী’ মানুষ লকডাউনের আইন মানছেন না এবং তারাই ভাইরাসটি ছড়িয়ে দিচ্ছেন গোটা কমিউনিটির ভেতর। গত সপ্তাহের লকডাউনবিরোধী সমাবেশ রাজ্য সরকারকে খুব বেশি ভাবিয়ে তুলেছে।

নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার গ্ল্যাডিস বেরেজিক্লিয়ান সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘বিক্ষোভকারীরা আমার হৃদয় ভেঙে দিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন এটিকে ‘চরম স্বার্থপর কাজ’ বলে অভিহিত করেছেন।

আগামীকাল শনিবার আরও একটি বিক্ষোভের পরিকল্পনা করছে লকডাউনবিরোধীরা।

নিউ সাউথ ওয়েলসের পুলিশ কমিশনার মিক ফুলার বলেন, ‘দ্বিগুণ পুলিশ সতর্ক ও প্রস্তুত আছে। লকডাউনবিরোধী কোনো কার্যক্রম সহ্য করা হবে না। তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে।’

সামাজিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতা ও ক্রমবর্ধমান হতাশা লকডাউন ভেঙে হাজার হাজার মানুষকে রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে।

রাজ্য জুড়ে চলমান এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিউ সাউথ ওয়েলসে অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনী মোতায়েনের। তারা পুলিশের সহায়ক শক্তি হিসাবে কাজ করবে এবং তারা নিরস্ত্র থাকবে।

করোনাকালীন সময়ে এই প্রথমবারের মতো সিডনিতে সেনা নামানো হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগে সিডনিতে ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি’ ঘোষণা করা হয়েছিল। খুব স্বাভাবিকভাবেই সেনা মোতায়েন নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

নিউ সাউথ ওয়েলসের পুলিশ কমিশনার মিক ফুলার বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের কাছে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর সহায়তার আবেদন করার পর আশা করেছিলেন যে, সিডনিতে পুলিশ তাদের প্রয়োগ কার্যক্রম সম্প্রসারিত করার জন্য সেনাবাহিনীর সহায়তা পাবে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিটার ডটন আবেদনটি অনুমোদিত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ৩০০ জন সেনা সদস্য সিডনি পুলিশকে সাহায্য করার জন্য মোতায়েন থাকবে। তারা জনগণকে লকডাউনের আইন মানতে বাধ্য করবে। আগামী সোমবার ২ আগস্ট তারা পুলিশের নির্দেশনায় কাজ শুরু করবে।

কম্বারল্যান্ড সিটি কাউন্সিলের মেয়র স্টিভ ক্রিস্টো এসবিএস নিউজকে বলেছেন, তিনি সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বিগ্ন, কারণ এটি বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করবে।

তিনি বলেন, ‘যদি কেবলমাত্র লকডাউন কার্যকর করার জন্য সেনাবাহিনী আনা হয়, আমি মনে করি না যে এটি মোটেও ভালো ফল দেবে। আমি মনে করি না যে লোকেরা এটি খুব ভালোভাবে গ্রহণ করবে।’

নিউ সাউথ ওয়েলসের পুলিশ মন্ত্রী ডেভিড ইলিয়ট বলেন, ‘সেনা মোতায়েন প্রয়োজনীয় ছিল, কারণ অল্প সংখ্যক মানুষ মনে করছে, নিয়ম তাদের জন্য প্রযোজ্য নয়।’

তিনি টেলিভিশন চ্যানেল নাইনকে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স ফোর্সের কর্মকর্তাদের এনএসডব্লিউ পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত করা হবে এবং তারা পুলিশের নির্দেশনা মেনে কাজ করবে।’

অস্ট্রেলিয়ান আইনজীবী জোট সেনাবাহিনী মোতায়েনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা এসবিএস নিউজকে বলেছেন, এই ধরনের ‘অসাধারণ ব্যবস্থা’ একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করতে পারে। এই মোতায়েনে সৈন্যরা কি ভূমিকা পালন করবে তা ব্যাখ্যা করার জন্য আইনজীবী জোটের মুখপাত্র গ্রেগ বার্নস সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্র: ডেইলি স্টার
এম ইউ/৩০ জুলাই ২০২১

Back to top button