কক্সবাজার

কক্সবাজারে পানিবন্দি দুই লক্ষাধিক, জনজীবন বিপর্যস্ত

মনসুর মহসিন

কক্সবাজার , ৩০ জুলাই – টানা ভারী বর্ষণ ও মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভয়াবহ বন্যায় নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে কক্সবাজারের চকরিয়া। অধিকাংশ ইউনিয়ন এবং চকরিয়া পৌরসভার লোকালয় বানের পানিতে ভাসছে। এই অবস্থায় অন্তত ২ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

ভেঙে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। টিউবওয়েল ও বসতবাড়ির রান্নার চুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছে পরিবারগুলোতে। অনেক স্থানে বাড়ির চালা পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুঁটছে হাজারো মানুষ।

এদিকে মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা উজানের পানির প্রবল তোড়ে কয়েকটি স্থানে ভেঙে গেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধও। এতে চকরিয়ার উপকূলীয় মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে নতুন করে ঢুকে পড়ছে বানের পানি। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় ভয়াবহ পাহাড় ধসের শঙ্কাও দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের মাঝে।

জেলা প্রশাসন থেকে চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৭২ টন জিআর চাল। সেই চাল সমবণ্টন করে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি ইউনিয়নের বিপরীতে চার টন করে ডিও ছাড় করা হয়েছে। যাতে পানিবন্দি হয়ে পড়া লাখো পরিবারের মাঝে জিআর চাল বিতরণ শুরু করা যায়।

সরেজমিনে বন্যাকবলিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলা সদরের সঙ্গে ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের মাধ্যম সড়কগুলো কয়েকফুট পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। উপজেলা সদরের সাথে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। জরুরী প্রয়োজনে মানুষ নৌকায় চেপে যাতায়াত করছে। মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা উজানের পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ওপর টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকায় মানুষের মাঝে আতঙ্কও ছড়াচ্ছে। দুই উপজেলার ফসলী জমিও বানের পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকস্থানে ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।

সরেজমিনে আরও দেখা গেছে, চকরিয়া উপজেলার কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর, বমুবিলছড়ি, লক্ষ্যারচর, ফাঁসিয়াখালী, কৈয়ারবিল, হারবাং, বরইতলী, ডুলাহাজারা, খুটাখালী, চিরিংগা, সাহারবিল, পূর্ব বড় ভেওলা, বিএমচর, কোনাখালী, ঢেমুশিয়া, পশ্চিম বড় ভেওলা, বদরখালী গ্রামের পর গ্রাম কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে।

ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ভারি বর্ষণের কারণে ইউনিয়নের অধিকাংশ ওয়ার্ডের ১হাজারের অধিক বাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। বিশেষ করে হাজিয়ান, উত্তর ঘুনিয়া, দক্ষিণ ঘুনিয়া ও ছড়ারকুল এলাকায় বন্যায় তলিয়ে গেছে বেশ কিছু ঘরবাড়ি।
তিনি আরো বলেন, তাদের খাদ্য সহয়তা দিতে সরকার কতৃক ৪ মে: টন চাউল সাথে কিছু শুকনা খাবার চিড়া ও গুড় বরাদ্দ পেয়েছি। এসব খাবারের সাথে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আরও কিছু খাদ্য সামগ্রী যোগ করে বন্যা কবলিত ক্ষতিগ্রস্থ লোকজনের কাছে বিতরণ করতেছি।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, একদিকে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকা এবং মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা উজানের পানিতে উপজেলার সবকটি ইউনিয়নে বন্যা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিরাপদ আশ্রয়ে যাতে মানুষ চলে যায় সেজন্য মাইকিং করা হচ্ছে। পাহাড় ধসের আশঙ্কা থাকায় জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার সব স্লুইস গেটের কপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। যাতে পানি নদীতে দ্রুত নেমে যেতে পারে।

তিনি আরো জানান, ১৮টি ইউনিয়নে ৭২টন এবং চকরিয়া পৌরসভার জন্য ১০ টন জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যাতে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের মাঝে বিতরণ করা যায়।

উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী বলেন, ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার সমন্বয়ে চকরিয়া উপজেলায় টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যায় প্রায় এলাকা বানের পানিতে নিমজ্জিত। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া খাদ্য সামগ্রী প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায়, তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে অতিরিক্ত খাদ্য সামগ্রী বরাদ্দ দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

সূত্র : যুগান্তর
এন এইচ, ৩০ জুলাই

Back to top button