জাতীয়

দক্ষিণ এশিয়ার করোনার হটস্পট এখন বাংলাদেশ

ঢাকা, ২৯ জুলাই- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে পৃথিবীর ১২৪টি দেশ ও অঞ্চলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে করোনা ভাইরাসের ডেল্টা ধরন। যার ফেরে আবারও বিশ্বে বাড়তে শুরু করেছে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার। ডব্লিউএইচওর ধারণা, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অন্তত ২০ কোটি মানুষ ডেল্টার শিকার হতে পারে। ভারতে উৎপত্তি হওয়া করোনার এ ধরনটির আক্রমণে মানুষ শুধু গুরুতর অসুস্থই হয়ে পড়ছেন না, এটি খুব দ্রুত এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির শরীরে ছড়িয়ে যাচ্ছে।

ইতোমধ্যে ভারত হয়ে এই জীবাণু ছড়িয়ে গেছে বাংলাদেশেও। ফলে প্রতিদিন এখন আক্রান্ত ও মৃত্যুর রেকর্ডে হচ্ছে ঝড়ো পরিবর্তন। ভারতে সংক্রমণ পরিস্থিতি কিছুটা আয়ত্তে আসায় এখন অবস্থাটা এমনই দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশই হয়ে উঠেছে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে করোনার প্রধান হটস্পট। গত মঙ্গলবারও বাংলাদেশে রেকর্ড ২৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনায়, নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার।

এর আগের দিন রেকর্ড ভেঙে বাংলাদেশে ১৫ হাজার ১৯২ রোগী শনাক্ত হয়। গতকাল বুধবার দেশে আবার রেকর্ড ১৬ হাজার ২৩০ রোগী শনাক্ত হয়, এ দিন প্রাণ গেছে ২৩৭ জনের। মোট নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার এখনো ওঠানামা করছে ২৮ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে। জনসংখ্যা ও আয়তনের বিচারে বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার আর কোনো দেশে সংক্রমণ পরিস্থিতি এত লাগামছাড়া নেই।

আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডো মিটার ও জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বলছে, গতকাল বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত বিশ্বে মোট সংক্রমণের শিকার রোগীর সংখ্যা ১৯ কোটি ৬১ লাখ ৯৩ হাজার ছাড়িয়েছে। মোট মারা গেছেন ৪১ লাখ ৯৭ হাজারের বেশি মানুষ। এর মধ্যে মোট রোগী শনাক্তের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ২৬তম। মোট সংক্রমণে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতের (৩ কোটি ১৪ লাখ ৮৪ হাজারের বেশি) পর বাংলাদেশ ছাড়া এই তালিকার শীর্ষ ৩০-এ দক্ষিণ এশিয়ার আর কোনো দেশ নেই। বাংলাদেশের পর কেবল ৩১তম অবস্থানে আছে পাকিস্তান। আবার এশিয়াতে মোট সংক্রমণের দিক থেকে বাংলাদেশ আছে ৭ম অবস্থানে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী, গত মঙ্গলবারের তথ্য বলছে- আগের দিন সকাল থেকে ওইদিন সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় গোটা এশিয়ায় মোট রোগী শনাক্ত হয়েছে প্রায় ৩ লাখের কাছাকাছি। মারা গেছেন সাড়ে চার হাজারের বেশি মানুষ। এর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে মোট রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬৬ হাজারের বেশি, মারা গেছেন ১২ শতাধিক মানুষ। জনসংখ্যা ও আয়তনের দিক থেকে স্বাভাবিকভাবেই সংক্রমণ ও মৃত্যু উভয় ক্ষেত্রেই এগিয়ে আছে ভারত। মঙ্গলবার দেশটিতে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে প্রায় ৪৩ হাজার ও মারা গেছে ৬৪০ জন। এর পরই এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ একদিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণ ও মৃত্যু দেখেছে। আয়তন ও মোট জনসংখ্যার বিচারে যা ভয়াবহ বার্তা দেয়। বাংলাদেশ ছাড়া ওইদিন একমাত্র পাকিস্তানে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬২ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। আর সর্বোচ্চ ৬২ জন মারা গেছে আফগানিস্তানে। আগের মতো সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও মৃত্যু হ্রাসে এগিয়ে আছে ভুটান ও মালদ্বীপ।

মোট জনসংখ্যার বিচারে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে করোনা পরীক্ষাতেও এখনো প্রতিবেশী অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ‘রিপোর্ট অন বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ২০২০’-এর তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯১ লাখের বেশি। গত বছরের মার্চ থেকে এখানে মোট করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ১২ লাখ ১০ হাজারের বেশি ও মোট মারা গেছে ২০ হাজারের বেশি মানুষ। এর মধ্যে গতকাল পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৭৬ লাখ ১২ হাজার ৫৫৮।

অর্থাৎ প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে করোনা পরীক্ষা হয়েছে ৪৫ হাজার ৭০০ জনের কিছু বেশি। অথচ ১৩৯ কোটির বেশি মানুষের দেশ ভারতে প্রতি দশ লাখে পরীক্ষা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজারের বেশি। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৪৬ কোটি ৯০ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ২২ কোটি মানুষের দেশ পাকিস্তানে প্রতি দশ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে পরীক্ষার আওতায় এসেছে প্রায় ৭০ হাজার। পাকিস্তানে মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১ কোটি ৫৮ লাখ ১৮ হাজারের বেশি। নেপালে ২ কোটি ২৯ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে প্রতি দশ লাখে পরীক্ষা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার। দেশটিতে মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩৫ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি। শ্রীলংকার মোট জনসংখ্যা বর্তমানে ২ কোটি ১৫ লাখের বেশি। সেখানেও ৪২ লাখ ৫৪ হাজারের বেশি মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি দশ লাখে দেশটিতে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজারের বেশি। তবে মৃত্যু ও সংক্রমণ হার বেশি হলেও সংঘাতময় পরিস্থিতি এবং সুযোগ-সুবিধার অপ্রতুলতার কারণে প্রায় ৪ কোটি মানুষের দেশ আফগানিস্তানকে প্রতি দশ লাখ জনসংখ্যায় কত পরীক্ষা হয়েছে সেই হিসাবে ধরা হয়নি।

সূত্রঃ আমাদের সময়

আর আই

Back to top button