চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে একদিনে মৃত্যু ও শনাক্তের নতুন রেকর্ড

চট্টগ্রাম, ২৭ জুলাই – চট্টগ্রামে প্রতিদিনই করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। দিনের পর দিন ভাঙছে আগের রেকর্ড ৷ এবার শনাক্ত ও মৃত্যুতে সৃষ্টি হয়েছে নতুন রেকর্ড। গত একদিনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরো ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। যাদের ৭ জন নগরের বাকি ১১ জন উপজেলার বাসিন্দা। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ৯১৫ জনে।

এছাড়া গত একদিনে নতুন করে করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে আরো ১৩১০ জন। তারমধ্যে ৮৩৩ জন নগরের ও ৪৭৭ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। এ নিয়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭৭ হাজার ৫২১ জনে এসে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ হাজার ৩২৩ জন নগরের বাসিন্দা ও ১৯ হাজার ১৯৮ জন বিভিন্ন উপজেলার।

সোমবার রাতে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। চট্টগ্রামের সরকারি-বেসরকারি ৯টি ল্যাব ও বিভিন্ন এন্টিজেন বুথে সর্বমোট ৩ হাজার ৩৮৯ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়।

ল্যাবভিত্তিক রিপোর্টে দেখা যায়, ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস ল্যাবে (বিআইটিআইডি) ৫০৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় চট্টগ্রাম নগরের ১৩২ ও উপজেলার ৪৩ জন জীবাণুবাহক পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে ২২৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলে নগরের ৯৪ ও উপজেলার ২৯ জনের শরীরে জীবাণুর উপস্থিতি চিহ্নিত হয়। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে ৩৪৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় চট্টগ্রাম নগরের ৭৪ ও উপজেলার ৭৬ জন জীবাণুবাহক পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ল্যাবে ৩০৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলে নগরের ১১৩ ও উপজেলার ২১ জনের শরীরে জীবাণুর উপস্থিতি চিহ্নিত হয়।

নমুনা সংগ্রহের পরপরই ফলাফল প্রদানকারী এন্টিজেন টেস্টে ১২৯০ জনের মধ্যে ৪২৯ জন জীবাণুবাহক বলে জানানো হয়। এর মধ্যে চট্টগ্রাম নগরের ১৮৭ জন ও উপজেলার ২৪২ জন। চট্টগ্রাম নগরীতে করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহকারী কয়েকটি কেন্দ্রে এন্টিজেন টেস্ট করা হয়ে থাকে।

এদিকে বেসরকারি ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরির মধ্যে শেভরন ল্যাবে ১৪১টি নমুনায় চট্টগ্রাম নগরের ২১ ও উপজেলার ৪৭ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের ল্যাবে ৪৫৬ নমুনা পরীক্ষা নগরের ১৬৪ জন ও উপজেলার ১৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়। আগ্রাবাদের মা ও শিশু হাসপাতালে ৬৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় নগরে ২৫ জন ও উপজেলার ৩ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হন। মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে ৪৪ নমুনা পরীক্ষায় ২৩ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। যাদের সকলেই নগরের। এছাড়া কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে কেবল ১২ টি এবং এর মধ্যে উপজেলার ৩ টি করোনা পজিটিভ।

উপজেলায় আক্রান্তদের মধ্যে আনোয়ারায় সর্বোচ্চ ৬৭ জন, বোয়ালখালীতে ৬৫ জন, হাটহাজারীতে ৫৯ জন, পটিয়ায় ৫৭ জন, রাউজানে ৫৪ জন, রাঙ্গুনিয়ায় ৪৪ জন, ফটিকছড়িতে ৩০ জন, সীতাকুণ্ডে ২৩ জন, সন্দ্বীপে ২৩ জন, বাঁশখালীতে ২১ জন, সাতকানিয়ায় ১৮ জন, মিরসরাইয়ে ১২ জন, লোহাগাড়ায় ২ জন, চন্দনাইশ ২ জন।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামে গত বছরের ৩ এপ্রিল প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ৯ এপ্রিল করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম এক ব্যক্তি মারা যান।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এম এউ, ২৭ জুলাই

Back to top button