গবেষণা

গর্ভাবস্থায় কিংবা জন্মের মুহূর্তে করোনা আক্রান্ত হতে পারে শিশু, দাবি গবেষকদের

করোনার ধাক্কায় কার্যত জবুথবু গোটা বিশ্ব। একের পর পর করোনার ঢেউয়ের কথা শুনে রক্তচাপ বাড়ছে অনেকের। আতঙ্কে যেন কাঁটা হয়ে যাচ্ছেন বেশিরভাগ মানুষ। বাড়ির বয়স্ক এবং খুদে সদস্যকে নিয়ে চিন্তাভাবনার শেষ নেই। গর্ভস্থ সন্তানও কি আদতে নিরাপদ কিংবা ধরুন সদ্যোজাত? এই প্রশ্নও হবু কিংবা নতুন মায়ের মনে রাতদিন ঘুরপাক খাচ্ছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এই পরিস্থিতিতে নয়া একটি গবেষণা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা।

সম্প্রতি ইন্ডিয়ান পেডিয়াট্রিক্স জার্নালে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। করোনা কালে দেশের মোট ২০টি হাসপাতাল থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন গবেষকরা। ওই গবেষণা অনুয়ায়ী, করোনা কালে সন্তান মায়ের কাছেও পুরোপুরি সুরক্ষিত নয়। কারণ, গর্ভাবস্থায় কিংবা সন্তান জন্মের মুহূর্তে এমনকী সন্তান জন্মের ৭২ ঘণ্টার মধ্যেও শিশু করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। বহু ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে ভাইরাস বাহক খোদ মা। শিশুদের উপসর্গও প্রকাশ পায়। শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যাই সবচেয়ে বেশি ভোগায় তাদের। চিকিৎসা করে অনেক শিশু সুস্থ হয়ে যায়। আবার মৃত্যুর হারও একেবারে কম তা নয়। যে সমস্ত মহিলা গর্ভাবস্থায় করোনা সংক্রমিত হচ্ছেন তাঁদের মধ্যেও উপসর্গহীনদের সংখ্যা তুলনামূলক কম। পরিবর্তে করোনার উপসর্গ প্রকাশ পাচ্ছে তাঁদেরও। তাই তার ফলে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকছেই।

তবে মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। কোনওভাবেই তাকে বেশিক্ষণ দূরে সরিয়ে রাখা সম্ভব নয়। সদ্যোজাতর ক্ষেত্রে তো তা কার্যত অসম্ভব। চিকিৎসকদের মত অনুযায়ী, জন্মের পর প্রথম ছ’মাস শিশুর খাবার মাতৃদুগ্ধ। সেক্ষেত্রে অনেক মায়েরই প্রশ্ন করোনা আক্রান্ত হলে কি শিশুকে স্তন্যপান করানো যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে কোভিড আক্রান্ত মা-ও তাঁর সন্তানকে স্তন্যপান করাতে পারেন। সেক্ষেত্রে অবশ্যই বাধ্যতামূলক মাস্ক পরা। এবং অবশ্যই শিশুকে খাওয়ানোর আগে হাত ধুয়ে নিতে হবে। তবে স্তন্যপান ছাড়া অন্য সময় শিশুকে আক্রান্ত মায়ের বেশি কাছে না রাখাই ভাল। তাই করোনার তৃতীয় ঢেউ দেশজুড়ে আছড়ে পড়ার আগে টিকা নিন। অবশ্যই পরুন মাস্ক। মেনে চলুন দূরত্ববিধি।

এস সি/ ২৬ জুলাই

Back to top button