সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জে ২৫ দিনে করোনায় আক্রান্ত ৯৭৩, মৃত্যু ১১ জনের

সুনামগঞ্জ, ২৬ জুলাই- ভারতের সীমান্তবর্তী হাওর অধ্যুষিত জেলা সুনামগঞ্জে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। সেই সঙ্গে বেড়েছেন চলছে মৃত্যুর সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩৭টি নমুনা পরীক্ষা করে ৭৮ জন নতুন রোগী করোনা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়াও ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন আরও ১ জন। এ নিয়ে জেলায় মৃত্যুর মিছিলে যোগ হল ৪৪ জন।

গত ১ জুন থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত ২৫ দিনে আক্রান্ত হয়েছে ৯৭৩ জন। মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে আইসোলেশনে আছেন ৮৩১ জন। জেলা করোনা ভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৯৭৯ জন। আরোগ্য লাভ করেছেন ৩ হাজার ১০৪ জন। এদিকে জেলার ১১ উপজেলাব্যাপী করোনা প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়লেও আশঙ্কাজনক হারে সংক্রমিত হচ্ছে সদর উপজেলা। গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৪০ জন সংক্রমিত হয়েছেন। সপ্তাহের কোনো কোনোদিন ভাইরাস কেড়ে নিচ্ছে শহরের পরিচিতি মুখদের। এক শোকের রেশ কাটতে না কাটতে শুনতে হচ্ছে নতুন মৃত্যুর সংবাদ। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন পার করতে হচ্ছে শিশু ও বয়স্ক নাগরিক, গর্ভবর্তীসহ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকা লোকদের। এমন অবস্থায় সচেতন ও সর্তক না থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাহিরে যাওয়ার শঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা।

ভারতে প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাসের ডেল্টা ধরন নিয়ে দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সম্প্রতি যে উদ্বেগ দেখা দেয়া বাংলাদেশে, সেই অতি সংক্রামক ধরনটি ছড়িয়ে পড়েছে অন্য জেলাগুলোতেও। বিভিন্ন স্থানে শনাক্তের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি করোনা উপসর্গ নিয়ে বাড়িতে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিধি-নিষেধ আরোপ করেও কোথাও তেমন কাজ হচ্ছে না। বেশির ভাগ মানুষই তোয়াক্কা করছে না স্বাস্থ্যবিধিকে। ঈদুল আযহার জন্যে ৭ দিনের লকডাউন বিরতি দেয় সরকার। ঈদের নতুন করে কঠোর লকডাউনে বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও অন্যান্য জেলার মতো সুনামগঞ্জেও বেড়ে চলছে সংক্রমণ। ঈদের ছুটি কাটিয়ে জেনো মাথাঝাড়া দিয়ে উঠেছে ভাইরাস। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রতিদিনই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা।

রোববার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসপাতালে আইসোলেশনসহ রোগী ভর্তি রয়েছেন ৪৭ জন। অক্সিজেন প্লান্টার বা আইসিইউ সেবা না থাকলেও করোনা রোগীদের সাধারণ সিলিন্ডারের মাধ্যমে রোগীদের অক্সিজেন সেবা দেয়া হচ্ছে। মৃদু আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে অক্সিজেন সিলিন্ডার কাজে লাগলেও মাঝারি কিংবা বেশি সংক্রমিত রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসা দেয়ার সক্ষমতা নেই জেলার এই প্রধান চিকিৎসালয়ে। তাই উন্নত চিকিৎসায় সিলেট যেতে হচ্ছে রোগীদের। এমতাবস্থায় করেনা পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গড়ালে মৃত্যু-ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা। তাই সকল স্তরে সাবধানতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

সুনামগঞ্জ সদর হাসপতালের উপ-পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান  বলেন, হাসপাতালের আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে রোগী। প্রতিদিন পাল্লা দিয়ে রোগী ভর্তি হচ্ছেন। আমাদের সক্ষমতা অনুযায়ী সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এখনও পর্যন্ত রোগীদের অবস্থা ভালো যাচ্ছে। যে হারে সংক্রমণ বাড়ছে সকল স্তরে সাবধানতা অবলম্বন না করলে পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হয়ে যাবে।

এদিকে লকডাউন পরিস্থিতি সর্বাত্মকভাবে পালন করতে প্রশাসন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। সর্বাত্মক লকডাউন পালনে সেনাবাহিনীর সাথে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও নির্বাহী মাজিস্ট্রেটগণ কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

তিনি বলেন, সংক্রমণ বাড়ছে। বিনা প্রয়োজন ঘরে বাহিরে যাওয়া যাবে না। গেলেও অবশ্যই মাস্ক পরিধান করতে হবে। করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সূত্রঃ আরটিভি

আর আই

Back to top button