জাতীয়

ভারত-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে সংসদীয় কমিটির রুদ্ধদ্বার বৈঠক

ঢাকা, ২১ অক্টোবর- ভারত, চীনসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গ ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ’ নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।

বুধবার বিকালে সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠক শুরু হলে প্রথমে পূর্বনির্ধারিত কার্যসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর কেবল কমিটির সদস্যদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়।

তবে সেখানে কী কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বলার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান।

আরও পড়ুন:  অচিরেই জেলা ও মহানগর কমিটি ঘোষণা করা হবে

বৈঠক শেষে এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, “যেহেতু এটা আমাদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক ছিল, তাই সিদ্ধান্ত বা সুপারিশের বিষয়ে গণমাধ্যমকে কিছু বলতে চাই না। আমরা ভারত-চীনসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছি। বলতে পারেন, আমাদের আলোচনায় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো উঠে এসেছে।”

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার আকস্মিক বাংলাদেশ সফর নিয়ে গত অগাস্ট মাসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে প্রশ্ন তোলা হয়। ওই বৈঠকেই ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করার সিদ্ধান্ত হয়।

এদিকে বুধবারের বৈঠকে নির্ধারিত সূচির আলোচনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ছয় লাখ নারী কর্মী কর্মরত থাকার কথা জানানো হয়। তাদের সুবিধা-অসুবিধার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সব সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয় সংসদীয় কমিটি।

দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার কারণে নারী কর্মীদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি যাতে না আসে, সে বিষয়েও সজাগ থাকার পরামর্শ দেওয়া হয় বৈঠকে।

এ বিষয়ে ফারুক খান বলেন, “আমাদের অনেক নারী কর্মী এখন প্রবাসে রয়েছেন। তাদের নিয়ে নানা সময়ে নানা কথা শুনতে হয়েছে। আমরা এজন্য পরারাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে উদ্যোগ নিতে বলেছি। সব সময় সজাগ থাকতে বলেছি।”

চলমান মহামারীর কারণে যেসব অভিবাসী কর্মী তাদের কর্মস্থলে ফিরে যেতে পারেননি, তাদের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের আটকা পড়া কর্মীদের ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ বাড়িয়ে বিশেষ ফ্লাইটে তাদের ফেরার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ইতালি, যুক্তরাজ্য, স্পেন, পর্তুগাল, ফ্রান্স, গ্রিস, সৌদি আরব ও ওমানের দুই হাজার ৫৬০ জন আটকে পড়া প্রবাসীকে ইতোমধ্যে ফেরার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।

সৌদি আরব প্রবাসীদের ফেরার সমস্যা নিয়ে ফারুক খান বলেন, “সেখানে বেশিরভাগ লোকের প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়েছে। কিছুক্ষেত্রে চাকরিদাতার প্রতিষ্ঠান করোনার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে তারা তাদের কর্মীদের নিতে পারছে না। তবে এই সংখ্যা খুব একটা বেশি নয়।”

বৈঠকে জানানো হয়, করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে কর্মহীন প্রবাসীদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি, আটকা পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনা, দেশে আটকে পড়া প্রবাসীদের স্ব স্ব কর্মস্থলে পাঠানো এবং বিশেষ বিমান চলাচলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ফারুক খানের সভাপতিত্বে এ বৈঠকে কমিটির সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, নূরুল ইসলাম নাহিদ, গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স, মো. আব্দুল মজিদ খান ও মো. হাবিবে মিল্লাত অংশ নেন।

সূত্র: বিডিনিউজ

আর/০৮:১৪/২১ অক্টোবর

 

Back to top button