চট্টগ্রাম

চট্রগ্রাম সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণে বিরোধিতা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে

চট্রগ্রাম, ১৪ জুলাই – চট্রগ্রামের সিআরবি এলাকায় ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল এবং ১০০ আসন বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ নির্মাণ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের বিরোধিতা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

বুধবার বাংলাদেশ রেলওয়ে, সিআরবি, চট্টগ্রামের প্রকল্প পরিচালক এবং অতিঃ প্রধান প্রকৌশলী (সেতু/পূর্ব) মো. আহসান জাবির স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হাসপাতালটি নির্মাণের জন্য সিআরবি রেলওয়ের নিজস্ব হাসপাতালের পার্শ্বে গোয়ালপাড়া এলাকাকে নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বমোট ৬ একর জায়গার ওপর হাসপাতালটি নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত স্থানে বর্তমানে রেলওয়ের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের অতিপুরাতন ও জরাজীর্ণ বাসাবাড়ি বিদ্যমান।

এতে বলা হয়, ওই স্থানে বসবাসরত কর্মচারী/কর্মকর্তাদের ইতোমধ্যে অনত্র বাসা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে আরও যারা আছেন তাদেরকে পযায়ক্রমে অনত্র বাসা বরাদ্দ প্রদান করা হবে। কিন্ত সেখানে শতবর্ষী কোনো গাছ বিদ্যমান নাই। ওই স্থানে বিদ্যমান গাছ এবং ভূমিরুপ এর অবয়ব ঠিক রেখেই হাসপাতালটি নির্মাণ করা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সিআরবি শীরীষতলা এলাকা ও সাতরাস্তার মোড়ে শতবর্ষী গাছ বিদ্যমান কিন্তু উক্ত স্থানটি প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত জায়গা নয় বিধায় শতবর্ষী গাছগুলো বিনাসের কোনো সম্ভাবনা নেই। তাই গোয়ালপাড়াতে হাসপাতাল নির্মাণ করা হলে সিআরবি এলাকার নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক পরিবেশ ও শিরীষতলায় বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে সহ নানাবিধ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কোনরুপ প্রতিবন্ধকতা/বিঘ্নতা ঘটবে না।

এতে উল্লেখ করা হয়, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) এর আওতায় বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে ইউনাইটেড এরন্টারপ্রাইজ লিঃ এর ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল এবং ১০০ আসন বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ নির্মাণের জন্য ২০২০ সালের ১৮ মার্চ চুক্তি হয়। চুক্তিপত্র অনুযায়ী ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ লিঃ সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে হাসপাতালটি নির্মাণ করবে এবং ৫০ বছর পর সম্পূর্ণ হাসপাতাল রেলওয়ের কাছে হস্তান্তর করবে যা তখন সম্পূর্ণরুপে রেলওয়ে হাসপাতাল হিসেবে গণ্য হবে। এই হাসপাতালে রেলওয়ের কর্মকর্তা/কর্মচারীরা বিশেষ সুবিধায় চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামবাসীর চিকিৎসা সেবার মান আরও একধাপ এগিয়ে যাবে ফলে উন্নত চিকিৎসা সেবার জন্য বিদেশ গমণের প্রবণতা হ্রাস পাবে।

প্রসঙ্গত, প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক কারণে সেখানে হাসপাতাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়ে চট্টগ্রামের বিশিষ্ট নাগরিকরা বলছেন, অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে তারা বাধ্য হবে।

রেলওয়ে শ্রমিক-কর্মচারী নেতাদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ সিআরবি ভবনের পাশে এবং রেল কর্মচারীদের কোয়ার্টার সরিয়ে হাসপাতাল করা হলে রেলের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে।

তথ্যসূত্র: সমকাল
এস সি/ ১৪ জুলাই

Back to top button