জাতীয়

পিপলস লিজিং: দশ সদস্যের পর্ষদ গঠন করে দিলেন হাইকোর্ট

ঢাকা, ১৩ জুলাই – অবসায়ন নয়, আবারও চালু হতে যাচ্ছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড (পিএলএফএসএল)। প্রতিষ্ঠানটি পুনরুজ্জীবিত করতে ১০ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামাল-উল আলমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি পুনর্গঠন বা পুনরুজ্জীবিত করার নির্দেশনা চেয়ে গত মাসে ২০১ জন আমানতকারী আবেদন করেন। এর শুনানিতে ২৮ জুন আদালত প্রতিষ্ঠানটি পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে একটি বোর্ড গঠন করার কথা বলেন। এর ধারাবাহিকতায় ১২ জুলাই বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে আদেশ দেন। আজ মঙ্গলবার আদেশের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়।

পিএলএফএসএলের সাময়িক অবসায়ক (প্রবেশনাল লিক্যুইডেটর) নিয়োগসংক্রান্ত ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই দেওয়া আদেশ প্রত্যাহার করে ওই পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে দেওয়া হয়েছে।

চেয়ারম্যান হিসেবে দয়িত্ব পাওয়ার পর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামাল-উল আলম বলেন, ‘আদালত দায়িত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি কিছু নির্দেশনাও দিয়েছেন। এর মধ্যে প্রথম বোর্ড সভা আহ্বানের আগে কিছু প্রাক–নির্দেশনা পূরণ করতে হবে। এরপর প্রথম বোর্ড সভা আহ্বান করা হবে। আদালত আস্থা রেখে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন বোর্ডের সব সদস্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবে।’

পরিচালনা পর্ষদে আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে রাখা হয়েছে। পর্ষদের অপর সদস্যরা হলেন, সাবেক সচিব আনোয়ারুল ইসলাম সিকদার, অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ হাসান শাহীদ ফেরদৌস, পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল হালিম চৌধুরী, সাবেক সেনা কর্মকর্তা (অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল) কাজী তৌফিকুল ইসলাম, ফেলো চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট নুর-ই-খোদা আবদুল মোবিন ও মওলা মোহাম্মদ, আমানতকারীদের প্রতিনিধি নাশিদ কামাল, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান নুরুল কবির।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আহসানুল করিম, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী শামীম আহমেদ। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে আইনজীবী তানজিব-উল আলম ও কাজী এরশাদুল আলম। পিএলএফএসএলের সাময়িক অবসায়ক (প্রবেশনাল লিক্যুইডেটর) মো. আসাদুজ্জামানের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মেজবাহুর রহমান। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

পিপলস লিজিংয়ের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সদস্য ও তাঁদের সম্মানী নির্ধারণের পাশাপাশি হাইকোর্ট পর্ষদের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পর্ষদের সদস্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানসহ পিএলএফএসএলের আমাতকারী ও ঋণগ্রহীতাদের প্রতি কয়েক দফা নির্দেশনা দিয়েছেন।

পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের প্রতি চার দফা নির্দেশনার মধ্যে প্রথমটিতে পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্য ও সাময়িক অবসায়কের (নিষ্ক্রিয়) সঙ্গে আলোচনা করে সুবিধাজনক সময়ে পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভা আহ্বান করবেন এবং সভা পরিচালনা করবেন। গঠিত পরিচালনা পর্ষদ কার্যকরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্ট বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আদালত আদেশ দিয়ে চূড়ান্তভাবে সাময়িক অবসায়ককে অব্যাহতি দিচ্ছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত সাময়িক অবসায়ককে (নিষ্ক্রিয়) পিএলএফএসএলের পর্ষদে সংযুক্ত রাখবেন গভর্নর।

প্রতি পর্ষদ সভার জন্য চেয়ারম্যান সম্মানী হিসেবে ৫০ হাজার টাকা এবং প্রতি বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) জন্য ৩ লাখ করে টাকা পাবেন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। আর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সম্মানী পরিচালনা পর্ষদ নির্ধারণ করবে বলে আদেশে বলা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি সভার জন্য পর্ষদ সদস্যের সম্মানী ২৫ হাজার টাকা এবং প্রতি বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) জন্য ১ লাখ টাকা করে সম্মানী পাবেন। একই সঙ্গে আগামী ২২ আগস্ট পরবর্তী আদেশের জন্য দিন রাখা হয়েছে।

পিএলএফএসএলের সাময়িক অবসায়ক মো. আসাদুজ্জামানের আইনজীবী মেজবাহুর রহমান বলেন, ‘এই আদেশের ফলে পিএলএফএসএলের সাময়িক অবসায়ক থাকছে না। সাময়িক অবসায়ককে এখন প্রতিষ্ঠানটির সব দায়দায়িত্ব, নথি, টাকাপয়সা ও সম্পত্তি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।’

হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়, আমানত ফেরত পেতে আগামী ছয় মাস কোনো আমানতকারী পিএলএফএসএলের ব্যবস্থাপনা বা পরিচালনা পর্ষদের কাছে দাবি জানাতে পারবে না। তবে মানবিক কারণে কোনো আমানতকারীর অর্থ ফেরতে পর্ষদের স্বাধীনতা থাকবে। আইন অনুযায়ী আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ডাউনপেমেন্টের মাধ্যমে ঋণ পুনঃ তফসিলের জন্য পিএলএফএসএলের প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে ঋণগ্রহীতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আদালতে সশরীর হাজির হয়ে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।

অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ এ প্রতিষ্ঠানটিকে ২০১৯ সালে অবসায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। ১৯৯৭ সালের ২৪ নভেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পিপলস লিজিংয়ের অনুমোদন দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক, দেখভালের দায়িত্বও ছিল এ সংস্থার। তদারকি দুর্বলতা ও পরিচালকদের অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটি এখন দেউলিয়া। আদালত আদেশে প্রতিষ্ঠানটিতে একজন অবসায়ক নিযুক্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো
এস সি/১৩ জুলাই

Back to top button