দক্ষিণ আমেরিকা

হাইতির প্রেসিডেন্ট হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন ‘মূলহোতা’ গ্রেফতার

পোর্ট-অব-প্রিন্স, ১২ জুলাই – হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভেনেল ময়িজ হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন মূলহোতা একজন হাইতিয়ান চিকিৎসক। ক্রিশ্চিয়ান এমান্যুয়েল স্যানন নামে ওই ব্যক্তি গত জুনে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য’ নিয়ে একটি ব্যক্তিগত জেটপ্লেনে করে হাইতি প্রবেশ করেছিলেন। তারই যোগসাজশে গত সপ্তাহে গুলি করে হত্যা করা হয় হাইতিয়ান প্রেসিডেন্টকে। ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে ৬৩ বছর বয়সী ওই ‘মাস্টারমাইন্ড’কে। রোববার রাতে এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে হাইতির পুলিশ।

গত ৭ জুলাই নিজবাড়িতে হত্যার শিকার হন প্রেসিডেন্ট ময়িজ। দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন তার স্ত্রী মার্টিন ময়িজও। আর এ হত্যা মিশনে অংশ নেয় ২৮ জন বিদেশি ঘাতক।

আহত ফার্স্টলেডিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, হামলাকারীরা ঘরে ঢুকেই ময়িজকে গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেয়, এসময় তাকে একটি কথা বলারও সুযোগ দেয়া হয়নি।

মিশন বদলে যায়
রোববার রাতে হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ্য-প্রিন্সে এমান্যুয়েল স্যাননকে গ্রেফতারের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির পুলিশ।

হাইতির পুলিশ প্রধান লিওন চার্লস বলেছেন, এই ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে ব্যক্তিগত প্লেনে করে হাইতি ঢুকেছিল। তার প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল প্রেসিডেন্ট ময়িজকে গ্রেফতার করা। কিন্তু মিশন পরে বদলে দেয়া হয়।

চার্লস বলেন, ঘটনা ঘটার পর আমরা যখন দুর্বৃত্তদের পথ আটকে দেই, তাদের মধ্যে এক হত্যাকারী প্রথমেই যে ব্যক্তিকে ফোন করেছিল, সে হলো ক্রিশ্চিয়ান এমান্যুয়েল স্যানন। ওই লোক আরও দুজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। আমরা ধারণা করছি, প্রেসিডেন্ট হত্যাকাণ্ডে তারাও অন্যতম মূলহোতা। তবে ওই দুই সন্দেহভাজন কারা তা প্রকাশ করেননি হাইতির পুলিশ প্রধান।

তিনি জানান, অভিযুক্ত স্যানন হাইতির ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন দেখতেন এবং সেই অনুসারে পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন।

নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দেয়া স্যানন দীর্ঘদিন ধরে ফ্লোরিডায় বসবাস করছিলেন বলে জানা গেছে। তিনি ময়িজ হত্যাকারীদের কয়েকজনকে নিজের দেহরক্ষী করার আশ্বাস দিয়ে দলে ভিড়িয়েছিলেন।

চার্লস জানান, অভিযুক্ত হত্যাকারীরা স্যাননের নিরাপত্তা দিচ্ছিলেন এই ভেবে যে, তিনি হাইতির প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন। পুলিশ স্যাননের বাসা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের লোগোযুক্ত একটি হ্যাট, ২০ বাক্স বুলেট, বন্দুকের অংশ, ডমিনিকান রিপাবলিকের চারটি গাড়ির নম্বরপ্লেট, দুটি গাড়ি ও অজ্ঞাত লোকদের বেশ কিছু চিঠিপত্র উদ্ধার করেছে।

হাইতির পুলিশ প্রধান জানান, প্রেসিডেন্ট ময়িজ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিয়েছিল ২৮ জন। এদের মধ্যে ২৬ জনই কলম্বিয়ান, বাকি দুইজন হাইতিয়ান বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। এদের মধ্যে ১৫ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনজন পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে এবং বাকি আটজন এখনো পলাতক।

সূত্র: জাগো নিউজ
এম ইউ/১২ জুলাই ২০২১

Back to top button