জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচন স্থগিত রাখতে ইসির প্রতি আহ্বান বিএনপির

ঢাকা, ১১ জুলাই – মহামারি করোনায় জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন স্থগিত রাখতে ইসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। শনিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, শনিবার দল-বিএনপির স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে চলমান স্থানীয় সরকার নির্বাচন অব্যাহত রাখার পক্ষে দলবাজ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মন্তব্যে ‘করোনার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন’ গভীর ক্ষোভ ও প্রতিবাদও জানানো হয়েছে।

‘এই নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে আজ পর্যন্ত একটি নির্বাচনও অবাধ ও সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে পারেনি শুধুমাত্র তাদের সরকারী দলের বশংবদ প্রতিষ্ঠান হিসাবে কাজ করার জন্য। নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য নির্বাচন স্থগিত রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় এর দায় দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, সম্প্রতি যুক্তরাজ্য তাদের পার্লামেন্টে বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে বাংলাদেশের এবং চলমান নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক অবস্থা ও চরম অমানবিক আচরণসহ বেগম খালেদা জিয়াকে বেআইনীভাবে আটক ও তার প্রতি অমানবিক আচরনের বিষয় প্রকাশ করেছে। তাদের এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে সাজা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। এমন কি সুচিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে যাওয়ারও সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। এটা গুরুতর মানবাধিকার লংঘন।

প্রধানমন্ত্রীর ‘স্বপ্নের প্রকল্প’ নামের আড়ালে উপহারের ঘর নির্মাণে হরিলুঠ চলছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংকারদের কাছ থেকে চাঁদা, জনগণের অর্থ, সরকারি কোষাগারের অর্থ ব্যয় করে শুধুমাত্র ব্যক্তি প্রচারণার নামে যে নির্মাণ কাজ হচ্ছে তা কিছু দিন যেতে না যেতেই ভেঙ্গে পড়ছে। এই প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা হরিলুট চলছে। এই মর্মে পত্র-পত্রিকায় প্রতিবেদন আসছে। ব্যক্তি প্রচারণায় জনগণের অর্থ অপচয়ের অধিকার কারও নেই।

‘অবিলম্বে দুর্নীতির এই লোক দেখানো কার্মকাণ্ড বন্ধ করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। এ বিষয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান কয়েক দিনের মধ্যে বিস্তারিত তথ্য জনগণের সামনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তুলে ধরবেন।’

নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জে ‘হাশেম ফুড এন্ড বেভারেজ’ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার চরম অবহেলায় এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা বারবার সংঘটিত হচ্ছে এবং শিশু-কিশোরসহ অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। প্রকৃত পক্ষে এই ঘটনাটি হত্যার পর্যায়ে পড়ে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংশ্লিষ্ট সংস্থা কল-কারখানার নির্মাণ মান, পরিবেশ এবং অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিদর্শন ও নজরদারী না করার কারণেই এবং প্রশাসনিক দূর্বলতার কারণে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন ঢাকার সব হাসপাতালগুলোতে একটি সার্কুলার জারি করেছেন এই বলে যে, করোনা সংক্রান্ত কোনও তথ্য কোন সাংবাদিক অথবা কোনও ব্যক্তিকে অথবা সংস্থাকে অনুমতি ব্যতিরেকে কেউ দিতে পারবে না। অর্থাৎ সিভিল সার্জেনই এখন থেকে করোনা সংক্রান্ত তথ্য (যা তারা প্রকাশ করতে চান) সম্পর্কে গণমাধ্যম অথবা অন্যান্যদের জানাতে পারবেন। এই সিদ্ধান্ত মুক্ত তথ্য প্রবাহ নীতির বিরোধী।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, করোনা সারাবিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশেও চরম স্বাস্থ্য বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। তাই এই নির্দেশ প্রদান প্রমান করছে যে, তারা প্রকৃত তথ্য গোপন করছে এবং করতে চায়। সংক্রমণের ও মৃত্যুের সংখ্যা সরকার প্রকাশিত সংখ্যার চাইতে অনেক বেশি। এই ধরনের তথ্য গোপনের প্রচেষ্টা স্বাধীন গণমাধ্যম ও গণতন্ত্রপন্থী। অবিলম্বে এই সকল নির্দেশ এবং তথ্য গোপন করবার অপচেষ্টা বন্ধ করে, জনগণের সামনে সত্য ও সঠিক চিত্র তুলে ধরলেই জনগণের সচেতনা বৃদ্ধি পাবে এবং সমস্যা সমাধান সহজ হবে। তাই এই নির্দেশ প্রত্যাহার করে করোনা নিয়ন্ত্রণে জনগণকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ১১ জুলাই

Back to top button