গাজীপুর

ইউএনও বলেন টাকা আমার কাছে জমা রাখো, আমিই সরকার

গাজীপুর, ১০ জুলাই – ঢাকার ধামরাই উপজেলার ধানতারা হাটবাজারের খাস কালেকশনের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) আত্মসাৎ করে আসছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রায় এক বছর ধরে ওই হাটবাজরের খাস কালেকশনের টাকার আংশিক জমা দিয়ে বাকি টাকা নিজ পকেটে রাখছেন উপজেলা ইউএনও মো. সামিউল হক।

জানা গেছে, উপজেলা যাদবপুর ইউনিয়নের ধানতারা হাটবাজার ইজারা হয় ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে। করোনার কারণে ইজারাদার বাবু মিয়াকে ওই বছরের ইজারার টাকা উত্তোলন করা বন্ধ করে দেন ইউএনও। ইজারাদারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে ওই হাটবাজার থেকে সরিয়ে ইউএনও সামিউল হক গত বছরের জুলাইয়ে যাদবপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহকারী কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসেন ও অফিস উপসহকারী কর্মকর্তা আক্কাস আলীকে দায়িত্ব দেন।

উজ্জ্বল মিয়া ও আক্কাস আলী যাদবপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইছাক আলীর ভাগ্নে এমারত হোসেনকে দিয়ে প্রতি সপ্তাহ হাটবার সোমবার খাস কালেকশন ১৫ হাজার টাকা করে উঠান। খাস কালেকশনের ওই টাকা ভূমি কর্মকর্তা উজ্জ্বল ও আক্কাস আলী এমারতকে সরকারি কোনো রিসিভ না দিয়ে ওই টাকা নিয়ে নেন। এতে এমারত কিছু বলেন না। কারণ প্রতি সপ্তাহ হাটবারে খাস কালেকশন ১৫ হাজার টাকা তাদের জমা দেওয়ার পরও তার কিছু থাকে।

উজ্জ্বল হোসেন ও আক্কাস আলী খাস কালেকশনের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে ইউএনও সামিউল হকের নির্দেশে তার কাছে জমা দেন। প্রতি সপ্তাহের সোমবার খাস কালেকশনের ওই ১৫ হাজার টাকা থেকে আংশিক টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে বাকি টাকা ইউএনও তার নিজ পকেটে রেখে দেন। এভাবে গত এক বছর ধরে খাস কালেকশনের সরকারি টাকা তিনি আত্মসাৎ করে আসছেন।

এ বিষয়ে যাদবপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান ওই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইছাক আলীর ভাগ্নে এমারত হোসেন বলেন, তিনি প্রতি সপ্তাহ সোমবার খাস কালেকশনের ১৫ হাজার টাকা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা উজ্জ্বল ও আক্কাস আলীর কাছে জমা দেন। তবে ১৫ হাজার টাকার কোনো রিসিভ তাকে দেওয়া হয় না।

যাদবপুর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইছাক আলী বলেন, ‘খাস কালেকশনের তিনি একজন সদস্য। কিন্তু প্রতি সপ্তাহ ১৫ হাজার টাকা উজ্জ্বল ও আক্কাস আলীর মাধ্যমে ইউএনও নিয়ে নেয়। খাস কালেকশনের একটি টাকাও ইউনিয়ন পরিষদে দেয়নি ইউএনও।’

যাদবপুর ভূমি অফিসের অফিস সহকারী উজ্জ্বল মিয়া ও অফিস উপ-সহকারী আক্কাস আলী বলেন, প্রায় এক বছর ধরে প্রতি সপ্তাহ সোমবার খাস কালেকশনের ১৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে ইউএনও’র কাছে জমা দেন তারা।

তারা বলেন, ‘আপনরা নিউজ কইরেন না নিউজ করলে নিচে দিকে পানি গড়াবে। ইউএনও স্যার অনেক ক্ষমতাশীল, আমাদের চাকরি সমস্যা হবে। স্যার বলে টাকা আমার কাছে জমা রাখো, আমিই সরকার।’

ধানতারা হাটবাজার সাবেক ইজারাদার বাবু মিয়া বলেন, ‘করোনার ভয় দেখিয়ে আমাকে ইজারার টাকা উত্তোলন করতে দেয়নি ইউএনও। তিনি তার লোকবল দিয়ে খাস কালেকশনের টাকা উঠিয়েছেন। আমার জমা করা ৫ লাখ টাকাও তিনি দেয়নি।’

ধানতারা হাট-বাজারের সরকারি খাস কালেকশনের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও সামিউল হক বলেন, ‘আপনারা বগিজগি বাদ দেন।’ এটা বলে ফোন রেখে দেন।

সূত্র: আমাদের সময়
এম ইউ/১০ জুলাই ২০২১

Back to top button