নোয়াখালী

ভূয়া র‌্যাব পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করায় ২ জন গ্রেপ্তার

নোয়াখালী, ১০ জুলাই- নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ ও সেনবাগ উপজেলার পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে মাঈন উদ্দিন (৩৩) ও আব্দুল মান্নান পণ্ডিত (৪৬) নামের দুজনকে আটক করেছে র‌্যাব। তারা র‌্যাবের ভুয়া পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। গতকাল শুক্রবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও তিনজন পলাতক রয়েছেন। আটক দুজন র‌্যাব ও র‌্যাবের সোর্স পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন।

আজ শনিবার দুপুরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে বেগমগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আটক দুজনের মধ্যে মাঈন উদ্দিন বেগমগঞ্জ উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের রফিকপুর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে ও আব্দুল মান্নান একই গ্রামের ইমাম আলীর ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আটক মাঈন উদ্দিন ও আব্দুল মন্নানসহ পাঁচজন র‌্যাব সদস্য ও র‌্যাবের সোর্স পরিচয় দিয়ে স্কুলের শিক্ষকসহ এলাকায় বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় আসামিরা র‌্যাবের একটি প্যাড তৈরি করে তাতে স্থানীয় লোকজনের একটি নামের তালিকা তৈরি করেন। পরে ওই তালিকায় উল্লেখিত ব্যক্তিদের দ্রুত র‌্যাব গ্রেপ্তার করবে-এমন হুমকি প্রদান ও তালিকা থেকে তাদের নাম কাটার জন্য ২০-৩০ হাজার করে টাকা দাবি করেন। এরই মধ্যে তারা একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার রাতে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে দক্ষিণ রফিকপুর গ্রামের রফিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অভিযান চালায় র‌্যাব-১১, সিপিসি-৩ লক্ষ্মীপুর ক্যাম্পের একটি দল। অভিযানকালে বিদ্যালয়ের পাশের সড়ক থেকে মাঈন উদ্দিনকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে স্থানীয় ৩২ ব্যক্তির নামের তালিকার র‌্যাবের ভুয়া প্যাড, নগদ টাকা ও একটি মোবাইল জব্দ করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে আরেক আসামি আব্দুল মন্নান পণ্ডিতকে আটক করা হয়।

এ বিষয়ে র‌্যাব-১১ সিপিসি-৩ লক্ষ্মীপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার মো. শামীম হোসেন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে আটক আসামিরা দীর্ঘ দিন ধরে পরস্পর যোগসাজসে সুকৌশলে র‌্যাবের ডুপ্লিকেট (ভুয়া) প্যাড তৈরি করে তাতে বিভিন্ন লোকের নামের তালিকা করে, নিজেদের র‌্যাবের সোর্স পরিচয় দিয়ে, কখনো র‌্যাবে তাদের লোক আছে বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করে আসছিলেন। এ চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তথ্যসূত্র: আমাদের সময়
এস সি/ ১০ জুলাই

Back to top button