সিলেটের সড়কে নতুন করে তৈরি হচ্ছে রিকশা লেন
সিলেট, ০৬ জুলাই – ২০১৪ সালে সিলেটের বন্দরবাজার ও আশপাশের সড়কে রিকশার জন্য আলাদা লেন তৈরি করা হয়েছিলো। লোহার খুঁটির সাথে শিকল বেঁধে এসব লেন তৈরি করা হয়েছিলো। কিন্তু বছর যেতে না যেতেই এসব রিকশা লেন পরিণত হয় হকার পুণবার্সন কেন্দ্রে। রিকশা লেনের পুরো এলাকা ভ্রাম্যামান ব্যবসায়ীরা দখল করে নেয়। ফলে যানজট নিরসনের জন্য যে লেন তৈরি করা হয়েছিলো তা পরিণত হয় যানজটের কারণ হিসেবে।
এ অবস্থায় ২০১৭ সালের দিকে রিকশার জন্য আলাদা লেন তুলে নেয় সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। তবে এবার আবার নতুন করে রিকশার জন্য লেন তৈরি করছে সিসিক। এসব আর শেকল দিয়ে নয়, সড়কের উপর রীতিমত দেয়াল তুলে রিকশা লেন তৈরি করা হচ্ছে।
সোমবার থেকে নগরের বন্দরবাজার সিটি করপোরেশনের সামনে থেকে প্রধান ডাকঘর হয়ে লালদিঘীর পাড় পর্যন্ত সড়কে এই দেয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করে সিসিক।
সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা বলছেন, নগর ভবনের সামনের এই সড়কে ফুটপাত ও সড়কের অনেকটা ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীরা দখল করে রাখে। ফলে সড়কজুড়ে তীব্র যানজট দেখা দেয়। ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীদের কাছ থেরকে সড়ক দখলমুক্ত রাখা ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে রিকশার জন্য আলাদা লেন করা হচ্ছে। আগের বার রিকশা লেন করে সুফল পাওয়া না গেলেও এবার সুফল মিলবে বলে জানিয়েছেন সিসিকের কর্মকর্তারা।
সোমবার দুপুরে বন্দরবাজার সড়কে গিয়ে দেখা যায়, নগরের অন্যতম এই ব্যস্ত সড়ক লকডাউনের কারণে একেবারে ফাঁকা। ফাঁকা সড়কে ইট-সিমেন্ট দিয়ে দেওয়াল তুলছেন শ্রমিকরা। সিটি করপোরেশনের কয়েকজন কর্মকর্তা দাঁড়িয়ে এ কাজ তদারক করছেন।
তারা জানান, সড়কের উপর দেড় ফুট উচ্চতার গার্ড ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। এই গার্ড ওয়ালের ভেতরে ৪ ফুট জায়গা রাখা হয়েছে। যার ভেতর দিয়ে রিকশা-ভ্যান-সাইকেল এসব যানবাহন চলবে। আর গার্ড ওয়ালের বাইরের অংশ দিয়ে সব ইঞ্জিনচালিত যানবাহন চলবে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীদের উৎপাত কমবে এবং যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরে যানজটও অনেকটা কমে যাবে। এক সপ্তাহের মধ্যে এই কাজ শেষ হবে বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর বলেন, এই সড়কের পাশেই রয়েছে নগরভবন, সিলেট বিভাগীয় প্রধান ডাকঘর, কয়েকটি মার্কেট, কাঁচা বাজার। এছাড়া সিলেটের সবচেয়ে বড় পাইকারী বাজার কালিঘাট ও লালদিঘীর পাড়েও এদিক দিয়ে যাওয়া আসা করতে হয়। ফলে এমনিতেই এই সড়কে সব সময় যানবাহনের চাপ থাকে। এছাড়া ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীরা এই সড়কের অর্ধেকটা দখল করে দিনভর তাদের পণ্যের পসরা নিয়ে বসে ফলে এই সড়ক দিয়ে চলাচলই দায় হয়ে পড়ে। হকাররা যাতে না বসতে পারে এবং যানজট কমে আসে সে কারণে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আগেরবার উদ্যোগ নিয়েও সফল না হওয়া প্রসঙ্গে আলী আকবর বলেন, আগে রিকশা লেন করা হলেও চালকরা তা মানতেন না। তারা আগে যাওয়ার জন্য লেনের বাইরের অংশে চলে যেতেন। ফলে যানজট আরও বেড়ে যেতো। আর হকররাও ওই ণে দখল করে নিয়েছিলো। তবে এবার লেনের পাশে সিসিকের কর্মী থাকবে। কোনো রিতশা-ভ্যান যাতে লেনের বাইরে দিয়ে যেতে না পারে তারা এটি নজরদারি করবে।
তবে এটি সফল করতে পুলিশ প্রশাসনেরও সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানান এই প্রকৌশলী। তিনি বলেন, পুলিশের নির্দেশনা যেভাবে মানুষ মানে সিসিক কর্মীদের কথা সেভাবে মানতে চায় না।
তথ্যসূত্র: সিলেট টুডে ২৪
এস সি/০৬ জুলাই