দক্ষিন কোরিয়া

দ.কোরিয়ায় আরও ৫ বাংলাদেশি করোনা আক্রান্ত

সিউল, ২৯ মে – তৃতীয় বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে দক্ষিণ কোরিয়ায় ফিরে আসা নতুন ৫ জন বাংলাদেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের সবাই ইপিএস কর্মী।

২৬ মে এশিয়ানা এয়ারলাইন্সে চার্টার্ড ফ্লাইটে এই ৫ জনসহ মোট ৮৩ জন বাংলাদেশি কোরিয়া ফেরেন। করোনা পরিস্থিতিতে তারা দীর্ঘদিন দেশে আটকেপড়া ছিলেন। ফ্লাইটটি কোরিয়ান নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

গত ১১ মে কোরিয়ান এয়ারলাইন্সে বাংলাদেশ থেকে কোরিয়া ফেরা ৯০ বাংলাদেশির মধ্যে ২ জনের করোনা পজিটিভ ধরে পড়েছিল। নতুন আক্রান্তের এই খবর নিশ্চিত করেছেন এইচ আর ডি কোরিয়ার বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের কর্মকর্তা শামসুল আলম।

তিনি বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী সকল যাত্রীই এয়ারপোর্ট থেকে যার যার কোয়ারেন্টিন ঠিকানার নিকটস্থ কোভিড-ক্লিনিকে (সনবিয়ল জিল্লিয়োসো) গিয়ে টেস্ট করায়, তারপর যার যার রুমে কোয়ারেন্টিনে ঢুকে। কিন্তু ওই ফ্লাইটটির ৮৩ জনের মধ্যে ১৮ জন এয়ারপোর্টে পৌঁছানোর পরপরই স্বাস্থ্যগত কিছুটা অস্বাভাবিকতার কথা জানালে তাদের এয়ারপোর্টেই টেস্ট করা হয়। এর মধ্যে ৫ জনের করোনা পজিটিভ আসে’।

ইপিএস কর্মীদের ভ্রমণ আনুষ্ঠানিকতা ও বিদায় জানাতে গিয়েছিলেন ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের এইচ আর ডি কোরিয়ার বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের পরিচালকসহ এই কর্মকর্তা। ৫ জনের করোনা পজিটিভ নিশ্চিতের পর তারা দু’জনেই এখন হোম কোয়ারেন্টিনে চলে গেছেন।

এই তথ্য দিয়ে শামসুল আলম বলেন, ‘কোয়ারেন্টিন কনফার্মেশন ফর্ম ইস্যু করার জন্য এয়ারপোর্টে প্রতিবারের মতোই আমাদের পরিচালক এবং আমি গিয়েছিলাম। কোরিয়া ফেরা ইপিএস কর্মীদের সঙ্গে আমাদের সরাসরি স্পর্শ না হলেও পরোক্ষ স্পর্শ হয়েছে। আমাদের হাত থেকে কলম নিয়ে ওদের অনেকেই সাইন দিয়েছিল, সেই কলম আবার আমাদের হাতে এসেছে। সেজন্য আমার হেড অফিস থেকে আমাদের দু’জনকেই সেলফ কোয়ারেন্টিনে ঢুকতে নির্দেশ দিয়েছে। আমরা সে নির্দেশ পালন করছি’।

তিনি ইপিএস কর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানান, আগামীতে কোরিয়াতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসলেও নির্বোধের মতো টিকেট কেটে দেশে আসার আগে অন্তত একবার যাতে কোরিয়ার চিকিৎসা ব্যবস্থা ও অন্যন্য গৃহীত ব্যবস্থার আস্থা রাখার যেন চেষ্টা করে।

তিনি আরও জানান, কোরিয়া ফিরতে অনেক কর্মীকে ১৬ লাখ ৮৫ হাজার উয়ন দিয়ে ওয়ানওয়ে টিকেট এবং চড়া দামে কোয়ারেন্টিন হোটেল রুম সংগ্রহ করতে হয়েছে। কোরিয়ায় তৃতীয় দফা সংক্রমণের সংক্রমণ শুরু হয়েছে। আক্রান্তের যোগসূত্র সিউলের ব্যস্ততম এলাকা ইতাওয়ানের বার ও ক্লাবগুলোর পাশাপাশি কুরিয়ার সার্ভিস সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান কুপাংয়ের হেড অফিস।

বৃ্হস্পতিবার (২৮ মে) পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১১৩৪৪ জন, কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ৭৩৫ জন, সুস্থ হয়েছেন ১০৩৪০ জন, মৃত্যু ২৬৯ জন।

এন এইচ, ২৯ মে

Back to top button