দখলকৃত এলাকায় নারীদের পুরুষ অভিভাবক ছাড়া বের হওয়া নিষিদ্ধ

কাবুল, ০৩ জুলাই – আফগানিস্তানে যেসব এলাকা দখল করেছে তালেবনারা সেখানে কঠোর ও পশ্চাদগামী বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। সুশীল সমাজের অ্যাক্টিভিস্ট ও স্থানীয়রা এই দাবি করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এখবর জানিয়েছে।
আফগানিস্তানের সম্প্রচারমাধ্যম আরিয়ানা নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দখলকৃত এলাকায় পুরুষদের দাড়ি রাখতে নির্দেশ জারি করেছে তালেবান। এছাড়া পুরুষ অভিভাবক ছাড়া নারীদের ঘর থেকে বের হওয়া নিষিদ্ধ এবং বিয়ে করতে ইচ্ছুক নারীদের জন্য যৌতুকের নীতিমালা জারি করা হয়েছে।
এই খবরটি সামনে আসার পর ১৯৯০ দশকের গোঁড়া ও অতিরক্ষণশীল আফগান সমাজে ফিরে যাওয়ার আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ওই সময় তালেবান কঠোর হস্তে দেশ পরিচালনা করত।
আফগান প্রদেশ তাখারের এক সিভিল সোসাইটি অ্যাক্টিভিস্ট মিরাজুদ্দিন বলেন, এক বিবৃতিতে তালেবান নারীদের আহ্বান জানিয়েছে পুরুষ আত্মীয় ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার জন্য। তারা পুরুষদের আহ্বান জানিয়েছে দাড়ি রাখতে এবং নাপিতদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুরুষদের দাড়ি না কাটার জন্য। এছাড়া অনুমোদিত স্টাইল ছাড়াও চুল কাটতে পারবে না নাপিতরা।
এসব বিধিনিষেধের পাশাপাশি তালেবানের দখলকৃত অঞ্চলে খাদ্য পণ্যের দাম বাড়ছে। তাখার প্রাদেশিক কাউন্সিলের সদস্য আজম আফজালি বলেন, মানুষ সংকটে পড়ছেন। কোনও সেবা নেই। ক্লিনিক ও স্কুল বন্ধ।
প্রদেশের গভর্নর আব্দুল্লাহ কারলুক দাবি করেছেন, তালেবান দখলকৃত এলাকায় বেশ কয়েকটি সরকারি ভবন গুড়িয়ে দিয়েছে।
তাখারের অ্যাক্টিভিস্টরা আফগান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তালেবানদের উৎখাতে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনার জন্য।
তবে তালেবান গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এমন বিধি নিষেধ জারির করা অস্বীকার করা হয়েছে। তারা এগুলোকে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
উল্লেখ্য, ২০ বছর আফগানিস্তানে তালেবানে বিরুদ্ধে যুদ্ধের পর সেনা প্রত্যাহার প্রায় সম্পন্ন করার পথে যুক্তরাষ্ট্র। তালেবান ও আফগান সরকারের মধ্যে কোনও শান্তিচুক্তি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের চলে যাওয়াতে দেশটিতে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন অবস্থায় তালেবানরা তাদের হামলা জোরদার করেছে।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
এম ইউ/০৩ জুলাই ২০২১









