নোয়াখালী

আমি ওবায়দুল কাদেরের রক্তচক্ষুকে ভয় পাই না: কাদের মির্জা

নোয়াখালী, ২৮ জুন – স্থানীয় পর্যায়ে অপরাজনীতির হোতাদের সুযোগ করার জন্য নিজের বড়ভাই এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে দোষারোপ করেছেন বসুরহাট পৌর মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা। তিনি বলেন, ‘আমি কোনও নেতার তোয়াক্কা করি না। আমি ওবায়দুল কাদেরের ভাত খাই না। ওবায়দুল কাদেরের রক্তচক্ষুকেও ভয় করি না। ওবায়দুল কাদের কোম্পানীগঞ্জের রাজনীতিকে অপরাজনীতির হোতাদের হাতে তুলে দিতে চান। এটা কোম্পানীগঞ্জের আওয়ামী লীগের কর্মীরা মানবে না। আপনার এই খেলা খেলবেন না, ওবায়দুল কাদের সাহেব।’

রবিবার (২৭ জুন) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ‘করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব, লকডাউন ও শাটডাউন’, ‘অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ’, ‘বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা’ ও ‘নোয়াখালীর অপরাজনীতি’ প্রসঙ্গে লাইভে এসে এসব কথা বলেন তিনি।

এসময় তিনি কোম্পানীগঞ্জের নেতা বাদলের গ্রেফতার ও জামিন প্রসঙ্গে বলেন, গত ১৪ অথবা ১৫ মার্চ কোম্পানীগঞ্জের অপরাজনীতির হোতা বাদল গ্রেফতার হন। তার তিনটি মামলার মধ্যে একটি মামলার জামিন দেওয়া হয় ১৯ তারিখ। অপর দুই মামলার শুনানি ছিল ২৪ তারিখ। অথচ দুই ঘণ্টা পর বাদলকে ওই দুই মামলায় কীভাবে জামিন দিলেন? আর আমাদের ছেলেদের জামিন হয় না। এক দেশে দুই আইন কীভাবে চলতেছে?

কাদের মির্জা আরও বলেন, নোয়াখালীর অপরাজনীতির হোতা খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম ও একরামুল করিম চৌধুরী নাকি এখন ঢাকায়। নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ওবায়দুল কাদেরের ঘোষিত কমিটি। কিন্তু দলের কাউন্সিলরদের নির্বাচিত কমিটি নয়। ওবায়দুল কাদের সাহেবের ঘোষণার পরেও সেন্ট্রাল কমিটির অনুমোদন ছাড়া তারা কীভাবে বহাল থাকে। আর কোন ক্ষমতাবলে তারা বিভিন্ন উপজেলায় খবরদারি করে।

তিনি আরও বলেন, নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেবের কাছে পদত্যাগ চেয়েছিলেন। আমি বলি আপনারা দুই জন যদি নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন, দলমত নির্বিশেষে সবাই আপনাদের স্বাগত জানাবে। আল্লাহও খুশি হবে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুল আনম সেলিমের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোম্পানীগঞ্জের প্রতিটি ঘটনার জন্য আপনি দায়ী। বঙ্গবন্ধু চত্ত্বরে দাঁড়িয়ে আপনি কী বলেছিলেন? এই বৃদ্ধ বয়সে এসে আপনি আপনার বিবেককে বিক্রি করে দিয়েছেন। আসলে আপনি একটা মেরুদণ্ডহীন প্রাণী। একরামুল করিম চৌধুরীর ২৫ শতাংশ অপরাধের জন্য আপনি দায়ী। টাকার ভাগও ২৫ শতাংশ আপনি নেন। যদি প্রমাণ করতে না পারি, তবে হিজরত করবো। আপনার মতো নির্লজ্জকে যদি আবারও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হয়, তবে সেক্ষেত্রে অপরাজনীতির আরেকটা চমক ছাড়া আর কিছুই নয়।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আমার বাবাকে রাজাকার বলেছো। আমার নানাকে শান্তি কমিটির প্রধান বলেছো। আমার নানা ১৯৬৩ সালে মৃত্যুবরণ করেছে। শান্তি কমিটি হয়েছে ১৯৭১ সালে। কীভাবে শান্তি কমিটির প্রধান হয়, তোমাকে জবাব দিতে হবে।

এর আগে, তিনি করোনার বিষয়ে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ বিষয়ে জনগণকে অবহিত করেন ও তা মেনে চলার আহ্বান জানান।

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন
এন এইচ, ২৮ জুন

Back to top button