পশ্চিমবঙ্গ

বিজেপির ডাকা বৈঠকে ৩৬ জনের মধ্যে ১০ জন বিধায়ক গরহাজির

কলকাতা, ২৭ জুন – মুকুল রায় বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরতেই বিজেপির অন্দরে কাজিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজ্যে দু-ভাগ বিজেপির বিধায়করা। খোদ মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা পরিষদীয় দলের বৈঠকে গরহাজির একাংশ বিধায়ক। সুদীপ রায়বর্মনসহ মুকুল রায়-ঘনিষ্ঠ বিজেপির বিধায়করা মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক এড়িয়ে কী ইঙ্গিত করলেন, তা নিয়েই চড়তে শুরু করেছে জল্পনা।

বিধায়কের একটা বড় অংশ অনুপস্থিত শুক্রবার সন্ধ্যায় ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব পরিষদীয় দলের বৈঠক ডেকেছিলেন। এই দু-ঘণ্টার বৈঠকে বিজেপির ৩৬ বিধায়কের একটা বড় অংশ অনুপস্থিত ছিলেন। এদিনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, রাজ্যের সরকার উন্নয়নমূলক যে সমস্ত কাজ করছে তার যথাযথ প্রচার নিয়ে। প্রচার বাড়ানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের দুই বিধায়ককে।

১০ বিধায়কের অনুপস্থিতি নিয়ে জল্পনা শুরু এদিনের বৈঠকে নজর ছিল মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের বিরোধী গোষ্ঠীর বিধায়করা এই বৈঠকে আসেন কি না! দেখা যায়, ৩৬ জনের মধ্যে ১০ জন বিধায়ক গরহাজির ছিলেন বৈঠকে। সুদীপ রায়বর্মনসহ ১০ বিধায়কের অনুপস্থিতি নিয়ে জল্পনা শুরু হয়ে যায় এরপর। উল্লেখ্য, এই ১০ বিধায়কও সুদীপ রায়বর্মন শিবিরের। তাঁরা প্রত্যেকেউ মুকুল-ঘনিষ্ঠও বটে। টিকাকরণের সর্বোচ্চ রেকর্ডও দেশে তৃতীয় ওয়েভ‌কে রুখতে পারবে না, মত বিশেষজ্ঞদের মুকুল-ঘনিষ্ঠ সুদীপের অনুগামীরা অনুপস্থিত বিপ্লব দেব আসলে বৈঠক ডেকেছিলেন, তাঁর সরকারের প্রতি কতজন বিধায়ক আস্থাশীল তা দেখার জন্য। সেখানে দেখা যাচ্ছে- বিপ্লব দেবের পক্ষে বৈঠকের সার সুখকর নয়। সুদীপ রায়বর্মন, রামপ্রসাদ পাল, পরিমল দেববর্মন, আশিস দাস, আশিসকুমার সাহা-রা প্রায় সবাই মুকুল রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন। তাঁরাই গরহাজির থাকলেন মন কী বাত অনুষ্ঠানে মিলখা সিংকে শ্রদ্ধার্ঘ মোদীর, জাতির উদ্দেশে দিলেন ভ্যাকসিন নিয়ে বড় বার্তা জল্পনায় ত্রিপুরার উপমুখ্যমন্ত্রী যিষ্ণু দেববর্মাও আবার শুধু মুকুল রায় ঘনিষ্ঠ সুদীপ রায়বর্মনের অনুগামীরাই নন, বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার উপমুখ্যমন্ত্রী যিষ্ণু দেববর্মাও। যদিও তিনি তাঁর বৈঠকে হাজিরার কথা জানিয়েছিলেন আগে থেকেই। তাঁর পূর্ব নির্ধারিত অনুষ্ঠান থাকায় তিনি বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারবেন না বলে জানিয়ে গিয়েছিলেন। তবে ত্রিপুরা বিজেপির একাংশ সরব বিপ্লব দেবের পরিবর্তে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করতে। ফলে ঠান্ডা লড়াই চলছেই। সুদীপ রায়বর্মন ও তাঁর অনুগামীরা দল ছাড়লে… কিন্তু সুদীপ রায়বর্মন ও তাঁর অনুগামীদের নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন বিপ্লব দেব। তাঁরা যদি সদলবদলে বিজেপি ছাড়েন, তাতে তাঁর সরকার সমস্যায় পড়তে বাধ্য। সংখ্যার বিচারে পিছিয়ে পড়বে বিজেপি। সংখ্যালঘু হয়ে পড়বেন ত্রিপুরার গেরুয়া সরকার। কেননা ৬০ আসন বিশিষ্ট ত্রিপুরা বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার ৩১। বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা তার থেকেও নিচে নেমে যাবে।

সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া
এম ইউ/২৭ জুন ২০২১

Back to top button