ফরিদপুর

মহামারীর মধ্যেও নিয়মিত শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন শারমিন রহমান

ফরিদপুর, ২৬ জুন- ‘বাংলাদেশ আলোকিত প্রাথমিক শিক্ষক পেজ’ এ ৫ম শ্রেণির একটি ইংরেজি ক্লাস ৩ দিনে ১৯ হাজার ভিউ হয়েছে। ক্লাসটি গুগল মিটে গত ২৩ জুন নিয়েছেন ভাঙ্গার ২২ নং ঘারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা শারমিন রহমান সুইট। গত বছর মহামারী করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করছেন ও পাঠ দান করছেন তিনি। এর পাশাপাশি অনলাইনে নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন। এখন গুগল মিটেও লাইভ ক্লাস নিচ্ছেন।

শারমিন রহমান সুইট এর বাড়ি ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের পূর্ব সদরদী গ্রামে। বাড়ি থেকে কর্মস্থল ঘারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ৮ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন। আপন করে নিয়েছেন শিক্ষার্থীদের।

এলাকাবাসী জানান, করোনার আগে বিদ্যালয়ের গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিজের বাড়িতে রেখে সন্তান স্নেহে তাদের পাঠদান করেছেন। শুধু পাঠ্যপুস্তক নয়, শিক্ষার্থীদের আবৃত্তি, বিতর্ক, নাচ ও সংগীত চর্চা করিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সচেতন করেছেন।
২০২১ সালে করোনা শুরু হলে শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করেছেন ও তাদের সচেতন করেছেন।

ঘারুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাজকুমার পাল বলেন, শারমিন ম্যাডাম আমাদের বাড়িতে এসেও পড়া বুুঝিয়ে দিয়েছেন। নিয়মিত খোঁজ নিয়েছেন। আমাদের মধ্যে যাদের স্মার্ট ফোন রয়েছে তাদের গুগল মিট খুলে দিয়েছেন। আমাদের এখন গুগল মিটে লাইভ ক্লাস নিচ্ছেন।

শিক্ষকতার পাশাপাশি শারমিন রহমান সুইট একজন লেখক। ২০২০ সালে তার গল্পগ্রন্থ ‘কয়েদি নম্বর ৩৩২’ ও ২০২১ সালে গবেষণা গ্রন্থ ‘নির্মাতা তারেক মাসুদ’ প্রকাশিত হয়।

শারমিন রহমান সুইট বলেন, আমার স্কুল শিক্ষিকা মায়ের নিকট থেকে আমি প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত হই। চাকরি জীবনের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের সন্তানের মতো জেনেছি। সব সময় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে থাকি। করোনার পুরো সময়ে শিক্ষার্থীদের খোঁজ নিয়েছি। বাড়িতে গিয়ে পাঠদান করেছি। ভাঙ্গা উপজেলায় প্রথম অনলাইন ক্লাস ও গুগল মিটে লাইভ ক্লাস আমিই নিয়েছি।

ঘারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ঘারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি সফিউদ্দিন মোল্লা বলেন, শারমিন রহমান সুইট একজন ভাল শিক্ষিকা, ভাল মানুষ। তিনি সব সময় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের প্রতি উৎসাহিত করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন
এস সি/২৬ জুন

 

Back to top button