মধ্যপ্রাচ্য

রাইসির কারণে কি ইরান পরমাণু আলোচনা ভেস্তে যেতে পারে?

তেহরান, ২৪ জুন – সম্প্রতি ইরানে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন কট্টরপন্থি নেতা ইব্রাহিম রাইসি। প্রেসিডেন্ট হিসেবে রাইসিকে নিয়ে ইতিমধ্যেই শঙ্কা প্রকাশ করেছে ইসরায়েল ও তার মিত্ররা। এমন অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, রাইসির আমলে কি ইরান পরমাণু চুক্তি আলোচনায় ফিরতে পারবে, নাকি আলোচনা ভেস্তে যাবে। ইরানের সঙ্গে বিশ্বের ছয় শক্তিধর দেশের পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবনের ব্যাপারে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল, সেখানে নতুন আশঙ্কার ছায়া ফেলেছে ইরানে ক্ষমতার শীর্ষপদে পরিবর্তন।

ইব্রাহিম রাইসি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির বেশ ঘনিষ্ঠ এবং ইরানের সবচেয়ে রক্ষণশীল একজন নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর এরই মধ্যে কিছুটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন এই পরমাণু চুক্তি নিয়ে তার অবস্থান। নির্বাচিত হওয়ার পর গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনাকে তিনি স্বাগত জানান, কিন্তু এতে অবশ্যই ইরানের জাতীয় স্বার্থের নিশ্চয়তা থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেম নিয়ে কোনো দরকষাকষি চলবে না। আমরা কেবল আলোচনার স্বার্থে আলোচনা চাই না। আলোচনাকে প্রলম্বিত করা যাবে না। প্রতিটি বৈঠকের ফল হতে হবে। এখান থেকে ইরানের মানুষের জন্য একটা ফলাফল বেরিয়ে আসতে হবে।

ইরানের সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ছয়টি দেশ ২০১৫ সালে যে পরমাণু চুক্তি করে, সেটির লক্ষ্য ছিল দেশটি যেন এই কর্মসূচি কেবলমাত্র শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করে এবং তারা যেন পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। এই চুক্তিতে সই করা ছয় শক্তিধর দেশ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া এবং জার্মানি। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। তার মতে, এই চুক্তিতে ইরানকে অনেক বেশি ছাড় দেওয়া হয়েছিল।

ইরানের সঙ্গে করা পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে আলোচনা অব্যাহত আছে গত এপ্রিল মাস থেকেই। ভিয়েনায় গত রবিবার ছয় দেশের প্রতিনিধি ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সর্বশেষ বৈঠক করেছেন। এই বৈঠক থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, আলোচনায় বেশ অগ্রগতি হচ্ছে। তবে রবিবারের বৈঠকের পর আলোচনা আপাতত মুলতবি রাখা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা দেশে ফিরে গেছেন। এই আলোচনার লক্ষ্য হচ্ছে, ইরানের বিরুদ্ধে জারি করা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিনিময়ে তাদের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত পর্যায়ে আটকে রাখা।

সূত্র: দেশ রূপান্তর
এম ইউ/২৪ জুন ২০২১

Back to top button