পিরোজপুর

নাজিরপুরে ফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে হামলা, পুলিশসহ আহত ১৫

পিরোজপুর, ২২ জুন – পিরোজপুরের নাজিরপুরে ইউপি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এক মেম্বার প্রার্থীর কর্মীদের হামলায় পুলিশের দুই উপপরিদর্শক (এসআই) ও নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত আনসার সদস্যসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিজিবি সদস্যদের বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাতকাছিমা গ্রামে।

হামলার ঘটনায় ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. শাহ আলী আশ্রাফ বাদী হয়ে গতকাল রাতেই ৪৯ জনের নাম উল্লেখ ও ৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মো. রাকিবুল হাসান শেখসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ইউএনও মো. ওবায়দুর রহমান ওই হামলায় তার, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিজিবি সদস্যদের বহন করা তিনটি গাড়ি ভাঙচুরের তথ্য জানান।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল নির্বাচনের পরে ভোট গণনা শেষে রাত ৮টার দিকে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার কাজ শেষ হয়। এ সময় ওই ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী মো. আলমগীর হোসেনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। কিন্তু কিছু সময় পর বিজয়ী আলমগীর হোসেনের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. কামরুল হোসেন মোল্লার কিছু ব্যালট বিজয়ী প্রার্থীর বাল্ডিলে রয়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় প্রতিদ্বন্দ্বী কামরুল মোল্লার কর্মীরা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ওই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং অফিসারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন ও কেন্দ্রে হামলা চালায়।

ওই হামলায় কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা পুলিশের এসআই ইমাম হাসান মো. বাচ্চু মিয়া এবং পুলিশ সদস্য মো. নুরুল আমীন, ছগির হোসেন, দেব দুলাল হালদার, ইউএনও’র দেহরক্ষী সাইমুন হোসেন, আনছার সদস্য ইমারেজ ফকির, মো. আমিন ফকির, মো. শাহ আলম, নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত সালমা বেগম, স্থানীয় সায়েব আলী শেখের ছেলে রিয়াজ শেখ (৫৬), হাসনা বানু (৮০), ছাত্রলীগ নেতা রাকিব শেখ আহত হন।

এ ঘটনায় গতকাল রাতেই পুলিশ সুপার মো. হায়াতুল ইসলাম খান সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে নাজিরপুর যান।

নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুজ্জামান ওই সংঘর্ষের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, হামলা ও সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে গুলি ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

সূত্র : আমাদের সময়
এন এইচ, ২২ জুন

Back to top button