ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁওয়ে একদিনে ৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৭৭

ঠাকুরগাঁও , ২১ জুন – ঠাকুরগাঁওয়ে করোনায় একদিনে আক্রান্ত তিনজন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়া সর্বোচ্চ ৭৭ জন করোনা সংক্রমণ রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

এনিয়ে জেলায় করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৫৭ জনে আর জেলায় এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল দুই হাজার চারশ’ ১০ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৬৫০ জন। এর আগে গত ১৭ জুন জেলায় সর্বোচ্চ ৬৪ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। রবিবার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজার রহমান সরকার।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, ঠাকুরগাঁও জেলায় সর্বশেষ একশ’ ৬৯টি নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টে ৭৭ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পরীলক্ষিত হয়। ৭৭ জনের মধ্যে সদর উপজেলায় রয়েছেন ৪৮ জন, রাণীশংকৈলে ১১ জন, বালিয়াডাঙ্গীতে ১১ জন, পীরগঞ্জে ৬ জন এবং হরিপুরে রয়েছেন একজন। এছাড়াও ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ও রংপুরের করোনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন ৩ জন। মৃত তিনজনের মধ্যে দু’জনের বাসা ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায়, তাদের একজনের বয়স ৭৯ বছর ও অন্যজনের ৫০ বছর এবং বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় মারা গেছেন একজন, তার বয়স হয়েছিল ৫২ বছর।

জেলায় করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ হিসেবে সাধারণ মানুষের অসচেতনতাকেই দায়ী করে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজার রহমান সরকার জানান, করোনার এই পরিস্থিতিতে এখনো মানুষজনকে মাস্ক ছাড়াই ঘোড়াঘুড়ি করতে দেখা যায়, অনেকেই মানেন না সামাজিক দুরত্ব। এ অবস্থা চলতে থাকলে জেলার করোনা পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলেও জানান তিনি।

গত বছরের ১১ এপ্রিল ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় দুইজন ও পীরগঞ্জ উপজেলায় একজনসহ জেলায় প্রথম তিনজন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছিলেন। করোনায় আক্রান্ত তিনজনেরই বয়স ছিল ১৮ থেকে ৩১ বছর। তারা সকলেই নারায়নগঞ্জে গার্মেন্টেসে কাজ করতেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে জেলায় করোনায় আক্রান্ত বাড়তে থাকে এবং বছরের শেষ দিকে তা শুন্যের কোটায় নেমে আসে। পরবর্তীতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসায় সম্প্রতি মাত্রাতিরিক্তভাবে করোনায় সংক্রমণের হার বাড়তে শুরু করেছে।

সূত্র : একুশে
এন এইচ, ২১ জুন

Back to top button