উত্তর আমেরিকা

মার্কিনিরা করোনায় মারা যাওয়া স্বজনদের দেখতে পাচ্ছেন

ওয়াশিংটন, ২১ জুন – মিশেল হর্নের সঙ্গে বিয়ের দিন বেগুনি রঙের টাই পরেছিলেন ইয়ান। কারণ এটি ছিল মিশেলের প্রিয় রঙ। বিয়ের ১০ বছরের মাথায় ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে করোনা মহামারি শুরু হয়। দীর্ঘদিন করোনা সংক্রমণ পরবর্তী জটিলতায় ভুগে মারা যান মিশেল। এর কয়েক দিনের মাথায় অত্যাশ্চার্য কিছু জিনিস দেখতে শুরু করেন ইয়ান। ভোররাতে তিনি যখন কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন, তখন সড়কের অন্তত দুই ডজন সাদা রঙের বাতি হঠাৎ করে বেগুনি রঙের আলো দেওয়া শুরু করে। পুরো মহাসড়ক যেন বেগুনি রঙে রঙ্গিন হয়ে গেছে।

স্থানীয় একটি রেডিও স্টেশনের অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়ান বলেন, ‘মিশেল জানতো আমি প্রতিদিন ভোরে কাজে যাওয়ার সময় এই সড়ক ব্যবহার করি এবং এই সড়ক দিয়েই তাকে শেষবার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মিশেল আমার খুব কাছে আছে ভেবে আমার মন আনন্দে ভরে উঠেছিল এবং এটা ভেবে ছোট্ট করে হেসেছিলাম।’

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা মহামারি ছয় লাখের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। অনেকে তাদের স্বজনদের শেষ মুহূর্তে বুকে জড়িয়ে ধরতে পারেননি। কারণ করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় এই স্বজনদের হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছিল।

করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের অনেক স্বজন এখন দাবি করছেন, পৃথিবী ছেড়ে যাওয়া প্রিয়জনরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। কেউ বলছেন, রাতের বেলা মৃত স্বজনরা তাদের কাঁধ স্পর্শ করছে, কেউ দাবি করছেন অদৃশ্য আওয়াজ দিয়ে স্বজনরা তাদের সতর্ক করছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, সদ্য মৃত স্বজনরা রাতে বিছানায় তাদের পায়ের কাছে এসে বসে থাকে।

শনিবার সিএনএন এক প্রতিবেদনে বলেছে, এ ধরনের গল্পগুলো অবাস্তব মনে হলেও এগুলোর ঐতিহাসিক ধারা রয়েছে। আমাদের মনের ভেতরে এমন কিছু রয়েছে, যা প্রিয়জনদের বিদায় মেনে নিতে পারে না। মহামারি, যুদ্ধ কিংবা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মতো বড় ধরনের বিয়োগান্তক ঘটনার ক্ষেত্রে বিপরীত প্রতিক্রিয়া হিসেবে মানুষের মধ্যে মৃত স্বজনদের দেখা কিংবা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ চেষ্টার প্রবণতা দেখা দেয়।

১৯১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ইনফ্লুঞ্জা মহামারির সময় মৃত স্বজনদের আত্মাকে ডেকে আনার বাতিক দেখা দেয়। নাইন ইলেভেনে টুইন টাওয়ারে হামলার পর অনেক মার্কিনি দাবি করেন, তারা মৃত স্বজনদের দেখেছেন কিংবা তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেছেন। ২০১১ সালে জাপানে সুনামির আঘাতে ২০ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়। সুনামি বিধ্বস্ত ইশিনোমাকি এলাকার বাসিন্দারা দাবি করেন, তারা মৃত স্বজনদের দেখেছেন।

মনোবিজ্ঞানে এটি খুবই সাধারণ একটি বিষয়। এই বিষয়টি এডিসি অর্থাৎ আফটার ডেথ কমিউনিকেশন্স (মৃত্যুর পরে যোগাযোগ) বলে অভিহিত করা হয়। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ছয় কোটির বেশি মার্কিনির এই অভিজ্ঞতা হয়েছে।

এই বিষয়টি নিয়ে বহু বছর কাজ করেছেন স্কট জ্যানসিন। তার ভাষ্য, ‘আমার দুনিয়ায় এগুলি স্বাভাবিক খবর। মহামারি কিংবা ব্যাপক গণমৃত্যুর ঘটনার সময় এগুলো ব্যাপক পরিমাণে বেড়ে যায়, যা শোক ও মানসিক আঘাতের কারণে ঘটে থাকে।’

সূত্র: রাইজিংবিডি
এম ইউ/২১ জুন ২০২১

 

Back to top button