বরগুনা

বরগুনায় ভোটের আগের রাতে সহিংসতা: চেয়ারম্যান প্রার্থীর স্ত্রীসহ আহত ২০

বরগুনা, ২১ জুন- ভোটের আগের রাতে বরগুনার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে পৃথক পৃথক সহিংসতায় কমপক্ষে ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বরগুনার বেতাগী উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. ইউসুফ শরীফের বাড়িতে ঢুকে তার স্ত্রীসহ ১২ জনকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ উঠেছে। এসময় বসত-ঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। রবিবার (২০ জুন) রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউসিুফ শরীফের পরিবারের অভিযোগ, একই ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী ইমাম হাসান শিপনের লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এছাড়াও একই উপজেলার বেতাগী সদর ও বরগুনা সদর উপজেলার নলটোনা ইউনিয়নে পৃথক ঘটনায় তিন জনকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়েছে।

ইউসুফ শরীফের ছেলে হামিম শরীফ বলেন, ইমাম হাসান শিপনের শতাধিক সমর্থক মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে এসে অতর্কিতভাবে আমাদের বাড়িতে ঢুকে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এসময় তারা আমার মাসহ ১২ জনকে কুপিয়ে জখম করে। পরে আমাদের ঘর ও গোয়ালঘরে অগ্নিসংযোগ করে চলে যায়। পরে এলাকাবাসী ও বেতাগী দমকল বাহিনীর সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

আহতদের মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী ইউসুফ শরীফের স্ত্রী তাসলিমা আক্তারের (৪৮) নাম জানা গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এছাড়া আহতদের অন্যদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নারী রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ইউসুফ শরীফের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে বেতাগীর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা মিজান সালেহ বলেন, আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট সেখানে গিয়ে আধাঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী ইমাম হাসান শিপন অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, আমার কোনও কর্মী সমর্থক এ ঘটনায় জড়িত নয়। নির্বাচনের আগ মুহূর্তে আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ সু-পরিকল্পিত। আমি চাই পুলিশ সঠিক রহস্য উদঘাটন করুক।

এদিকে রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নলটোনা ইউনিয়নের গর্জনবুনিয়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় বাতেন (৩৫) নামের একজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। আহত বাতেনকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নৌকার প্রার্থী আলমগীর বিশ্বাসের দাবি, স্বতন্ত্র প্রার্থী হুমায়ুন কবিরের সমর্থকরা মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে বাতেনকে কুপিয়ে ব্রিজের নিচে ফেলে রেখে যায়। পরে তাকে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হুমায়ুন কবির।

এছাড়া বেলা ১টার দিকে বেতাগী সদর ইউনিয়নের ঝোপখালি ব্রিজের পাশে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক মাহমুদ সিকদার মনির (৪০) ও জাহাঙ্গীর নামের দু’জনকে কুপিয়ে জখম করা হয়।

বেতাগী উপজেলার সদর ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী হুমায়ুন কবির খলিফার অভিযোগ, স্বতন্ত্র প্রার্থী খম ফাহরিয়ার সংগ্রাম আমিনুলের কর্মীরা ওই দুজনকে কুপিয়ে জখম করে ফেলে রেখে যায়। পরে তাদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়।

তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইউপি সদস্য প্রার্থীদের দ্বন্দ্বে এ ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর ও বেতাগী সার্কেল) মেহেদী হাসান বলেন, সরিষামুড়ি ঘটনায় খবর পেয়ে বেতাগী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও বেতাগী সদর বরগুনা সদরের নলটোনার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ।

তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
এস সি/২১ জুন

Back to top button