জাতীয়

পদ্মা সেতুতে রেলপথের স্ল্যাব বসানো শেষ

মুন্সিগঞ্জ, ২০ জুন – পদ্মা সেতুর রেলপথের সবগুলো স্ল্যাব বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রোববার বিকেল ৪টায় ২ হাজার ৯৫৮ ও ২ হাজার ৯৫৯ নম্বর স্ল্যাব দুটি বসানো হয়। এর মধ্য দিয়ে শেষ হয় সেতুটির নিচতলার সবগুলো স্ল্যাব বসানোর কাজ।

রোববার ভোর থেকে আকাশে মেঘাচ্ছন্ন ভাব, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, সেই সঙ্গে পদ্মা উত্তাল থাকার পরও থেমে ছিল না সেতুর কাজ। তবে রেলওয়ে স্ল্যাব বসাতে বিলম্ব হয়েছে এ কারণে। লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে সেতুর নির্মাণ অগ্রগতি এগিয়ে নিতে সব প্রতিকূলতার মধ্যেও শ্রমিক, প্রকৌশলীরা ব্যস্ত ছিলেন। তাই শেষদিন স্ল্যাব দুটি বসানোর পর তাদের চেহারায় ছিল জয়ের হাসি।

রেলওয়ে স্ল্যাব বসানোর মাধ্যমে পদ্মা সেতুর নিচতলার মূল কাজ শেষ হয়েছে। এখন স্ল্যাবগুলোর ওপর রেললাইন বসানো হবে। এক্ষেত্রে সেতু কর্তৃপক্ষ রেল কর্তৃপক্ষের কাছে রেললাইন স্থাপনের জন্য কাজ বুঝিয়ে দেবে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল প্রকৌশলীরা।

ইতোমধ্যে রেললাইন নির্মাণের যন্ত্রাংশ সেতু এলাকায় আনা হয়েছে। নিচতলার স্ল্যাবের পাশেই গ্যাসলাইন বসানোর কাজ চলছে। এর আগে ১০ জুন রেলওয়ে স্টেনজার বা গার্ডার বসানোর কাজ শতভাগ শেষ হয়।

১২ ও ১৩নং স্প্যানের মাঝখানে ফাঁকা অংশে সর্বশেষ স্টেনজারটি বসানো হয়েছিল। প্রতিটি স্টেনজারের ওপরই আটটি করে রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো হয়েছে। স্প্যানের ওপর বসানো বিয়ারিংয়ের ওপর স্থাপন করা হয় স্টেনজার। তার ওপরে বসে রেলওয়ে স্ল্যাব।

২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের ওপর পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যানটি বসানো হয়। ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর সর্বশেষ ৪১তম স্প্যানটি বসানোর মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হয়। পদ্মা বহুমুখী সেতুর ৪২টি পিলারের ওপর ৪১টি স্প্যান স্থাপন করা হয়েছে।

এসব স্প্যানের ওপর এক হাজার ৩১২টি স্টেনজার এবং এর ওপর স্ল্যাবগুলো বসানো হয়। তবে স্ল্যাব বসাতে দেরি হয়েছে। কারণ গতবছর বর্ষা মৌসুমে (৩১ জুলাই ২০২০) প্রমত্তা পদ্মার ভাঙনে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে রক্ষিত পদ্মা সেতুর ১৯২টি স্টেনজারসহ স্ল্যাবগুলো নদীর পানিতে বিলীন হয়ে বালির নিচে চাপা পড়ে গিয়েছিল।

পাঁচ মাস পর নদীর পানি কমলে স্টেনজার ও স্ল্যাবসহ কিছু যন্ত্রাংশ তুলে পদ্মা তীরের ইয়ার্ডের পাশে রাখা হয়। পদ্মা সেতুর দায়িত্বশীল প্রকৌশলীরা জানান, দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় ওই স্টেনজার ও স্ল্যাব আর পদ্মা সেতুতে ব্যবহার করা হয়নি। নতুন করে কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে স্ল্যাব নির্মাণ করে সেতুতে স্থাপন করা হয়েছে। ফলে এখনই স্ল্যাবের ওপর দিয়ে হেঁটে এপার-ওপার যাওয়া-আসা করা সম্ভব।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রজব আলী জানান, পদ্মা সেতুতে দুই হাজার ৯৫৯টি রেলওয়ে স্ল্যাবের সবকটি বসানো হয়েছে। এছাড়া সেতুর ওপরের অংশে রোডওয়ে স্ল্যাব বসবে দুই হাজার ৯১৭টি। ইতোমধ্যে বসানো হয়েছে দুই হাজার ৬৮৯টি। বাকি ২২৮টি স্ল্যাব আগামী সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ বসানো সম্পন্ন হবে।

প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের জানান, পদ্মা সেতুর পিলার, স্প্যান, নিচের অংশে রেলওয়ে স্টেনজার, রেলওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ ধাপে ধাপে শেষ। এখন ওপর তলার রোডওয়েতে টার্গেট মাফিক কাজ চলছে। ২২৮টি রোডওয়ে স্ল্যাব বসানো বাকি। তবে বসানো স্ল্যাবের ওপর পিচ ঢালাইয়ের কাজ, র্যা লিং প্যারাপেট ওয়ালসহ অন্যান্য কাজও চলছে।

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং নির্মাণ প্রকল্প পদ্মা সেতু দুই স্তর বিশিষ্ট; স্টিল ও কংক্রিটে নির্মিত। সেতুর ওপরের স্তরে থাকবে চার লেনের সড়ক পথ আর নিচের স্তরে থাকবে রেলপথ। পদ্মা সেতু নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি আর রেললাইন নির্মাণ করছে চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড (সিআরইসি)।

সূত্র : সমকাল
এম এউ, ২০ জুন

Back to top button