জাতীয়

আজ আরও ৫৩ হাজার পরিবারকে নুতন ঘর দিবেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ২০ জুন – ‘মুজিব শতবর্ষে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’ এমন ঘোষণা দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরই মধ্যে ৭০ হাজার ভূমিহীন মানুষকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ রবিবার আরো ৫৩ হাজার ৩৪০টি অসহায় পরিবারকে উপহার দেওয়া হবে নতুন ঘর। আগামী ডিসেম্বর মাসেও এক লাখ পরিবারকে বিনামূল্যে জমিসহ ঘর দেওয়া হবে। ২০১৯ সালের ১২ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের যৌথ সভায় মুজিববর্ষ উদ্যাপনের সিদ্ধান্তের দিন এ ঘোষণা দিয়েছিলেন টানা চারবারের প্রধানমন্ত্রী। এত মানুষকে বিনামূল্যে বাড়িঘর দেওয়ার ঘটনা পৃথিবীতে নজিরবিহীন বলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার’ এই স্লোগানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর উদ্যোগে ৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৩টি পরিবারকে ঘর ও জমি দেওয়ার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। উপকারভোগীদের মধ্যে যাদের জমি আছে তারা শুধু ঘর পাবে। যাদের জমি নেই তারা ২ শতাংশ জমি পাবে (বন্দোবস্ত)। দুই কক্ষের প্রতিটি ঘর তৈরিতে খরচ হচ্ছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। সরকারের নির্ধারিত একই নকশায় হচ্ছে এসব ঘর। রান্নাঘর, সংযুক্ত টয়লেট থাকছে। টিউবওয়েল ও বিদ্যুৎ সংযোগও দেওয়া হচ্ছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মুজিব শতবর্ষ পালন করছে সরকার। বছরটিকে স্মরণীয় করে রাখতে জাতির পিতার উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন ৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৩টি পরিবারকে ঘর ও জমি দেওয়ার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন। খাস জমিতে গুচ্ছ ভিত্তিতে এসব ঘর তৈরি হচ্ছে। কোথাও কোথাও এসব ঘরের নাম দেওয়া হচ্ছে ‘স্বপ্ননীড়’, কোথাও নামকরণ হচ্ছে ‘শতনীড়’, আবার কোথাও ‘মুজিব ভিলেজ’।

আজ রবিবার নতুন করে ৫৩ হাজার ৩৪০টি অসহায় পরিবারকে ঘর দেওয়ার তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। তিনি গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানান, রবিবার ২০ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে দ্বিতীয় পর্যায়ে এসব পরিবারকে মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে বিনামূল্যে দুই শতক জমিসহ সেমিপাকা ঘর দেওয়ার কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

এত মানুষকে বিনামূল্যে বাড়িঘর দেওয়ার ঘটনা পৃথিবীতে নজিরবিহীন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে দ্বিতীয় পর্যায়ে এসব পরিবারকে মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে বিনামূল্যে দুই শতক জমিসহ সেমিপাকা ঘর দেওয়ার কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে আরো এক লাখ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে বিনামূল্যে জমিসহ ঘর দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব। একসঙ্গে এত মানুষকে বিনামূল্যে বাড়িঘর দেওয়ার ঘটনা পৃথিবীতে নজিরবিহীন মন্তব্য করে আহমদ কায়কাউস বলেন, বিভিন্ন দেশে ভূমিহীন, গৃহহীনদের ঘরবাড়ি নির্মাণের জন্য সুদবিহীন ঋণ দেওয়ার নজির থাকলেও ভূমিহীন-গৃহহীনদের ডেকে তাদের বাড়িঘর দেওয়ার এমন নজির আর নেই। মুখ্য সচিব বলেন, অসহায় মানুষকে এভাবে ঘর দেওয়াকে ‘অন্তর্ভুক্তি উন্নয়নে শেখ হাসিনার মডেল’ বলা যায়। বিশ্বে এটা নতুন মডেল। আগে কখনো কেউ এটা ভাবেনি। সরকার অসহায় ভূমিহীন-গৃহহীনদের ঘর দেওয়ার পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘অনিয়মের অভিযোগ এলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এখানে অনিয়মের বিষয়ে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স।’

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, পর্যায়ক্রমে দেশে দুই ধরনের মানুষকে ঘর করে দিচ্ছে সরকার। প্রথমত, যারা ভূমিহীন ও গৃহহীন। আরেক ধরনের মানুষ আছেন যাদের ১ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত জমি আছে কিন্তু ঘর নেই কিংবা থাকলেও একেবারে জরাজীর্ণ। গত বছরের জুন পর্যন্ত এই দুই ধরনের মানুষের তালিকাও করা হয়েছে। এর মধ্যে ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার ২ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬১টি। অন্যদিকে অল্প জমি আছে কিন্তু ঘরহীন বা থাকলেও জরাজীর্ণ এমন পরিবার আছে ৫ লাখ ৯২ হাজার ২৬১টি।

সূত্র আরো জানায়, দ্বিতীয় ধাপে ঘর বরাদ্দ করা হয়েছে ৫৩ হাজার ৫১৪টি। দ্বিতীয় ধাপের এ বরাদ্দ হয়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে ৯১২টি, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৬ হাজার ৪৪৮টি। ময়মনসিংহ বিভাগে আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে ১৪০টি, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ২ হাজার ৩৭২টি। চট্টগ্রাম বিভাগে আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে ১ হাজার ৪০১টি, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৯ হাজার ১৬১টি। রংপুর বিভাগে আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে ১২ হাজার ৩৯১টি। রাজশাহী বিভাগে আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে ১ হাজার ৫৬৮টি, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৫ হাজার ৬০৪টি। খুলনা বিভাগে আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে ৮১২টি, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৩ হাজার ৯৯টি। বরিশাল বিভাগে আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে ৭ হাজার ৬২৭টি। সিলেট বিভাগে আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে ২২৩টি, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১ হাজার ৭৫৬টি।

সূত্র : প্রতিদিনের সংবাদ
এন এইচ, ২০ জুন

Back to top button