জাতীয়

আগামী ডিসেম্বরেই মেট্রোরেল চালু করতে চায় সরকার

ঝর্ণা রায়

ঢাকা, ১৯ জুন – আসছে ডিসেম্বরেই চালু হচ্ছে স্বপ্নের মেট্রোরেল বা এমআরটি-৬। প্রথম পর্যায়ে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চালু করতে চায় সরকার। সে লক্ষ্যে এরইমধ্যে প্রথম মেট্রোরেলের প্রথম আইকনিক স্টেশন হিসেবে উত্তরা সেন্টার মেট্রোরেল স্টেশনের মূল অবকাঠামোর নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়েছে। পুরোদমে চলছে প্রকল্পে অন্যান্য অংশের কাজও।

ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি-ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের মে পর্যন্ত মেট্রোরেলের দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অগ্রগতি ৮৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ মাসে বাকি ১৪ দশমিক ২৬ শতাংশ কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হবে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক জানান, করোনার কারণে যদিও কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। কিন্তু টার্গেট রয়েছে আগামী ডিসেম্বরেই উত্তরা থেকে দিয়াবাড়ি অংশ শেষ করার। সে লক্ষ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ এগিয়ে চলছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত যতটুকু চালু করার চিন্তা করা হচ্ছে সেখানে পুরোদমে কাজ চলছে। পিলারের ওপরে স্প্যান বসানো হয়েছে। যেহেতু মেট্রোরেল বিদ্যুতের সাহায্যে চলবে, সেহেতু পিলারে বসানো স্প্যানের ওপরে বৈদ্যুতিক খুঁটি বসানো হয়েছে। দেখা গেছে, এরইমধ্যে দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও আবহাওয়া পর্যন্ত শেষ করা হয়েছে। আর বৈদ্যুতিক তার বসানো হয়েছে মিরপুর ডিওএইচএস পর্যন্ত। প্রথম পর্যায়ে আগারগাঁও পর্যন্ত চালু করা হলেও মতিঝিল পর্যন্তই স্প্যান বসানোর কাজ চলছে।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড-ডিএমটিসিএল এর ফেইসবুক পেইজে লেখা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেল এর প্রথম I conic Station হিসেবে উত্তরা সেন্টার মেট্রোরেল স্টেশনের মূল অবকাঠামোর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। উল্লেখ্য যে, উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৬ এর ১৬টি স্টেশন রয়েছে। তন্মধ্যে উত্তরা সেন্টার, বিজয় সরণী ও মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশন Iconic Station হিসেবে নির্মাণ করা হচ্ছে।

ঢাকার যানজট নিরসনে হাতে নেওয়া আলোচিত এই প্রকল্পের চলতি বছরের মে পর্যন্ত অগ্রগতি বলছে, প্রথম মেট্রোরেল এমআরটি-৬ এর কাজের সার্বিক অগ্রগতি প্রায় ৬৪ দশমিক ৯১ শতাংশ। এরমধ্যে উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশের কাজ হয়েছে ৮৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ। আর দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্মাণের জন্য আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের পূর্ত কাজ হয়েছে প্রায় ৬২ দশমিক ৫০ শতাংশ। পাশাপাশি ইলেক্ট্রিক্যাল মেকানিক্যাল সিস্টেম ও রোলিং স্টক (রেলকোচ) ও ডিপোর ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ কাজের সমন্বিত অগ্রগতি প্রায় ৫৬ দশমিক ০৪ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুসরণে এমআরটি লাইন-৬ মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার বর্ধিত করার জন্য সোস্যাল স্টাডি, অংশীজন সভা, গৃহ জরিপ, ভূমি অধিগ্রহন পরিকল্পনা, পুনর্বাসন কর্মপরিকল্পনা, পরিবেশগত প্রভাব এবং মূল নকশার কাজ চলমান।

সূত্রে জানা গেছে, প্যাকেজ ৩ ও ৪ আওতায় উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশে ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার স্প্যান ও ৯ টি স্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে। কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত পরিসেবা স্থানান্তর, চেকবোরিং, স্টেট পাইল, মূল পাইল, পাইল ক্যাপ, আই- গার্ডার, প্রিকাস্ট সেগমেন্ট কাস্টিং, পিয়ার হেড, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার স্প্যান, ৫ টি লং স্প্যান ব্যালেন্সড কান্টিলিভার নির্মাণ, সব স্টেশনের সাব স্ট্রাকচার নির্মাণ এবং ১৪ হাজার ৭৪৮ প্যারাপেট ওয়ালের মধ্যে সব প্যারাপেট ওয়াল ভায়াডাক্টের ( স্প্যান) ওপর স্থাপন করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রকল্প অগ্রগতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ ও পল্লবী স্টেশনের কনকোর্স ছাদ নির্মাণ শেষ হয়েছে। বর্তমানে মিরপুর ১০, মিরপুর ১১, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া এবং আগারগাঁও স্টেশনের কনকোর্স ছাদ নির্মাণ কাজ চলছে। উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিন ও পল্লবী স্টেশনের প্লাটফর্ম নির্মাণ শেষ হয়েছে। মিরপুর ১১, কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া স্টেশনের সমাপ্ত করা কনকোর্স ছাদের ওপর প্লাটফর্ম নির্মাণ কাজ চলছে। উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ ও পল্লবী স্টেশনসহ স্টিল রুফ স্ট্রাকচার নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী ও মিরপুর ১১ স্টেশনে মেকানিক্যাল, ইলেক্টট্রিক্যাল ও প্লাম্বিংয়ের কাজসহ প্রবেশ ও বর্হিগমন কাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। এ সকল কাজের সার্বিক অগ্রগতি ৮১ শতাংশ।

এদিকে এরই মধ্যে মেট্রোরেলের প্রথম ও দ্বিতীয় কোচ ঢাকায় চলে এসেছে। যা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে ট্রায়াল রান চলছে। তৃতীয় এবং চতুর্থ মেট্রো ট্রেন সেটের শিপমেন্টও জাপান থেকে জাহাজযোগে রওয়া দিয়েছে বলে জানা গেছে। যা বাংলাদেশে পৌঁছানোর সম্ভাব্য তারিখ আগামী ১৩ আগস্ট। আর পঞ্চম ট্রেন সেটের জাপান থেকে শিপমেন্টের সম্ভাব্য তারিখ আগামী ১৬ জুলাই। বাংলাদেশে পৌঁছানোর সম্ভাব্য তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর।

জানা যায়, প্রতিটি ট্রেনের ধারন ক্ষমতা হবে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩০৮ টি আসন। ডিএমটিসিএল ২০১৭ সালের আগস্টে জাপানের কাওয়াসাকি মিতসুবিশি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে মেট্রোরেলের জন্য ২৪ সেট ট্রেন তৈরির চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। এরমধ্যে দুই দফায় যার বারো সেট ট্রেন বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে।

রাজধানীর যানজট কমাতে ২০১৩ সালে মেট্রোরেলের পরিকল্পনা করা হলে কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে। ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট বা এমআরটি নামে পরিচিত মেট্রোরেলের লাইন প্রথমে তিনটির পরিকল্পনা করা হলেও পরে তা বাড়িয়ে পাঁচটি করা হয়। প্রথম পর্যায়ে নির্মাণের জন্য উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৬ কে নির্বাচন করা হয়। যা ২০১৬ সালের ২৬ জুন এর আনুষ্ঠানিক নির্মাণ কাজ শুরু হয়। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ২২ হাজার কোটি টাকা।

সূত্র : সারাবাংলা
এম এউ, ১৯ জুন

Back to top button