সিলেট

সিলেট-৩ আসনে প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের হিড়িক

সিলেট, ১৯ জুন – দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জের একাংশ নিয়ে গঠিত সিলেট-৩ আসনে আগামী ২৮ জুলাই ইভিএম পদ্ধতিতে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

আসনটির উপনির্বাচন উপলক্ষ থেকে শুরু থেকেই প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠেছে। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থীর সমর্থকরা প্রতীক বরাদ্দের আগেই নৌকা এবং লাঙ্গল প্রতীক-সংবলিত ফেস্টুন-বিলবোর্ডে প্রচারণা চালাচ্ছেন। নির্বাচনি আসনের, এমনকি সিলেট নগরীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে এর সত্যতা পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমানকে নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে দক্ষিণ সুরমার একাধিক এলাকায় ডিজিটাল রঙিন ব্যানার, বাঁশের খুঁটি ও কাঠ দিয়ে নির্মিত অস্থায়ী বিলবোর্ড সাঁটানো হয়েছে। এসব বিলবোর্ডে প্রার্থীর পাশাপাশি নৌকা প্রতীকের ছবিও আছে।

দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদ ও মোগলাবাজার থানার সম্মুখ অংশ এবং নৈখাই ও খালেরমুখ এলাকায় হাবিবুরের সমর্থনে এভাবেই বেশ কয়েকটি বিলবোর্ড ও ফেস্টুন সাঁটানো হয়েছে। এসব বিলবোর্ড-ফেস্টুন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সামছুল ইসলাম ও দক্ষিণ সুরমা ছাত্রলীগ নেতা তোফায়েল হোসেনের সৌজন্যে সাঁটানো হয়েছে বলে উল্লেখ আছে।

অপরদিকে, সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে এবং শাহজালাল ব্রিজের দুপ্রান্তসহ দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন স্থানে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিকের পক্ষে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিলবোর্ড সাঁটানো হয়েছে।

এছাড়াও প্রতীক বরাদ্দের আগেই সব প্রার্থী বিভিন্নভাবে প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও মতবিনিময় সভা করছেন তাঁরা। এছাড়াও বিভিন্ন ফেসবুক লাইভ পেইজ থেকে নানাভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা।

ভোটাররা জানান, স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তার, প্রার্থীর মনোযোগ আকর্ষণ ও কাছে ঘেঁষার প্রতিযোগিতা থেকেই দলীয় কর্মীরা প্রতীক বরাদ্দ না হওয়ার আগেই বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন সাঁটিয়েছেন।

এ বিষয়ে সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইসরাইল হোসেন বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড স্পষ্টত নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন। প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো ধরনের প্রচারণা চালানোর সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, শীঘ্রই এ আসনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত করা হবে। তখন কোনো অনিয়ম হলে অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১১ মার্চ করোনায় সংক্রমিত অবস্থায় সিলেট-৩ আসনের সাংসদ আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী মারা যান। এরপর ১৫ মার্চ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী উপনির্বাচনের জন্য ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে চারজনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। তাঁরা হচ্ছেন- আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান, জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনোনীত জুনায়েদ মুহাম্মদ মিয়া এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী।

অপরদিকে, দাখিলকৃত মনোনয়নে ভোটারদের তথ্য যথাযথ না পাওয়ায় ফাহমিদা ও মাসুমের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। তবে তারা দুজনই আপিল করছেন বলে জানিয়েছেন।

আগামী ২৮ জুলাই সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ হবে। মোট ভোটার ৩ লাখ ৫২ হাজার। ভোটকেন্দ্র ১৪৯টি। ২৪ জুন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং প্রতীক বরাদ্দ হবে ২৫ জুন।

সূত্র : সিলেটভিউ
এম এউ, ১৯ জুন

Back to top button