দক্ষিণ এশিয়া

মোদির আমলে সুইস ব্যাঙ্কে বাড়ল ভারতীয় টাকার পরিমাণ

নয়াদিল্লি, ১৯ জুন – গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে সুইস ব্যাংকে গচ্ছিত ভারতীয়দের টাকা নিয়ে মনমোহন সিং সরকারকে খোঁচা দিতেন নরেন্দ্র মোদি। বারবার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন, ক্ষমতায় এলে সুইজারল্যান্ডে জমা কালো টাকা দেশে ফেরত আনারও।

এখন স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, সেই মোদির আমলে ভারতীয়দের সুইস ব্যাংক গচ্ছিত টাকার পরিমাণ রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ২০২০ সালে তা ২০ হাজার ৭০০ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে। যা ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

২০১৮ ও ২০১৯ সালে আগের বছরগুলোর তুলনায় কিছুটা কম টাকা জমতে দেখা যায়। এবার তা এক ধাক্কায় ২৮৬ শতাংশ বেড়ে গেছে।

সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে জমা অর্থ কমলেও বন্ড, সিকিউরিটিজ ও অন্য উপায়ে সুইস ব্যাংকে গচ্ছিত টাকার পরিমাণ বিপুলভাবে বেড়েছে। অন্য ব্যাংকের মাধ্যমে সুইস ব্যাংকে জমা টাকার পরিমাণও বেড়েছে।

২০১৪ সালে লোকসভা ভোটের প্রচারে মোদি বলেছিলেন, তিনি ক্ষমতায় এলে তিন বছরে বিদেশে গচ্ছিত সব কালো টাকা দেশে ফিরিয়ে এনে গরিবদের মধ্যে বিলি করে দেবেন। সে ক্ষেত্রে গরিবদের মাথাপিছু দেওয়া সম্ভব ১৫ লাখ রুপি। যদিও পরে বিজেপিরই একাধিক প্রথম সারির নেতা বলেছিলেন, মোদির ওই প্রতিশ্রুতি ছিল ‘নির্বাচনী চমক’!

মোদির অভিযোগ ছিল, ইউপিএ-সরকারের বিদেশ থেকে কালো টাকা ফেরানোর সাহস নেই। কারণ কংগ্রেসের লোকেরাই এই পাপে ডুবে আছে। পুরোনো সেই কথা মনে করিয়ে কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা শুক্রবার প্রশ্ন ছুড়েছেন, “তিন বছরের বদলে সাত বছর কেটে গেছে। মোদিজির কি ইচ্ছাশক্তি নেই? নাকি ওই সব টাকা তার বন্ধুদের?”

কংগ্রেসের দাবি, সুইস ব্যাংকে কার, কত কালো টাকা রয়েছে, কেন্দ্র তা জানিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করুক। মোদি সরকার সাত বছরে কী পরিমাণ কালো টাকা বিদেশ থেকে উদ্ধার করেছে, তা-ও খোলসা করা হোক।

সূত্র: দেশ রূপান্তর
এম ইউ/১৯ জুন ২০২১

Back to top button