পশ্চিমবঙ্গ

বর্ষা এলেই ভাসে কলকাতা, কেন প্রতিবছর চলে এই দুর্ভোগ

শুভম মুখোপাধ্যায়

কলকাতা, ১৮ জুন – জমা জলে কেউ সাঁতার কাটছেন, কেউ বা মাছ ধরছেন। না কোনও জলাশয়ের ছবি নয়। প্রতি বছর বর্ষাকাল এলেই খাস তিলোত্তমাতেই এই ছবি দেখা যায়। এবছর সেই ছবি পাল্টায়নি। দেড় দিন টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন কলকাতার বিস্তৃর্ণ এলাকা। প্রবল বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। জমা জলের জেরে অবরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাও। ফলে দুর্ভোগে পড়েন পথচারীরাও। তবে জমা জল সরাতে উদ্যোগ নিয়েছে কলকাতা পুরসভা। পাম্পিং স্টেশন থেকে জল সরানোর চেষ্টা হলেও তা যাচ্ছে ধীরগতিতে। কিন্তু প্রতি বছর বৃষ্টিতে কেন এমন হাল হয় শহরে।

কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

এবিষয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর এবং পূর্বতন বিভাগীয় প্রধান দীপঙ্কর চক্রবর্তী জানান, “দেশে-বিদেশে কোথাও বৃষ্টি হলে জল জমতে বাধ্য। হাইওয়েতে যেমন রাস্তার লেভেলের উপর কোনও কিছু নির্মাণ করা যায় না। কিন্তু শহরাঞ্চলে বেশ কিছু নির্মাণ রাস্তার লেভেলের উপর হয়। ফলে রাস্তার লেভেল নিচু হওয়ায় সেখানে জল জমছে। পাশাপাশি, যেখানে নিকাশী মাধ্যমে যেখানে জমা জল ফেলা হবে, সংশ্লিষ্ট জায়গাটির লেভেল বা জলস্তর যদি বেশি হয়, তাহলেও সমস্যা হতে বাধ্য। ফলে এমন জায়গায় জলটা ফেলতে হবে, সেটার স্তর যেন আগের থেকে নিচু থাকে। না হলে জমা জল নিয়ে সমস্যা হবে। এর ফলেই জল সরতে বেশি সময় লাগে।”

রয়েছে অনেক কারণ

বৃহস্পতিবার কলকাতার জলছবি সামনে আসে। পাম্পিং স্টেশ খোলা হলেও জমা জল খুব ধীর গতিতে সরছে বলে জানা গিয়েছে। শহরে নিকাশী ব্যবস্থা আরও পোক্ত করা হবে বলে খবর। জানা গিয়েছে, জল জমার অন্যতম কারণ কলকাতা শহরের গঠন। ৫০ মিমি-র বেশি বৃষ্টি হলেই শহরে জল জমতে বাধ্য। সেই সঙ্গে রয়েছে নিকাশী সমস্যাও। বিভিন্ন আবর্জনা পরে অধিকাংশ নিকাশীর ড্রেন ব্লক হয়ে থাকে। পাশাপাশি কলকাতা সংলগ্ন চোরিয়াল খাল, মনি খালের উপর শহরের নিকাশী ব্যবস্থা অনেকটা নির্ভরশীল। সেই খালগুলি থেকে জল বেরিয়ে গঙ্গায় যায়। কিন্তু সেখানেও জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় সমস্যা পোহাতে হয় শহরবাসীকে। ফলে উন্নত মানের পাম্পিং স্টেশন থেকে শুরু করে লকগেট, পুরসভার একাধিক চেষ্টার পরে বদলাচ্ছে না শহর কলকাতার জল জমার সেই পুরনো ছবি।

এম এউ, ১৮জুন

Back to top button