হবিগঞ্জ

মাসে ৫৭ হাজার টাকা আয় করা প্রবাসীর দেশে এসে অসহায় জীবনযাপন

হবিগঞ্জ, ১৮ জুন – হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের শতক গ্রামের বাসিন্দা আজাদ মিয়া তালুকদার। প্রবাসে তার কেটেছে আট বছর। মালয়েশিয়া প্রবাসী আজাদের মাসিক আয় ছিল বাংলাদেশি টাকায় ৫৭ হাজার টাকা। পরিবার পরিজন নিয়ে বেশ সুখেই ছিলেন তিনি। ১৮ মাস আগে ছুটিতে দেশে আসেন আজাদ। তখন সঞ্চিত টাকায় নতুন ঘরের কাজ শুরু করেন। এমন সময় শুরু হয় করোনার প্রকোপ। পরে দুই মাসের ছুটিতে দেশে আসলেও আর ফেরা হয়নি। বর্তমানে টাকার অভাবে ঘরের কাজ বন্ধ। অন্যদিকে স্বজন ও প্রতিবেশীদের থেকে নেওয়া ধারের টাকা তার গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারায় স্ত্রীর গর্ভের সন্তানও নষ্ট হয়েছে। বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করা এই প্রবাসী যেকোনও মূল্যে ফিরতে চান কর্মস্থলে। এ জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহায়তা চান তিনি।

আজাদ বলেন, টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারায় স্ত্রীর গর্ভের সন্তানকে বাঁচাতে পারিনি। খুবই অসহায় লাগে এসব ভেবে। এক সময় কত ভালো চলতাম। প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা ইনকাম করতাম। জমানো টাকা দিয়েই ঘরের কাজ শুরু করেছিলাম। এখন ঘরের কাজও শেষ করতে পারিনি। অর্থের অভাবে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। পরিবারে আমার মা, স্ত্রী ও সন্তানসহ ছয় জন সদস্য। সবার দায়িত্ব আমার ওপরে।

তিনি আরও বলেন, দুই মাসের ছুটিতে দেশে এসে গত ১৮ মাস ধরে বাড়িতে বসা। অনেক চেষ্টা করেছি আবার মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য। করোনার কারণে একাধিকবার টিকিট বাতিল হয়েছে। অনেক টাকাও শেষ করেছি। কিন্তু কোনও উপায় খুঁজে পাইনি। ধার-দেনা করে আর কতদিন চলা যায়? পরে এক জায়গা থেকে আরও এক লাখ টাকা লোন নিয়েছি। সেটা দিয়ে সংসার চালিয়েছি। এখন ঋণের টাকাই বা পরিশোধ করবো কীভাবে? আর সংসার চালাবো কীভাবে? এই টেনশনে ঘুমাতে পারি না।

চারদিকে শুধু অন্ধকার দেখছি উল্লেখ করে আজাদ বলেন, প্রবাসী হিসেবে সরকার থেকে কোনও সহযোগিতা পাইনি। অনেকের কাছে গিয়েছি কোনও কাজ হয়নি। সরকার যদি আমাদের পাশে দাঁড়ায় তাহলে আমার মতো অনেকেই ঘুরে দা*ড়াতে পারবে।

শুধু আজাদই নন, করোনা মহামারির কারণে বাংলাদেশে আটকে পড়া হাজারো প্রবাসীর চিত্র অনেকটাই এমন। দেশে এসে আটকে পড়াদের অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। করোনাভাইরাসের কারণে বিদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তাদের আর কর্মস্থলে ফেরা হয়নি। কবে উঠবে নিষেধাজ্ঞা, কবে তারা ফিরতে পারবেন, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেও কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না তারা।

এদিকে বিদেশি বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে ছুটিতে আসা প্রবাসীদের ফেরত পাঠাতে সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান, সহজ শর্তে ঋণ দানের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন হবিগঞ্জের প্রবাসী কর্মীরা। এর আগে প্রায় ৫০০ জন মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মন্ত্রীকে দেওয়া হয়। দ্রুত আটকে পড়া প্রবাসীদের ফেরাতে বাংলাদেশ সরকার ও দূতাবাসের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন সচেতন মহল।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
এম ইউ/১৮ জুন ২০২১

Back to top button