ব্যবসা

প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ১০ শতাংশ, বিশ্বব্যাংক বলছে অর্ধেক

ঢাকা, ১৮ জুন – চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ০.৮৬ শতাংশ বেশি। ২০২০-২১ অর্থবছর শেষ হতে আরও ১২ দিন বাকি থাকলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংক মনে করে ২০২০-২১ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি সপ্তাহে অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর সমন্বয়ে সিলেকটেড ইনডিকেটর প্রকাশ করে। সেখানে চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ১০ শতাংশ (প্রাথমিকভাবে) দেখানো হয়েছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘২০২০-২১ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি দেখানো হয়েছে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। অর্থনীতির অন্য যেসব সূচক দেখা যাচ্ছে, সেগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে এটা সামান্য বেশি।’

প্রসঙ্গত, গতবছর ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট যখন ঘোষণা করা হয়েছিল তখন প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ। অবশ্য করোনার প্রভাব বাড়তে থাকায় পরে তা কমিয়ে ৭ দশমিক ৪ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। সর্বশেষ বাজেট বক্তৃতায় চলতি অর্থবছরে দেশের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।

২০১৯-২০ অর্থবছরে মহামারির মাঝে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। যা ছিল বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের চেয়েও বেশি।

এদিকে ২০২১-২০২২ অর্থবছরের জন্য ৭ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন অর্থমন্ত্রী। তবে বিশ্বব্যাংক মনে করছে, করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রবৃদ্ধি এতো হবে না।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেকর্ড ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয় দেশে। তথাপি বিশ্বব্যাংক বলছে, আগামী অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৫ দশমিক ১ শতাংশ। সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা ইতোমধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তাই আগামী অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। এগুলো হলো- স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, নিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি এবং তৈরি পোশাকের রফতানি।

সংস্থাটি এখনও মনে করে ২০২০-২১ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। জানুয়ারিতে প্রকাশিত গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বলেছিল, এ বছর ১ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। পরে মার্চে প্রকাশিত ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক ফোকাস স্প্রিং ২০২১: সাউথ এশিয়া ভ্যাকসিনেটস’ প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত করে বিশ্বব্যাংক।

মার্চের প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বলেছিল, বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। তবে করোনার নতুন ঢেউ শঙ্কা তৈরি করছে। অর্থনীতিতে ব্যাপক অনিশ্চয়তা আছে এখনও। মহামারি পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সরকার কী নীতি গ্রহণ করে, তা নিয়েও আছে অনিশ্চয়তা। দ্বিতীয় ধাক্কায় রফতানি ও প্রবাসী আয়ও বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে বলা হয় প্রতিবেদনে।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
এম ইউ/১৮ জুন ২০২১

Back to top button