মাদারীপুর

শাজাহান খানকে জনসম্মুখে ক্ষমা চাইতে হবে : শাহাবুদ্দিন

মাদারীপুর , ১৭ জুন – দলীয় শৃঙ্খলা ভেঙে জামাত-শিবিরকে সঙ্গে নিয়ে দলকে বিতর্কিত করায় দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছে সাংসদ শাজাহান খানকে জনসম্মুখে ক্ষমা চাইতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মোল্লা। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে জেলার টেকেরহাট নুরজাহান কমিউনিটি সেন্টারে রাজৈর পৌরসভা আওয়ামী লীগের তৃর্ণমূল নেতা কর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মোল্লা বলেন, ‘শাজাহান খানের পিতাকে নিয়ে আমার দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মাদারীপুরকে উত্তাল করে তুলছে। কিন্তু আমি যে কথা বলেছি, তার কোনো ব্যাখ্যা নেই তাদের কাছে। অথচ, আমাকে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ করে হেয় করা হচ্ছে। আপনি যদি মনে করেন আমি ভুল বলেছি, আপনি সেটা আওয়ামী লীগের দলীয় ফোরামে ব্যাখ্যা চাইতে পারতেন। অথচ, সেটা না করে জামাত-শিবির, স্বাধীনতা বিরোধী বিএনপির ছেলে-পেলে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়ে চলছেন। আপনি যেটা করেছেন, তার জন্যে আজ বা কাল হোক আপনাকে মাদারীপুর আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। আপনি ক্ষমা চান।’

শাজাহান খানকে উদ্দেশ করে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মোল্লা আরও বলেন, ‘আপনি প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে অসত্য কথা বলেছেন। আপনি বলেছেন শেখ হাসিনা নাকি কোটালীপাড়ায় ও টুঙ্গিপাড়ায় আপনাকে ছাড়া মিটিং করতে পারেন নাই। আপনি মিথ্যাবাদি। এ কথা যদি আপনি প্রত্যাহার না করেন তাহলে আপনার বিরুদ্ধেও রাজৈর ও মাদারীপুরের মানুষ প্রতিবাদ সমাবেশ করবে। জনসম্মুখে আপনাকেও ক্ষমা চাইতে হবে।’

মোল্লা বলেন, ‘আপনি আপনার বাবার নির্দেশ না মেনে জাসদ করেছিলেন। অথচ আমরা যারা আপনার বাবার কর্মী ছিলাম, তার ঠিকই তার নির্দেশ মেনে আওয়ামী লীগ করেছি। যে বাবার নির্দেশ মেনে আপনি রাজনীতি করতে পারেননি, তার জন্যে আজ আমাকে কটুক্তি করছেন। আমি যদি আপানার বিরুদ্ধে বলা শুরু করি, তাহলে আপনি পালানোর সুযোগও পাবেন না।’

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে সাংসদ শাজাহান খানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।

রাজৈর পৌর আওয়া মীলীগের সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন পৌর কমিটির আহ্বায়ক আব্দুস কুদ্দুস মিয়া। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য সেকান্দার আলী শেখ, দেলোয়ার হোসেন দিলীপ, ইসুব আলী মিয়া, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানআল-আমীন মোল্লা, রাজৈর উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জমির খান, সাংগঠনিক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান বক্কর, রাজৈর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক বাবুল, পৌর মেয়র নাজমা রশিদ প্রমুখ।

সূত্র : আমাদের সময়
এম এউ, ১৭ জুন

Back to top button