জাতীয়

পরীমনির বিরুদ্ধে ভাঙচুরের অভিযোগ জানালো অল কমিউনিটি ক্লাব

ঢাকা, ১৭ জুন – গুলশানের অল কমিউনিটি ক্লাবে চিত্রনায়িকা পরীমণি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ক্লাবের প্রেসিডেন্ট কে এম আলমগীর ইকবাল।

বুধবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে এ কথা জানান তিনি।

কে এম আলমগীর ইকবাল বলেন, ‘৭ জুন দিবাগত রাত সোয়া একটার দিকে পরীমণি ক্লাবে আসেন। এ সময় তিনি ১৫টি গ্লাস, ৯টি ছাইদানি (অ্যাশট্রে) এবং বেশকিছু হাফ প্লেট ভাঙচুর করেন।’

তিনি বলেন, ‘তার (পরীমণির) সঙ্গে হাফপ্যান্ট পরা একজন ভদ্রলোক ছিলেন এবং একজন নারী সঙ্গী ছিলেন। ক্লাবের এক সদস্যের রেফারেন্সে তিনি এখানে আসেন। সেই সদস্যকে শোকজ করা হয়েছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি (ক্লাব সদস্য) ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। আমরা এই মুহূর্তে কোনোভাবে আইনি ব্যবস্থা নিতে চাচ্ছি না। কারণ, এতে আমাদের ক্লাবের মান-সম্মান ক্ষুণ্ণ হতে পারে। আমরা কোনও জিডিও করিনি।’

ঘটনার বিস্তারিত জানাতে গিয়ে ইকবাল বলেন, ‘আমাদের ক্লাবের ফুড অ্যান্ড বেভারেজের অ্যাডমিন এবং ডিরেক্টর বেরিয়ে যাওয়ার সময় ঘটনাটি দেখেছেন। দেখে তারা পরীমণিকে বলেছেন, আপনি তো ক্লাব রুল ভায়োলেট করেছেন। আপনি এমন করতে পারেন না। তখন উনারা ক্ষিপ্ত হয়ে যান। উনাদের আচার-আচরণ গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় চলে যেতে বলা হয়। উনারা যাচ্ছিলেন না দেখে আমাদের পরিচালকই ক্লাব থেকে চলে যান। তারপর যে সদস্য উনাদের এনেছিলেন, উনিও তাদের চলে যাওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু উনারা যাচ্ছিলেন না দেখে ওই সদস্য নিজেও চলে যান।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরপর উনারা অকস্মাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে যান এবং গ্লাস, অ্যাশট্রে ছুড়ে মারতে থাকেন।’

আলমগীর ইকবাল জানান, এরপর ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে তারা পুলিশ কল করেন। পুলিশ আসার পরে দেখতে পায়, উনি এগুলো ছুড়ে মারছেন। তখন পুলিশ জিজ্ঞেস করে, কেন কল করেছেন। উনারা বলেন, আমাদের সঙ্গে এই হয়েছে সেই হয়েছে। পুলিশ সদস্যরাই তখন বলেন, এরকম কিছু তো আমরা দেখছি না। তখন কেউ ছিল না, দুই জন ওয়েটার ছিল, আর উনারা ৩ জন ছিলেন। তারপর পুলিশ ভাইয়েরা ওয়্যারলেসে ওপরের মহলে জানতে চান— আমরা কী করবো। তখন সেখান থেকে নির্দেশ আসে, উনারা এরকম করতে থাকলে, তাদের বের করে দিয়ে চলে যান। তখন এই আওয়াজ শুনে উনারা কিছুটা ঠান্ডা হন এবং পুলিশের উপস্থিতিতেই তারা চলে যান। এরপর আর অন্য কোনও ঘটনা ঘটেনি। আমরা ক্লাব কর্তৃপক্ষ ক্লাবের নিয়ম অনুযায়ী শোকজ করেছি এবং এটার বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এটি চলমান অবস্থায় আছে।

অল কমিউনিটি ক্লাবের প্রেসিডেন্ট কে এম আলমগীর ইকবাল আরও বলেন, ‘আমরা তাকে চিনতাম না, কোনও দিন দেখিনি। পরে একজনের কাছে শুনেছি ওনার নাম পরীমণি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘৯৯৯ এর কল পেয়ে গুলশান থানা পুলিশের একটি দল অল কমিউনিটি ক্লাবে গিয়েছিল। সেখানে গিয়ে দেখে পরীমণি ও তার সঙ্গীরা কিছু ভাঙচুর করেছে। কিন্তু দুই পক্ষই মিটমাট করে ফেলায় পুলিশ সেখান থেকে চলে আসে। এ ঘটনায় পুলিশ বিষয়টি জিডিমূলে নথিভুক্ত করে রেখেছে।’

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা ইন্টারনাল জিডি। কোনও ঘটনা বা ফোর্স বাইরে বের হলেই আমাদের জিডিমূলে ঘটনা বা অভিযানের বিষয়ে নথিভুক্ত করে রাখতে হয়। এটা কোনও অভিযোগের জিডি না। ক্লাব কর্তৃপক্ষ কোনও অভিযোগ দিলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেবো।’

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে পরীমণি বলেন, ‘না এরকম কোনও জিডি হওয়ার কথা নয়। এমন কোনও তথ্যও আমার কাছে নেই। বরং মিডিয়া থেকে এসব খবর পেয়ে আমি বিস্মিত হচ্ছি।’

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন
এম এউ, ১৭ জুন

Back to top button