মধ্যপ্রাচ্য

ইসরাইলের নতুন সরকার নিয়ে ফিলিস্তিনিদের মতামত

জেরুজালেম , ১৫ জুন- গত রোববার নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বে ইসরাইলে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের এই নতুন সরকার থেকে বড় কোনো নীতিগত পরিবর্তন প্রত্যাশা করা ঠিক হবে না। কারণ, ইসরাইলের নেতা পরিবর্তন হলেও নীতি পরিবর্তন হয় না।

ইসরাইলের নতুন সরকার নিয়ে ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক নেতারা এমন মন্তব্য করেছেন। এ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সৌদি আরবের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরাইলের নতুন প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বাধীন সরকার গঠন নিয়ে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে মতামতের ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে।তবে অধিকাংশ ফিলিস্তিনি বলেছেন, নাফতালি বেনেট তার পূর্বের প্রেসিডেন্ট বিনইয়ামিন নেতানিয়াহুর থেকে ভিন্ন হবেন না।

ফিলিস্তিনের ৩৩ বছর বয়সী ওসমান ইসরাইলের সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিনইয়ামিন নেতানিয়াহুর বিদায়কে স্বাগত জানান। এটাকে তিনি বিশাল অর্জন হিসেবে মন্তব্য করেন।

ফিলিস্তিনের এই যুবক বলেন, ক্ষমতায় কে আসলো সেটা দেখার চেয়ে; যেকোনো স্বৈরাচারের বিদায়কে পজেটিভ হিসেবে দেখা উচিত। ইসরাইলিরা কখনও ফিলিস্তিনিদের পক্ষ সমর্থন করে না।

গত রোববার নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বধানী জোট ইসরাইলে নতুন সরকার গঠন করে। সামান্য ব্যবধানে তারা সরকার গঠন করার সম্মতি পান। এর মাধ্যমে ইসরাইলে বিনইয়ামিন নেতানিয়াহুর ১২ বছরের শাসনের অবসান হয়েছে। তবে তিনি এখন বর্তমান সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে ভূমিকা পালন করবেন।

ইসরাইলের নতুন সরকারে সংসদ নেসেটে এবং ইসরাইলের সমাজের মধ্যে শক্ত ভিত নেই বলেও মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ।

ফিলিস্তিনি যুবক মোহাম্মদ সুলতান বলেন, নেতানিয়াহু ইসরাইলের শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব। ফিলিস্তিন নিয়ে তিনি সমাধানে পৌঁছাতে পারতেন । কিন্তু নতুন সরকারের আমলে গাজা উপত্যকায় বড় কোনো অর্জন হবে না। তিনি আরও বলেন, ইসরাইলের ইতিহাসে রবিন, শ্যারন, নেতানিয়াহুর মতো শক্তিশালী নেতারাই ‘যুদ্ধ কিংবা শান্তি’র পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন।

২০০৭ সালে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস গাজা উপত্যকা দখলের পর ইসরাইল অঞ্চলটিতে সড়ক, নৌ এবং আকাশপথে অবরুদ্ধ করে রাখে। এরপর থেকে হামাসের সঙ্গে ইসরাইলের চারটি যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, ইসরাইলের নতুন সরকারের কাছ থেকে প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসও পজেটিভ কোনো প্রত্যাশা করছে না।

ফিলিস্তিনের আরেক সংগঠন ইসলামি জিহাদের মুখপাত্র তারিক সালমি বলেন, ইসরাইলিরা ফিলিস্তিনিদের হত্যা এবং তাদের অধিকার দাবিয়ে রাখতে এক্যবদ্ধ। তবে ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধের ফলেই নেতানিয়াহুর পতন হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ফিলিস্তিনের আরেক জনপ্রিয় সংগঠন পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টিন বলেছে, নাফতালি বেনেট এবং ইয়ার লাপিদের সরকার ফিলিস্তিনে কোনো কিছু পরিবর্তন করবে না। এটাকে তারা নেতানিয়াহু সরকারেরই সম্প্রসারিতরূপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

খবরে আরও বলা হয়েছে, অধিকাংশ ফিলিস্তিনিই একমত যে, নিরাপত্তা এবং সামরিক পদ্ধতি দ্বারা ইসরাইল শাসিত হয়। সুতরাং তারা সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং দখলদারিত্ব পরিহার করবে না।

তথ্যসূত্র: যুগান্তর
এস সি/১৫ জুন

Back to top button