সিলেট

মুজিববর্ষের উপহার : গোয়াইনঘাটে ভূমিহীন-গৃহহীনদের জন্য ৯৪২ টি পাকা ঘর নির্মাণ

সিলেট, ১৫ জুন- মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে হিসেবে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপ মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৯৪২টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার নতুন পাকা ঘর পেয়েছেন। এর মধ্যে কিছু সংখ্যক ঘর আগামী ২০ জুন আনুষ্ঠানিক ভাবে পরিবার প্রধানের হাতে তুলে দেবে সরকার।

ইতিপূর্বে জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশে প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৭০ হাজার ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে ঘর উপহার দিয়েছিলেন। গোয়াইনঘাট উপজেলার নির্মাণাধীন ঘর গুলোর কাজ দ্রুততম সময়ে শেষ করার জন্য সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ও সিলেটের জেলা প্রশাসক মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন।

জানা যায়, ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আশ্রয়ণ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, যা তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ১৯৯৭ সাল থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাস নাগাদ ৩ লাখ ২০ হাজার ৫২টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়।এবার মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন, বাংলাদেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না। তার এই ঘোষণা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে দেশের সকল ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য গৃহ প্রদান নীতিমালা ২০২০’ প্রণয়ন করা হয়।

এ লক্ষ্যে গত বছর জুনে সারা দেশে ভূমিহীন ও গৃহহীন ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২টি পরিবারের তালিকা করা হয়। আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় তাদের জীবন বদলের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ভূমিহীন, গৃহহীন, অসহায়, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন এবং তাদের ঋণপ্রদান ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহে সক্ষম করে তোলা এবং আয়বর্ধক কার্যক্রম সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য দূর করাই এই প্রকল্পের লক্ষ্য। গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শীর্ষেন্দু পূরা কায়স্থ জানান, গোয়াইনঘাট উপজেলা১ম পর্যায়ে ৫০০টি ঘর বরাদ্দ পায়। যার মধ্যে ২৭০ টি ঘর পূর্বে উদ্বোধন করা হয়েছে আর অবশিষ্ট ২৩০টি আগামী ২০জুন উদ্বোধন করা হবে। ২য় পর্যায়ে বরাদ্দকৃত ৪০টি ঘরের নির্মাণ কাজও শেষ হয়েছে। এগুলোও আগামী ২০ জুন উদ্বোধন করা হবে।

দুর্যোগ সহনীয় ঘর (নিজের জমিতে) ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে ১৫ টি ঘর, বরাদ্দ পায় এ উপজেলা। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যায় হয়েছে ২,৫৮,৫৩১টাকা করে। ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ২৪টি ঘর বরাদ্দ পায় গোয়াইনঘাট। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যায় হয়েছে ২,৯৯,৮৬০। মোট ৭১লাখ ৯৬ হাজার ৬৪০ টাকা।

যার জমি আছে ঘর নাই এই প্রকল্প ২৯১৮-২০১৯ অর্থ বছরে গোয়াইনঘাট বরাদ্দ পায় ৩১৫টি ঘর। প্রতিটি উক্ত ঘর গুলো নির্মাণে ব্যায় হয়েছে মোট ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে গোয়াইনঘাট বরাদ্দ পায় ৪৫টি ঘর। উক্ত ঘর নির্মাণে ব্যায় হয়েছে ৫৪ লাখ টাকা।
ভূমিহীন ও গৃহহীন দের জন্য দুর্যোগ সহনীয় ঘর ১ম পর্যায়ে ৫০০টি ঘর, প্রতিটি ঘর নির্মাণে ১লাখ ৭১হাজার করে মোট ৮কোটি ,৫৫লাখ টাকা।

২য় পর্যায়ে ৪০টি ঘর, প্রতিটি নির্মাণে ব্যায় হয়েছে ১লাখ ৯০ হাজার টাকা করে মোট ৭৬ লাখ টাকা। এছাড়াও সরকারী বরাদ্দের বাহিরেও ৩টি অতিরিক্ত ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রশাসন ক্যাডার এসোসিয়েশনের পক্ষে সিলেটের জেলা প্রশাসক,গোয়াইনঘাট পরিষদের চেয়ারম্যান ও গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থের যোগান দেয়া হয়েছে। প্রতিটি ঘরে নির্মাণ ব্যায় হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। ১৪ জুন (সোমবার) গোয়াইনঘাট উপজেলায় সরকারি ঘরে বসবাসকারী কয়েকটি পরিবার প্রধানের সাথে কথা বলার জন্য সরেজমিনে পরিদর্শন করেন সিলেট ভিউ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এ প্রতিবেদক। দেখা নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের শিয়ালা হাওর গ্রামের রহিম উদ্দিনের সাথে তিনি জানান
অন্যের ঘরে নিজের জন্ম। সন্তানের জন্মও অন্যের ঘরে। দীর্ঘ ৩০ বছর পর নিজের নামে তিনিই কিনা পেলেন জমির দলিল ও ঘরের কাগজ! তাই উচ্ছ্বাস যেন কমছে না দিন মজুর রহিম উদ্দিনের।

নতুন পাওয়া ঘর ঘুরে ঘুরে দেখিয়ে বললেন, আধা পাকা ঘরটি তাঁর খুব পছন্দ হয়েছে। থাকার কক্ষের সঙ্গে রান্নাঘর। পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থাও ভালো। বিদ্যুৎ আছে। পানি আছে। পরিবার নিয়ে এখন খুব ভালোভাবে থাকতে পারবেন।

দিন মজুর রহিম উদ্দিনের মতোই গোয়াইনঘাট উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে আরো ৯৪২ টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে আধা পাকা ঘর দিয়েছে সরকার। তাসলিমা নামের এক উপকারভোগী বলেন, ‘মোর জায়গা-জমি ছিল না। সরকার ঘর দিছেন, জমি দিছেন। স্বামী-সন্তান নিয়্যা সুখে থাকিম। মুই খুব খুশি হইছোং।’

নতুন নির্মিত ঘরগুলোর উদ্বোধন উপলক্ষে সেগুলো সাজানো হয়েছে নানা রঙের কাগজের মালা দিয়ে। ঘরের দরজার সামনে লাগানো হয়েছে নামফলক।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিলুর রহমান বলেন, স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে মানুষের মৌলিক চাহিদা ও কর্মসংস্থানের বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের দুঃখ-কষ্ট লাঘব হবে বলে আমি আশাবাদী। এছাড়াও চলতি বছরেই গোয়াইনঘাট উপজেলা আরো ৫ শতাধিক ঘর পাবে বলে জানান তিনি।

তথ্যসূত্র: সিলেট ভিউ ২৪
এস সি/১৫ জুন

Back to top button