সিলেট

সিলেট-৩ আসনে শুরুতেই জমজমাট ভোটের আভাস

সিলেট, ১৩ জুন – ‘উপনির্বাচন মানেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিজয়। নৌকা প্রতীক পেলেই সংসদ সদস্য হওয়া নিশ্চিত।’ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন আসনে উপনির্বাচনের ফলাফলে এমন বিশ্বাস স্থাপন হয়েছে জনমনে। এবার উপনির্বাচনে বিএনপির অংশ না নেয়ার ঘোষণা সেই বিশ্বাস আরো জোরালো হয়েছে।

তবে সিলেট-৩ আসনের উপ নির্বাচনে ভিন্ন পরিবেশ দেখছেন স্থানীয়রা। ইভিএমে ভোটগ্রহণ, আওয়ামী লীগের নিরব অন্তর্দ্বন্দ্ব, বিএনপির সাবেক সাংসদের নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা ও আসন পুনরুদ্ধারে জাতীয় পার্টির মরিয়াভাব শুরুতেই জমজমাট ভোটের আভাস দিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন আশাকরছেন নির্বাচনী এলাকার মানুষ।

দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৩ সংসদীয় আসন। এ আসনের টানা তিনবারের সংসদ সদস্য ছিলেন মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস। করোনা আক্রান্ত হয়ে গত ১১ মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করলে আসনটি শূণ্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

এরপর থেকে উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে মাঠে নামেন আওয়ামী লীগের ২৫ নেতা। শেষ পর্যন্ত দল আস্থা রেখেছে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব। হাবিবের মনোনয়ন লাভে মনোনয়নবঞ্চিতদের মাঝে বিরাজ করছে ক্ষোভ। যদিও শাস্তির ভয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে নেতিবাচক কোন মন্তব্য করছেন না কেউ। তবে এই অর্ন্তদ্বন্দ্ব মেটাতে না পারলে শেষ পর্যন্ত দলের একটি অংশ নিরবে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে কাজ করার আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক সচেতনমহল।

তবে হাবিবুর রহমান হাবিব মনে করছেন মনোনয়ন নিয়ে প্রতিযোগিতা থাকলেও দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ নেই। দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে সবাই তার পাশে আছেন। হাবিব জানান, দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি প্রয়াত সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের স্ত্রী ফারজানা সামাদের সাথে দেখা করেছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশী আরও কয়েকজন নেতার সাথে ফোনে কথা বলেছেন। সবাই তার পক্ষে মাঠে নামার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া তিনি মনোনয়ন পাওয়ায় এলাকায় সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনা দেখা দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন হাবিব।

এদিকে, বিএনপি উপনির্বাচন বর্জন করলেও সিলেট-৩ আসনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক সাংসদ শিল্পপতি শফি আহমদ চৌধুরী। নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন। সোমবার সকালে তিনি ঢাকায় পৌঁছার কথা। মঙ্গলবার তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করবেন বলে জানিয়েছেন তার প্রেস সচিব রাজু আহমদ। শফি আহমদ চৌধুরী নির্বাচনে অংশ নিলে তার পক্ষে বিএনপি নেতাকর্মীরা মাঠে নামবে কি-না তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকরা শফি চৌধুরীর পক্ষাবলম্বন করলে নির্বাচন জমে ওঠার সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয়রা।

সিলেট-৩ আসন একসময় জাতীয় পার্টির ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত ছিল। এই আসনে টানা তিনবারের সাংসদ ছিলেন জাতীয় পার্টির এমএ মুকিত খান। মুকিত খানের দল ত্যাগ ও যোগ্য প্রার্থীর অভাবে পরবর্তীতে নির্বাচনে আর ভালো ফলাফল করতে পারেনি জাতীয় পার্টি। তবে এবার দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিক জাতীয় পার্টির নিরব ভোট ব্যাংক সক্রিয় করার কাজে আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছেন। শেষপর্যন্ত জাতীয় পার্টির কর্মী সমর্থক ও ভোটারদের সক্রিয় করা গেলে নিষ্প্রাণ ভোটের মাঠে প্রাণ সঞ্চার করতে পারেন আতিক- এমন ধারণা ভোটারদের।

সূত্র : সিলেটভিউ
এন এ/ ১৩ জুন

Back to top button