দক্ষিণ এশিয়া

ফের চাঙ্গা হচ্ছে কৃষক আন্দোলন

নয়াদিল্লি, ১৩ জুন- করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ভারত। এরই প্রভাব পড়ে কৃষক আন্দোলনে। কয়েক মাস স্তিমিত থাকার পর ফের চাঙ্গা হচ্ছে কৃষকদের আন্দোলন। ভারতজুড়ে ধরনা (ঘেরাও) কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন কৃষকরা। আগামী ২৬ জুন সব গভর্নর ভবনে এ ধরনা পালন করবেন তারা।

এক সংবাদমাধ্যম বলছে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে বিজেপি সরকার ভারতের কৃষি খাত সংস্কারে তিনটি কৃষি আইন করে। সংসদে আইনগুলো পাস করার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, নতুন আইনের মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীদের অত্যাচার থেকে কৃষকরা মুক্তি পাবেন। তবে কৃষকদের দাবি, আইনগুলো তাদের মুক্তির জন্য নয়। এর ফলে তারা আরও বেশি করপোরেট দাসে পরিণত হবেন। কৃষি ধ্বংস করে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাভবান করাই আইনের উদ্দেশ্য। এরপর বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন কৃষকরা। বিগত বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় এ আন্দোলনে রাজধানী দিল্লিতে অচলাবস্থা নেমে আসে। হাজার হাজার কৃষক তাদের ট্রাক্টর, লাঙলসহ বিভিন্ন কৃষি সরঞ্জাম এনে উত্তরাঞ্চলের পাঞ্জাব ও হরিয়ানা প্রদেশে তাঁবু গেড়ে অবস্থান নেন।

সরকার দফায় দফায় আলোচনা করেও কৃষকদের থামাতে পারেনি। সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করে। তবে আন্দোলন চলার মধ্যেই করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ দেখা দিলে আন্দোলনে ভাটা পড়ে। আর সেটিই এখন চাঙ্গা করার উদ্যোগ নিচ্ছেন আয়োজকরা।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সমর্থন পেতে গত বুধবার নবান্নে তার সঙ্গে দেখা করেন কৃষক আন্দোলনের অন্যতম নেতা রাকেশ টিকায়েত। এরপরই গত শুক্রবার কৃষকদের ৪০টি সংগঠনের জোট ‘সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা’ ২৬ জুন দেশজুড়ে গভর্নর ভবনে নতুন ধরনা কর্মসূচির ঘোষণা দেয়।

দীর্ঘ সাত মাস ধরে রাজধানী দিল্লি সীমানায় চলা কৃষক আন্দোলনের নেতারা ওইদিন গভর্নর ভবনগুলোতে অবস্থান নিয়ে কালো পতাকা প্রদর্শন করবেন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দকে স্মারকলিপি দেবেন।

এক সংবাদ সম্মেলনে সিকিম কর্নাটিকারি মঞ্চের সাবেক নেতা ইন্দ্রজিৎ সিং জানান, ২৬ জুন তারা ‘ক্ষেত বাঁচাও, লোকতন্ত্র বাঁচাও’ (কৃষক বাঁচাও, গণতন্ত্র বাঁচাও) দিবস পালন করবেন। আগামী ২৬ জুন কৃষক আন্দোলনের সাত মাস পূর্ণ হবে। ওইদিন সারা দেশের রাজভবনকে (গভর্নর হাউস) কালো পতাকা দেখানো হবে বলে জানান তিনি। ভারতের গভর্নর ভবনগুলো রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধিত্ব করে। এজন্য গভর্নর ভবনের মাধ্যমেই রাষ্ট্রপতিকে স্মারকলিপি দেবেন কৃষকরা।

ইন্দ্রজিৎ সিং বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ২৬ জুন ভারতজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। তবে এখন দেশজুড়ে অঘোষিত জরুরি অবস্থা চলছে। কৃষকদের পাশে থাকা মানুষের মৌলিক অধিকার। কিন্তু আন্দোলনে হামলা চালিয়ে সরকার তার একনায়ক চেহারা প্রকাশ করেছে।’

কৃষক আন্দোলনে শুরু থেকেই সমর্থন দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আগে কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত মুখ্যমন্ত্রী মমতার সঙ্গে দেখা করে বলেছিলেন, কৃষকবিরোধী আইন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তাদের সঙ্গে রয়েছেন। তিনি বিজেপির হাত থেকে বাংলাকে বাঁচিয়েছেন, এবার দেশকে বাঁচাতে হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কৃষক আন্দোলনের শুরুতে সরকার আলোচনায় আগ্রহ দেখায় এবং নানা প্রস্তাব দেয়। তবে প্রস্তাবে সম্মতি না দেখানোয় শক্ত অবস্থানে যায় সরকার। এক পর্যায়ে আন্দোলনে হামলার ঘটনা ঘটে। আইনগুলো নিয়ে সরকার এখনো আগের অবস্থানেই রয়েছে। ফলে নতুন করে এ আন্দোলন কতটা চাঙ্গা হয়, তার ওপর নির্ভর করবে কৃষকদের দাবি পূরণ।

তথ্যসূত্র: দেশ রূপান্তর
এস সি/১৩ জুন

Back to top button