অষ্ট্রেলিয়া

মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ায় কিশওয়ারের চমক

ক্যানবেরা, ১০ জুন – মাছের ঝোল, বেগুন ভর্তা, ফুচকা, ডাল বাঙালিদের প্রিয় খাবারের তালিকায় থাকে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় এসব খাবার অনেক জনপ্রিয়। এসব দেশি খাবারকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচয় করিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত কিশওয়ার চৌধুরী। অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় অনুষ্ঠান মাস্টারশেফ এর ১৩তম সিজনে এসব দেশি খাবার রান্না করে পৌঁছে গেছেন প্রতিযোগিতার শীর্ষ চারে।

কিশওয়ার চৌধুরীর জন্ম হয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়। তার বাবা বাংলাদেশি এবং মা পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার বাসিন্দা ছিলেন। বিয়ের পর তার বাবা-মা মেলবোর্নে স্থায়ী হন।

দুই সন্তানের জননী কিশওয়ার মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার ১৩তম সিজনে যাত্রা শুরু করেন মাছ আর কাঁচা আমের টক রান্না করে। পরে তিনি রান্না করেছেন বাঙালির মুখে জল আনার মতো চিংড়ি ভর্তা থেকে শুরু করে মাছ ভাজা।

প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্বে তিনি রান্না করেছেন খিচুড়ি, বেগুন ভর্তা, ফুচকা, চটপটি, সমুচা, আলুর দম আর তেঁতুলের চাটনি। তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তার রান্না করা মাঝের ঝোল। যা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া তিনি রান্না করেছেন কালা ভুনা, খাসির রেজালাও।

কিশওয়ারের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশি খাবার বিশ্বে তুলে ধরা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, আমি যদি দেশি খাবার রান্না না করি তাহলে এর স্বাদ আমার সঙ্গে হারিয়ে যাবে। আমি সত্যিকার অর্থে চাই আমার সন্তানদের জন্য এই স্বাদ রেখে যেতে।

প্রতিযোগিতায় কিশওয়ারের রান্না সম্পর্কে এক বিচারক বলেছেন, সাধারণ খাবার যে লুকানোর কিছু না, সেটির সাক্ষ্য হলো এটি। এটি সেরা ও বিশ্বজয় করতে পারে।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, দেশি খাবারের পদ রান্নায় তিনি কিছুটা বদল এনেছেন। তবে বিচারকদের কথা মাথায় রেখে নয়।

রান্নার একটি বই লেখা এবং পেশাদার কিচেনে রাঁধুনি হওয়া কিশওয়ারের এখনকার লক্ষ্য। তবে রেস্তোরাঁ চালু করার কোনও পরিকল্পনা এখনও নেই।

উল্লেখ্য, বিশ্বের রান্নাবিষয়ক অন্যতম জনপ্রিয় টেলিভিশন রিয়েলিটি শো মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার ত্রয়োদশ আসরের মূল পর্ব শুরু হয় ২০ এপ্রিল। নর্দার্ন টেরিটরিতে চলছে এই প্রতিযোগিতা।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
এম ইউ/১০ জুন ২০২১

Back to top button